মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

ফেসবুক পেজেই এক শ কিডনি কেনাবেচা

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৬:৪২

কিডনি কেনাবেচার অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচ ব্যক্তি। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে। ছবি: আজকের পত্রিকা ‘একজন মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে জরুরি বি-পজিটিভ কিডনিদাতা প্রয়োজন। পাসপোর্টসহ কেউ থাকলে ইনবক্সে আসুন।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘কিডনি লিভার চিকিৎসা সেবা’ নামের একটি পেজে ৩ অক্টোবর এমনই একটি পোস্ট ছিল। যেখানে সব উত্তরদাতাকেই ইনবক্সে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

বাংলাদেশ কিডনি ও লিভার পেশেন্ট চিকিৎসা সেবা নামের আরেকটি পেজেও আছে একই ধরনের পোস্ট। গত ২১ সেপ্টেম্বর তাদের সর্বশেষ পোস্টে কিডনিদাতাকে সম্মানী দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। এই চক্রটি এ পর্যন্ত এক শর মতো মানুষের কাছে কিডনি কেনাবেচা করেছে। তবে তারা আইনের হাত থেকে বাঁচার জন্য টাকাপয়সা লেনদেনের রসিদ রাখত না।

দুটো পেজই চালাতেন একজন ব্যক্তি। তাঁর নাম শাহরিয়ার ইমরান (৩৬)। ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি কিডনি কেনাবেচার চক্র গড়ে তুলেছিলেন। র‍্যাবের একটি দল ঢাকা ও জয়পুরহাটে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের প্রধান ইমরানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। এরা হলেন মেহেদি হাসান (২৪), সাইফুল ইসলাম (২৮), আবদুল মান্নান (৪৫) ও তাজুল ইসলাম (৩৮)। তাঁদের কাছ থেকে ৪টি পাসপোর্ট, ৫টি মোবাইল

ও ভারতীয় রুপি উদ্ধার করা হয়।

কিডনি চক্র নিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় র‍্যাবের কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে। র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, এই চক্রটির বিভিন্ন দেশে সহযোগী আছে। তাঁরা কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য রোগী ও তাঁর স্বজনদের কাছ থেকে ১৫-২০ লাখ টাকা করে নেন। এর মধ্যে কিডনিদাতাকে তিন থেকে চার লাখ টাকা দেওয়ার লোভ দেখান। তাৎক্ষণিকভাবে দুই লাখ টাকা দিয়েও দেন।

র‍্যাবের পরিচালক বলেন, এ কাজের জন্য চক্রের হোতা শাহরিয়ার ইমরান পেতেন ৫-১০ লাখ টাকা। আর মান্নান ও তাজুল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দাতা সংগ্রহ করার জন্য পেতেন ৩-৫ লাখ টাকা। সাইফুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান কিডনিদাতার বিদেশ যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা করে দিতেন। তিনি পেতেন ২০ হাজার টাকা।

কমান্ডার মঈন জানান, এই চক্রে দেশজুড়ে ২০ সদস্য রয়েছেন। তাঁরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করতেন। প্রথম দল ঢাকায় অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিত্তশালী কিডনি রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। দ্বিতীয় দলটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গরিব ও অভাবী মানুষকে অর্থের প্রলোভন দিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসত। তৃতীয় দলটি দাতাকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে রক্ত ক্রস ম্যাচিং করত। এসব কাজ শেষে দুই পক্ষকেই নিরাপদ স্থান হিসেবে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠানো হতো।

খন্দকার আল মঈন বলেন, এই চক্রের মূল হোতা শাহরিয়ার ইমরান পার্শ্ববর্তী দেশে একটি চক্র গড়ে তোলেন। পরে তাঁদের সহযোগিতায় কিডনিদাতাদের পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠানো হতো।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক পুকুরে

    টাঙ্গাইলে অপরাধ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

    সখীপুরে নিত্যসঙ্গী যানজট

    এই অসুরকে বধ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

    ঢাবিতে সাম্প্রদায়িক হামলার বিরুদ্ধে মশাল মিছিল 

    মহেশখালীতে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

    খেয়াঘাটে দুই বোনকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

    পূজামণ্ডপ সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় গ্রেপ্তার ৪৫০, মামলা ৭১

    সাফারি পার্কে জেব্রা পরিবারে নতুন শাবকের জন্ম