বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

মায়ের মৃত্যুর কারণ গোপন করেছিলেন মেয়ে

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:৪৭

সবাই জানেন শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে মারা গেছেন স্বপ্না বিবি (৪২)। আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁর দাফন হওয়ার কথা, এ কারণে গতকাল সোমবার কাফনের কাপড় পরিয়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীরা জড়ো হয়েছিলেন। রাতে হঠাৎ পুলিশ এসে জানায়, এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, তাঁর গলায় রশির দাগ রয়েছে। একপর্যায়ে ওই নারীর বড় মেয়ে স্বীকার করেন, তাঁর মা রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। 

এ ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে স্বপ্নার স্বামী একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। অবশেষে দুপুরে দাফনের বদলে পোস্টমর্টেমের জন্য মরদেহ নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। 

কীভাবে মারা গেলেন স্বপ্না বিবি-এ নিয়ে তাঁর আত্মীয়স্বজন, এলাকার মানুষের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। 

ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের নগর পাঁচুপুর সিকদার পাড়া গ্রামে। স্বপ্না বিবি ওই গ্রামের মমতাজ উদ্দীনের স্ত্রী। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বপ্নার স্বামী মমতাজ উদ্দীন দীর্ঘ দিন ধরে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাঁদের দুই মেয়ে। দুজনেরই বিয়ে দিয়েছেন। স্বপ্নাও স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন। গত প্রায় এক বছর বাড়িতে একাই থাকতেন। সোমবার দুপুরের দিকে স্বপ্না বিবির মারা যাওয়ার খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। নানা রোগব্যাধি থাকায় অসুস্থতার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে সবাই ভেবেছিলেন। সে অনুযায়ী বিকেলে তাঁকে গোসলের পর কাফন পরিয়ে দাফনের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় দাফনের খবর দিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে স্বামী মমতাজ রাতেই ঢাকা থেকে ফেরেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকেই স্বপ্নার মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। রাত ১০টা নাগাদ পুলিশ এসে জানায়, স্বপ্নার গলায় রশির দাগ রয়েছে। 

স্বপ্নার বড় মেয়ে কাকলি আক্তার বলেন, গত শনিবার মাকে দেখতে আসেন তিনি। সোমবার দুপুরে সদ্য নির্মিত ইটের ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন মাকে। দেখার পরপরই মরদেহ নামিয়ে ফেলেন এবং বিষয়টি সবার কাছে গোপন করেন। উপরি ব্যারাম (জিনের আছর) থাকার কারণে গলায় দড়ি দিয়ে মা আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে কেন সে তথ্য গোপন করেছিলেন সে বিষয়ে কিছু বলেননি কাকলি।

স্বপ্নার স্বামী মমতাজ বলেন, সোমবার বিকেল ৩টা নাগাদ ফোনে স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে রাতেই ঢাকা থেকে রওনা দেন। কিন্তু স্বপ্না গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এমনটা কেউ তাঁকে বলেনি। পরে পুলিশ এসে বলে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। 

স্বপ্নার ছোট ভাই সাদেকুল ইসলাম লিটন বলেন, বোনের মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতেই চলে এসেছি। কিন্তু কোনো ভাবেই জানতে পারিনি বোনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। রাতে পুলিশ এলে জানতে পারি স্বপ্নার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। 

প্রতিবেশী রওশন আরা জানান, স্বপ্না ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। রোগের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করেছিলেন। 

রাণীনগর থানার ওসি শাহিন আকন্দ বলেন, অস্বাভাবিক মৃত্যুটাকে আড়াল করে মরদেহ দাফনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর নিহতের স্বামী একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মৃতদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    বনানীতে ভবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে

    ফেরিটি হেলে গেছে, ডুবে যায়নি: নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

    ভারতীয় সীমান্ত থেকে বাংলাদেশি যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার 

    ভর্তিচ্ছুদের জন্য পটিয়া থেকে চবি ক্যাম্পাসে ফ্রি বাস সার্ভিস

    ইউপি চেয়ারম্যানে অসন্তোষ, মনোনয়নপ্রত্যাশী উপজেলা আ.লীগ সভাপতিসহ ৫ জন

    রামেকে করোনার উপসর্গে দুজনের মৃত্যু

    নয়াপল্টনে সংঘর্ষে বিএনপি নেতা কর্মীর নামে মামলা 

    প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবে সেনাবাহিনী: প্রধানমন্ত্রী

    বনানীতে ভবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে

    চাটখিলে বয়লার মুরগির দাম বৃদ্ধি, বিপাকে ক্রেতারা 

    গৃহযুদ্ধ এড়াতেই সুদানের সেনা অভ্যুত্থান: জেনারেল বুরহান 

    বিশ্বে এক দিনের ব্যবধানে মৃত্যু বাড়ল ২ হাজার, শনাক্ত ৪ লাখের বেশি