বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

পলি জমে নদী এখন সরু খাল

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২১, ১৩:৪৭

পলি জমে ভরাট হচ্ছে পাইকগাছার শিবসা নদী। গতকাল শিবসা ব্রিজ এলাকা থেকে তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা পাইকগাছা পৌরসভার কোলঘেঁষে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা শিবসা নদী পলি জমে এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায় সামান্য জলোচ্ছ্বাস বা জোয়ারের পানি বাড়লে পৌর সদরসহ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। নদীর পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে কাঁচা ঘরবাড়ি, ফসলাদি নষ্ট হয়। এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে নদী খননে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নদীবিধৌত অঞ্চলে বসবাসকারীরা।

পাইকগাছা পৌরসভা, গদাইপুর, লতা, সোলাদানা, দেলুটি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে খরস্রোতা শিবসা নদী। এ নদীটি পলি জমে এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। কয়েক বছর আগেও নদী দিয়ে লঞ্চ ও স্টিমার চলত। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের খুলনা শহরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল নদীপথ। ব্যবসায়ীরা কম খরচে নৌকায় মালামাল আনত জেলা শহর থেকে।

পৌর সদরের পাইকারি ব্যবসায়ী পীযূষ সাধু বলেন, নদীপথ বন্ধ হওয়ায় ট্রাকে করে মাল আনতে খরচ বেশি হচ্ছে। পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় পানি বাড়লে নৌকায় মালামাল আনা যায়। কিন্তু পানি না বাড়লে মালবাহী নৌকা তীরে আসে না। সময়মতো মালামাল ওঠানামা করা যায় না। মালের বিশেষ প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে নামাতে হয়।

সোলাদানা ইউনিয়নের ভিলেজ পাইকগাছা গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, পৌরসভার তিন দিকে ছিল ৩টি খেয়াঘাট। হাজার হাজার যাত্রী পারাপার হতো খেয়া নৌকায়। কিন্তু কালের বিবর্তনে নদীটি পলি জমে একেবারেই ভরাট হতে চলেছে। বর্তমানে লঞ্চ, স্টিমার দূরের কথা নৌকাও চালাতে পারছে না। খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৩ কিলোমিটার ঘুরে বাড়ি যেতে হয়।

গদাইপুর ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, শিবসা নদী ভরাট হওয়ায় গদাইপুর ইউনিয়নের পানি নামতে পারছে না। সে কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পানিতে ডুবে আমন ধানসহ গাছপালা মারা যাচ্ছে। দেলুটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রিপন কুমার মণ্ডল বলেন, আমার ইউনিয়নটি দ্বীপবেষ্টিত। একদিকে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। অন্যদিকে, পানি বাড়লে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়াপদা ভেঙে পানি প্রবেশ করে।

জানতে চাইলে পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, আগামী দিনে পৌরসভাসহ শিবসার পাশের ইউনিয়নকে বাঁচাতে হলে নদী খনন জরুরি হয়ে পড়েছে। খুলনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, ৩১ নম্বর পোল্ডার খনন করা হবে। শিববাটি ব্রিজ হতে সোলাদানা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার নদী পোল্ডারের আওতায় রয়েছে। আমরা কাগজপত্র তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখনো প্ল্যানিং কমিশনে রয়েছে। সেখান থেকে একনেক বৈঠকে পাস হওয়ার পর টাকা বরাদ্দ হবে। তখনই কাজ শুরু হবে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    ১৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা

    বিলপাড়ার সুস্বাদু চমচম

    ঘাটাইলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হোটেলে ট্রাক, আহত ২

    ‘নতুন ধরনের’ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুঁড়ল উত্তর কোরিয়া 

    ভেড়ামারায় গৃহবধূর ধর্ষণ মামলায় ‘মামা শ্বশুর’ গ্রেপ্তার

    বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

    নিখোঁজ নয় পরিকল্পিত আত্মগোপনের নাটক করেছিলেন ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী

    কলিন পাওয়েল বিশ্বাসঘাতক: ট্রাম্প

    টেক্সাসে উড্ডয়নের পরই উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত