বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

তহবিলে কোটি টাকা কাজই শুরু হয়নি

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৬:৪১

মানিকগঞ্জের ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য তিন বছর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমপরিমাণ টাকা চাঁদা তুলে তহবিল গঠন করা হয়। তবে তহবিলে প্রায় কোটি টাকা থাকলেও দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের অবহেলায় এখনো ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়নি, যেখানে অন্য সব জেলায় একই পুনর্বাসন কাজ প্রায় শেষের দিকে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে না চাইলেও এতদিনে ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে চাঁদা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে।

মানিকগঞ্জ সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলাসহ জেলার সাতটি উপজেলায় এক হাজারের বেশি ভিক্ষুক রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের পঙ্গু স্বামী, স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে।

অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে তাঁরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। সদর উপজেলার দিঘি গ্রামের ৮৮ বছর বয়সী বৃদ্ধা বছিরন বেওয়া ও তাঁর মেয়ে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা রুপবান বেওয়া। স্বামী না থাকায় চার যুগের বেশি সময় ধরে তাঁরা দুজনে ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত। হতদরিদ্র মা-মেয়ে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে এখনো ভিক্ষা করছে। সারা দিন যা আয় হচ্ছে তা দিয়ে কোনো রকমে চলছে তাঁদের সংসার।

বছিরন বেওয়ার মতো দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা করছেন মুলজান এলাকার মন্টু খাঁ। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে তাঁরা আর ভিক্ষা করবেন না বলে অনেকেই জানান।

জানা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে ২০১৮ সালের শুরুতে তৎকালীন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌসকে নির্দেশে দেন। পরে তৎকালীন জেলা প্রশাসককে সভাপতি এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালককে সদস্যসচিব করে ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির তহবিলে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ১৮ লাখ টাকা এবং জেলার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর একদিনের বেতনের সমপরিমাণ ৬৭ লাখ ৯০ হাজার ৩৫ টাকা চাঁদা তুলে জমা রাখা হয়। জমাকৃত ওই টাকা দিয়ে জেলার হতদরিদ্র ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান করে দেওয়ার কথা থাকলেও গত তিন বছরে তা শুরু করতে পারেনি।

মানিকগঞ্জ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাছুদুল হক বলেন, ‘শুধু সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় সরকারের কল্যাণমুখী কার্যক্রমটি ব্যর্থ হতে বসেছে।’ সরকারের মহান কল্যাণমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটি সদস্যদের দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানান তিনি।

এদিকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এবং ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব জোয়ারদার মোহাম্মদ মহিউদ্দীন বলেছেন বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর জানা নেই। তবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ১৮ লাখ টাকা দেওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেন। এত দিনে কল্যাণমুখী ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু না হওয়াকে দুঃখজনক বলেন তিনি।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এবং ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, ‘মানিকগঞ্জ ছাড়া অন্য সব জেলায় সরকারি নির্দেশমতে ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ হয়ে গেছে। মানিকগঞ্জ জেলায় এই কার্যক্রম এত দিনে শুরু না হওয়াটা দুঃখজনক।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি সদরের ইউএনওকে নির্দেশ দিয়েছি খুব দ্রুত ভিক্ষুকদের তালিকা তৈরি করে পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের কাজ শুরু করতে। আশা রাখি খুব শিগগির সরকারের কল্যাণমুখী কাজ শুরু হবে।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    ১৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা

    বিলপাড়ার সুস্বাদু চমচম

    ঘাটাইলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হোটেলে ট্রাক, আহত ২

    ভেড়ামারায় গৃহবধূর ধর্ষণ মামলায় ‘মামা শ্বশুর’ গ্রেপ্তার

    বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

    নিখোঁজ নয় পরিকল্পিত আত্মগোপনের নাটক করেছিলেন ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী

    কলিন পাওয়েল বিশ্বাসঘাতক: ট্রাম্প

    টেক্সাসে উড্ডয়নের পরই উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত

    নৌকার এমপি হয়ে লাভবান হয়েছেন: শাহজাহানকে জেলা আ. লীগ সভাপতি