বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

কারসাজিতে বাড়ছে চালের দাম

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৩:০৮

খুলনা মহানগরীর বড় বাজারের একটি চালের দোকান। গতকাল তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ওএমএস কার্যক্রম কোনো কিছুই চালের দামে প্রভাব ফেলছে না। এক শ্রেণির পাইকারি ব্যবসায়ীর কারসাজির কারণে খুলনায় ধান ও চালের দাম কমছে না। তাদের কারণে চালের দাম বেড়েই চলেছে। এদিকে আমদানির মাধ্যমে বাজারে পর্যাপ্ত চাল সরবরাহ করে দাম নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

খুলনার বাজারগুলোতে মোটা চাল কেজি প্রতি কখনো ৪২ টাকা, কখনো ৪৫ টাকা, চিকন কখনো ৫৯ টাকা, আবার কখনো ৬২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুলনায় ধান-চালের দামের ঊর্ধ্বগতি কারণ জানতে খাদ্য মন্ত্রণালয় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পুলক কুমার ও সদস্যসচিব মো: বাবুল হোসেন মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন শেষে কমিটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ কমিটির সদস্যরা তথ্য উপস্থাপন করেন, ডুমুরিয়া ও লবণচরার মিলগুলোতে অস্বাভাবিক কোনো মজুদ নেই।

নগরীর ৩১ নং ওয়ার্ডের লবণচরা এলাকার কাজী সোবহান অটো মিলের ২০ হাজার কেজি ধান ও ১৮ মেট্রিক টন চাল মজুদ দেখতে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বয়রা অটো রাইচ মিলে কোনো চাল মজুদ নেই বলে সভাকে অবহিত করা হয়। বয়রা অটো রাইচ মিলের মালিক কমিটিকে জানান, দক্ষিণাঞ্চলে মোটা ধানের আবাদ কমে গেছে। আমন আবাদের জমিতে চিংড়ি, আবাসিক ভবন ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। ফলে এখানে কাঙ্ক্ষিত ধান উৎপাদন হচ্ছে না। মহামারি করোনার কারণে পরিবহন সংকট দেখা দেওয়ায় চালের দাম বেড়ে যায়।

স্থানীয় মিল মালিকেরা কমিটিকে অবহিত করেন, আমন মৌসুমের প্রথম দিকে প্রতি মণ ধান ৮০০ থেকে ৮ ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও গত মাসে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এই সূত্র বলেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয় খুলনায় তিনজনকে ভারত থেকে চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে।

অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে স্থানীয় লোয়ার যশোর রোডের ইয়ান ইন্টারন্যাশনাল, লবণচরা খাল পাড়ের কাজী সোবাহান ট্রেডিং করপোরেশন ও সাউথ সার্কুলার রোডের মেসার্স কাজী এন্টারপ্রাইজ। এ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ভারত থেকে সিদ্ধ নন এমন বাসমতি চাল ও আতপ চাল আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনটি প্রতিষ্ঠান ৪২ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এ কমিটি আমদানির মাধ্যমে বাজারে পর্যাপ্ত চাল আনার সুপারিশ করেছে।

এদিকে ধান ও চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ হোসেন বলেন, এমনিতে এই সময়ে ধান সরবরাহ কম থাকে। তা ছাড়া মাঠ পর্যায়ের কৃষকেরাও এই সময়ে বাজারে ধান বিক্রি করতে চান না। যে কারণে সরবরাহ কমে গেছে। এতে দামও চড়া। তবে দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অপরদিকে জেলা বাজার কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার বলেন, আরও দুই মাস পর নতুন ধান আসবে। যে কারণে এই সময় একটু দাম বেশি। এ ছাড়া কিছু পাইকারি অসাধু ব্যবসায়ীতো রয়েছেই। তারা সব সমই সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। তাদের কারসাজিতেই কমছে না দাম।

এদিকে খুলনার ১০টি সরকারি খাদ্য গুদামে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৯৬ হাজার মেট্রিক টন চাল মজুদ রয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে আনা চালের মধ্যে স্থানীয় বাজারগুলোতে এ পর্যন্ত চালের মজুদ ৩১ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন।

অপরদিকে দাম বৃদ্ধি হলেও যাতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে না পড়েন যে জন্য সেপ্টেম্বর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে খাদ্যবন্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রি হচ্ছে। জেলায় ৮৩ হাজার ৭৭৫ জনের কাছে এ চাল বিক্রি করা হচ্ছে। এই জন্য ডিলার রয়েছেন ১৭৩ জন। এ ছাড়া মহানগরীতে ২০টি স্থানে প্রতিদিন ৩০ টাকা কেজিতে ওএমএসের চাল বিক্রি হচ্ছে। ডিলার প্রতি বরাদ্দ দেড় টন।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    সেনবাগে নৌকার ৬ মাঝি

    খালে আবর্জনার স্তূপ ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

    চট্টগ্রাম বিভাগে দ্বিতীয় চাটখিল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

    ‘অপমানে’ সরাসরি অনুষ্ঠানে থেকে শোয়েবের পদত্যাগ 

    প্রতারণা ছেড়ে বাবলি এবার ফ্যাশন ডিজাইনার

    ফেসবুকে জনপ্রিয় বা ভাইরাল হওয়াই সব নয়

    সজল-মাহির দ্বিতীয় ছবি ড্রাইভার

    শহরে আবার আসছে রকফেস্ট

    অচলাবস্থায় পড়ে আছে ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি