বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

কয়েক ছত্র

মধুর জীবন!

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২১, ১০:০০

মধুময় জীবন সত্যি যদিও মধুর খোঁজে বাড়ি ছেড়ে থাকতে হয় বহুদিন। ছবি: লেখক কখনো একেবারে অন্যদিকে যায় মন। ভরদুপুর। সকালের হাট ভেঙে সবকিছু স্তব্ধ। দোকানিরাও একটি-দুটি ঝাঁপ ফেলে দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন দোকান গোটানোর। স্তব্ধ হাটে হঠাৎ প্রাণ ফিরিয়ে আনলেন দুজন আগন্তুক। দুলাল আর সোহাগ। প্রথমজনের বয়স পঞ্চাশ, পরের জনের ত্রিশ। হাতে দুটি লাল বালতি ভরা মধু। সোহাগের দুই হাতে সবেমাত্র আগুন নেভানো শুকনো খড়। খড় থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে অল্প অল্প। তাঁরা যে ধোঁয়া দিয়ে একটু আগে মৌচাক থেকে মৌমাছি তাড়িয়ে মধু সংগ্রহ করে এনেছেন, সে ধোঁয়াই এখন ফাঁকা হাটের বিভিন্ন ‘খোপের’ ভেতর থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে এনেছে মধুর কাছাকাছি। বরই ফুলের মধু। ৩ অক্টোবর, রোববার সকালে সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের দুটি বাড়ি থেকে দুটি মৌচাক ভেঙে স্থানীয় মুন্সিরহাটে বিক্রি করতে নিয়ে এসেছেন তাঁরা।

দুলাল ও তাঁর শিষ্য সোহাগের বাড়ি সুদূর ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সাগর পাড়ি দিয়ে বছরে দুবার সন্দ্বীপে আসেন তাঁরা। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে পাওয়া যায় বিষকাঠালি ফুলের মধু। কার্তিক- অগ্রহায়ণ মাসে পাওয়া যায় বরই ও বিভিন্ন কাঠ গাছের ফুলের মধু। স্থানীয় বাজারগুলোতে এ সময় ঘর ভাড়া করে থাকেন গুরু-শিষ্য। ২৬ বছর ধরে এ পেশায় আছেন দুলাল। সোহাগ যোগ দিয়েছেন বেশি দিন হয়নি।

 আয়-রোজগার কেমন হয়—জানতে চাইলে দুলাল বলেন, ‘বরই ফুলের মধু এক কেজি আট শ থেকে  এক হাজার টাকায় বিক্রি করি। গাছভেদে একটি গাছ থেকে ৪-৮ কেজি মধু পাওয়া যায়। যার গাছে মৌমাছি বাসা বানায়, সে পায় দুই ভাগের এক ভাগ মধু। বাকি দুই ভাগ আমাদের। এক মৌসুমে প্রায় ২-৩ লাখ টাকার মতো মধু বিক্রি হয়।’

জটলার ভেতর সাধ্যমতো মধু কিনে নিচ্ছিলেন অনেকেই। তাঁদেরই একজন  স্থানীয় স্কুলশিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, বাজারে অনেক ধরনের মধু কিনতে পাওয়া যায়। ওসব মধু খাঁটি না ভেজাল, সেটা যাচাই করার কোনো সুযোগ থাকে না। এখানে নিজের চোখের সামনে গাছ থেকে পেড়ে আনা খাঁটি মধু কিনতে পারাটা সৌভাগ্যের ব্যাপার।

মধু বিক্রির ফাঁকে ফাঁকে খড়ের নিভে যাওয়া আগুনে ফুঁ দিয়ে ধোঁয়া দিচ্ছেন সোহাগ। ধোঁয়া এসে চোখে লাগছে, চোখ জ্বলছে। উড়ে উড়ে ছাই পড়ছে মধুর বালতিতে। ধোঁয়া ওড়ানোর কারণ জানতে চাইলে মৃদু হেসে চুপি চুপি সোহাগ জানান, ধোঁয়া দিই, যেন সবাই বিশ্বাস করে এই ধোঁয়া দিয়েই গাছ থেকে মধু নামিয়ে এনেছেন তাঁরা। তখন বেচা-বিক্রি ভালো হয়।

জীবিকা মধুনির্ভর হলেও জীবনটা মধুর নয় দুলালদের। ঘর-সংসার ফেলে মৌচাকের খোঁজে ছুটতে হয় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়। উঁচু গাছের ডাল থেকে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে কখনো কখনো ঘটে দুর্ঘটনা। আর মৌমাছির বিষাক্ত হুল তো নিত্যদিনের সঙ্গী। শত প্রতিকূলতার পরেও জীবনকে মধুর করতে মধুর পেছনে ছুটে বেড়ান তাঁরা।

লেখক: শিশুসাহিত্যিক

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এখন অনেক উঁচুতে

    ২০১১ সালের পর থেকে হামলা তীব্রতর হচ্ছে

    মন্দির-মণ্ডপে হামলা পরিষ্কার ষড়যন্ত্র

    ভেড়ামারায় গৃহবধূর ধর্ষণ মামলায় ‘মামা শ্বশুর’ গ্রেপ্তার

    বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

    নিখোঁজ নয় পরিকল্পিত আত্মগোপনের নাটক করেছিলেন ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী

    কলিন পাওয়েল বিশ্বাসঘাতক: ট্রাম্প

    টেক্সাসে উড্ডয়নের পরই উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত

    নৌকার এমপি হয়ে লাভবান হয়েছেন: শাহজাহানকে জেলা আ. লীগ সভাপতি