রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

মির্জাপুর শাহি মসজিদ

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪২

কালের সাক্ষী হয়ে পঞ্চগড়ে দাঁড়িয়ে আছে মির্জাপুর শাহি মসজিদ। ছবি: আজকের পত্রিকা পঞ্চগড়ের মির্জাপুর শাহি মসজিদটি মোগল আমলে তৈরি হয়েছিল। যদি কেউ এখানে আসেন, তাহলে ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি না দেখে ফিরে গেলে তাঁর পঞ্চগড় ভ্রমণটাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। দেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী এই জেলায় অবস্থিত প্রাচীন মসজিদটি দেখতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভিড় জমাচ্ছে পর্যটকেরা।

মসজিদটি কবে নির্মিত হয়েছে, তা কেউ জানে না। জন্ম ইতিহাসের সবটাই অনুমান। বেশ কিছু অনুমানের ওপর বলা যায়, মসজিদটি ষোড়শ শতকের শেষের দিকে নির্মিত। আবার কেউ কেউ মনে করেন মসজিদটির জন্মসাল ১৬৭৯ খ্রিষ্টাব্দ। কেন তা মনে করেন, তার কারণ হিসেবে বলেন, মির্জাপুর শাহি মসজিদটির সঙ্গে ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত মসজিদটির শৈলীর সাদৃশ্য আছে। এ থেকে ধারণা করা হয়, এ দুটি মসজিদ সমসাময়িক কালে নির্মিত। তবে মসজিদের দেয়াল থেকে উদ্ধার হয়েছে কিছু শিলালিপি, যা থেকে অনুমান করা হয়, ১৬৫৬ সালের দিকে নির্মাণ করা হয়েছে মসজিদটি। ভারতের সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজার শাসনামলে শাহি মসজিদের নির্মাণকাজ করা হয়েছে বলেও মনে করা হয়। মির্জাপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মালিক উদ্দিন শাহি মসজিদ নির্মাণের কাজটি করলেও দোস্ত মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি এই মসজিদের নির্মাণকাজ সমাপ্ত করেন বলে জনশ্রুতি আছে।

তিন গম্বুজবিশিষ্ট মির্জাপুর শাহি মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট ও প্রস্থ ২৫ ফুট। মসজিদের মধ্যবর্তী দরজার উপরিভাগে নির্মাণ সম্পর্কে ফারসি ভাষায় লিখিত একটি ফলক রয়েছে। সেই ফলকের ভাষা ও লিপি থেকে ধারণা করা হয়, মোগল সম্রাট শাহ আলমের রাজত্বকালে এই মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া মোগল স্থাপত্যরীতির বৈশিষ্ট্যে ভরপুর সুসজ্জিত মির্জাপুর শাহি মসজিদের গম্বুজের শীর্ষবিন্দু ক্রমহ্রাসমান বেল্ট দ্বারা যুক্ত।

মসজিদের দেয়ালে টেরাকোটা ফুল ও লতাপাতার বিভিন্ন খোদাই করা নকশা আছে, যা সহজেই আকৃষ্ট করে পর্যটকদের। দেয়ালে যে সারি সারি নকশা আছে, সেগুলোর একটির সঙ্গে অন্যটির মিল পাওয়া যায় না। রয়েছে চার কোণে চারটি মিনার। সামনের দেয়ালের দরজার দুই পাশে গম্বুজের সঙ্গে মিল রেখে দুটি মিনার দৃশ্যমান। মসজিদের দেয়ালে ব্যবহার করা ইটগুলো চিকন, রক্তবর্ণ ও অলংকৃত এবং দেয়ালের চারপাশ ইসলামি ডোরাকাটা ফুল ও লতাপাতার নকশায় পরিপূর্ণ। মসজিদের মধ্যবর্তী দরজায় ফারসিলিপিখচিত মুদ্রার কালো ফলক, ফলকের লিপি ও ভাষা থেকে অনুমান করা যায়, মসজিদটি মোগল সম্রাট শাহ আলমের শাসনামলে নির্মিত হয়েছে।

অনেক দিন আগে প্রবল এক ভূমিকম্পে মসজিদটির বেশ কিছু অংশ ভেঙে যায়। তখন মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা মালিক উদ্দিন মসজিদের পুনঃসংস্কারের জন্য সুদূর ইরান থেকে কারিগর নিয়ে আসেন। এরপর থেকে আর কোনো প্রকার সংস্কারের কাজ হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু তাহের মো. শামসুজ্জামান বলেন, আটোয়ারীর মির্জাপুর শাহি মসজিদ একটি প্রাচীন নিদর্শন। পঞ্চগড় জেলার যেসব দর্শনীয় স্থান রয়েছে, তার মধ্যে এটি একটি। মসজিদের নিরাপত্তা ও পবিত্রতা রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে।

মসজিদটির কাছে এলে ইতিহাসের ছোঁয়া পাওয়া যায়। তার আকর্ষণেই আসে পর্যটক।  

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    দিনাজপুরে বজ্রপাতে শিশুসহ মৃত্যু ২

    প্রেমিকাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুই যুবক গ্রেপ্তার

    নেতা-কর্মীদের প্রতিবাদের মুখে বদলে গেল পীরগাছায় নৌকার প্রার্থী

    গ্রামের নাম ইকরচালী

    অপহরণের ১৮ দিন পর কিশোরীর লাশ উদ্ধার, জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

    নৈশপ্রহরীর বাড়িতে ভারত থেকে আমদানি করা পাথর

    বিজ্ঞাপন ছাড়া সম্প্রচারে ফিরলো স্টার জলসাও

    অভিজ্ঞতা ছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকে চাকরি

    রাশিয়াতে করোনায় একদিনে ৯৯৭ জনের মৃত্যু

    বৃদ্ধার লাশ দাফনের মুহূর্তে মৌমাছির হানা

    দুই যুগ পর মঞ্চে আফজাল হোসেন

    দোয়েলের চন্দ্রাবতী হয়ে ওঠা