বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

মেজর সিনহা মামলা

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৫:১০

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩২ নম্বর সাক্ষী সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান হাসান। গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে তিনি ঘটনার পরবর্তী বিবরণ তুলে ধরেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান হাসান আদালতকে বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি রামু সেনানিবাসে ছিলাম। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ আমাকে ফোন করে জানান, একজন ভুয়া মেজর নিহত হয়েছেন। এ সংবাদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কমান্ডারকে জানিয়ে দুই সহকারী নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। এর মধ্যে জানতে পারি একটি মিনি ট্রাকে করে মেজর সিনহার লাশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তখন হাসপাতালের দিকে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি মেজর সিনহাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। রাত দেড়টায় মর্গে গিয়ে আমি মেজর সিনহার লাশ শনাক্ত করি। তিনি আমার পূর্ব পরিচিত এবং আমার কোর্সমেট ছিলেন।’

গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় পঞ্চম দফায় শেষ দিনের আদালতের কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ সময় ওসি প্রদীপসহ ১৫ আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। সেনা কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের সময় ওসি প্রদীপকে খুবই বিমর্ষ দেখাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন একাধিক আইনজীবী।

সেনা কর্মকর্তা ছাড়া গতকাল এসআই সোহেল সিকদার, এএসআই নজরুল ও কনস্টেবল শুভ পাল সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর মধ্যাহ্ন বিরতির সময় আগামী ২৫,২৬ ও ২৭ অক্টোবর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করে কার্যক্রম শেষ করেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম জানান, আদালতে মঙ্গলবার ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য উপস্থিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু আসামি পক্ষের আইনজীবীদের অনীহার কারণে চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া আসামিপক্ষ কালক্ষেপণের জন্য মামলার দুই নম্বর সাক্ষী সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে পুনরায় হাজির করার আবেদন করেছেন।

ফরিদুল আলম আরও বলেন, এ মামলায় মোট সাক্ষী ৮৩ জন। এ পর্যন্ত মামলার বাদী সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসসহ ৩৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে আদালত এ মামলায় ৫৯ জন সাক্ষীকে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য সমন জারি করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ জুলাই কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের পর র‍্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে মামলার ১৫ আসামি কারাগারে রয়েছে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    ছয় মাস পর মৃত্যুশূন্য করোনা ইউনিট

    নগরীতে হঠাৎ বেড়েছে চুরি, গুরুত্ব পুলিশের

    ফিশারি পাড়ের সড়ক খাল

    চারঘাটে ট্রেন ও নসিমন সংঘর্ষ 

    অবশেষে জামিন পেলেন আরিয়ান খান

    পটিয়ার ইউনুস হত্যা মামলার ৩ আসামি আটক

    পশ্চিম তীরে ৩ হাজার বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিল ইসরায়েল

    ব্যবসায়িক স্বার্থে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ে, শ্রমিকদের বেতন বাড়ে না: নজরুল ইসলাম খান

    চাকরির জন্য যৌতুকের টাকা না দেওয়া অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর