বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

দালাল ছাড়া মেলে না সেবা

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৬:৩৫

নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যার হাসপাতালে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনেরা। তাঁদের অভিযোগ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবাকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে এক দালাল চক্র। দালালদের কাছে ধরনা দেওয়া ছাড়া মেলে না কোনো সেবাই। কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবলসংকটের কারণেই এমনটা ঘটছে। তাঁরাও দালাল চক্রের কাছে অসহায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বহির্বিভাগে ২০ টাকার টিকিট কিনে লম্বা সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন রোগীরা। কিছু রোগীকে ১০০–২০০ টাকা ঘুষের মাধ্যমে লাইন ভেঙে আগে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তাব করছেন হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী। আবার ডাক্তার দেখানোর পর আরেক ভোগান্তি। ডাক্তারের রুম থেকে বের হলেই সেই রোগীকে নিয়ে টানাটানি করছেন বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিকের দালালেরা। বহির্বিভাগের রোগী ও ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য চলে প্রতিযোগিতা। এর বাইরে রোগীদের সঙ্গে হাসপাতালের দারোয়ান ও কর্মচারীদের অশোভন আচরণ তো আছেই।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের কয়েকজন বলেন, দালাল চক্রের সঙ্গে কিছু চিকিৎসক ও কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে। হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যেই গজিয়ে উঠেছে নানা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। দালাল চক্রের সদস্যরা এসব ক্লিনিকে কমিশনের বিনিময়ে হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যান। এ ছাড়া হাসপাতালে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ব্যবস্থা থাকলেও শুধু কমিশন পাওয়ার আশায় চিকিৎসকেরা ব্যবস্থাপত্রে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার জন্য লিখে দেন। ওষুধ কেনার ক্ষেত্রেও ঘটে একই ঘটনা। হাসপাতাল–ঘেঁষা ওষুধের দোকানগুলো থেকে ওষুধ কেনায় উৎসাহিত করার জন্য হাসপাতালে ওষুধ নেই বলে প্রচার চালানো হয়। অন্যদিকে হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারে বাধ্য করতে রোগীদের বলা হয়, সরকারিগুলো নষ্ট বা অন্য জায়গায় গেছে। প্যাথলজি বিভাগে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হয় না প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে। বিএসএস, ইলেকট্রোলাইট, হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হয়।

নগরীর শিবুমার্কেট থেকে আসা জাহিদ হাসান অভিযোগ করে বলেন, ডাক্তারদের সঙ্গে দালালচক্রের সদস্যরা যোগাযোগ করেই এসব কাজ করছেন। তাঁরা নিয়মিত ডাক্তারদের কক্ষে ও বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে রোগীদের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠান।

সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাশার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দালালদের বিরুদ্ধে আমরা একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু কোনো সুফল পাইনি। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও এ নিয়ে সহযোগিতা চেয়েছি। আশা করছি, এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব।’

জনবলসংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘আমাদের এখানে যতগুলো পদ রয়েছে তার বেশির ভাগই শূন্য রয়েছে। প্যাথলজি বিভাগে পাঁচটি পদের চারটি পদই খালি। জনবলসংকটের কারণেই দালালেরা সুযোগ পাচ্ছে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    সেনবাগে নৌকার ৬ মাঝি

    খালে আবর্জনার স্তূপ ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

    চট্টগ্রাম বিভাগে দ্বিতীয় চাটখিল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

    অচলাবস্থায় পড়ে আছে ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি  

    বাংলাদেশকে ‘বিপজ্জনক’ বলছেন বাটলার 

    আগৈলঝাড়ায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ 

    ভারতীয় সীমান্ত থেকে বাংলাদেশি যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার 

    ভর্তিচ্ছুদের জন্য পটিয়া থেকে চবি ক্যাম্পাসে ফ্রি বাস সার্ভিস

    প্রতিপক্ষ কে তা না ভেবে স্বাভাবিক খেলাটা খেলুক