মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

বিশেষ চাহিদার শিশুরা ভুগছে নানা সমস্যায়

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২১, ১৩:৫৫

করোনা মহামারির কারণে বিশেষ চাহিদার শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। ফলে শিক্ষার্থীরা ঘরবন্দি থাকায় এখন সবকিছু ভুলতে বসেছে। নতুন করে শেখাতে হচ্ছে। তাদের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

ব্লুমিং রোজেস বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়। শিশুদের জন্য মৌলভীবাজার জেলার একমাত্র বিশেষায়িত বিদ্যালয় এটিমৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান জানান- এই স্কুলটি বিশেষ স্কুল হওয়ায় গুরুত্ব দিয়ে সরকারিভাবে স্কুলের জন্য জায়গা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলে ফান্ডিং করে তাদের সব চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। আগামিতে এ সুযোগ সুবিধা আরও বাড়ানো হবে।।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক অবস্থায় রাখতে শরীর চর্চা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে পড়ালেখা করাতে হয়। দীর্ঘদিন বিরতির কারণে শিক্ষার্থীদের শরীরে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিয়েছে। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, ডাউন সিন্ড্রম, অটিস্টিক, সেরিব্রাল পালসি এগুলোর ধরন অনুযায়ী প্রতিবন্ধকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বিদ্যালয়মুখী হয়েও বিশেষায়িত শিশুরা মনোযোগ দিতে পারছে না পাঠদান কার্যক্রমে।

এদিকে অনেক শিক্ষার্থী অক্ষর চিনতে পারছে না, বই দেখেও রিডিং পড়তে পারছে না। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ নাচ-গান, ব্যায়ামও ভুলে গেছে। এমনকি অনেকেরই চিনতে সমস্যা হচ্ছে তাদের প্রিয় বন্ধুদের। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকসহ শিক্ষকেরা।

শিক্ষক দেবস্মিতা দেবরায় বহ্নি জানান, ‘অটিস্টিক শিশুরা একটু জেদি হয়ে গেছে। এই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এই শিশুদের ওজনের সঙ্গে মেদ বাড়ার কারণে তারা নৃত্য, অভিনয়ে অনীহা প্রকাশ করছে।’

শিক্ষক শাওন ভট্টাচার্য বলেন, ‘এমনিতে এই শিক্ষার্থীদের পেছনে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। এখন সবকিছু ভুলে যাওয়ায় তাদের আরও বেশি সময় দিতে হবে।’

বৃত্তিমূলক শিক্ষা শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, ‘দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় বাচ্চারা বাসায় থেকে মানসিক অবসাদে ভুগছে। একঘেয়েমি হয়ে গেছে তাদের জীবন। অস্বাভাবিকভাবে ওজনও বেড়েছে।’

বিশেষ শিক্ষা শ্রেণির আরেক ছাত্রীর অভিভাবক বলেন, ‘আমার মেয়ের মেজাজ পুরোপুরি খিটখিটে হয়েছে। ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিয়েছে। এদিকে যোগব্যায়ামের প্রতি তার অনীহা দেখা দিয়েছে।’

প্রধান শিক্ষিকা মল্লিকা রানী গোস্বামী বলেন, ‘বিশেষায়িত এই শিশুরা দীর্ঘদিন ঘরবন্দী থেকেছে। এ কারণে মা-বাবার প্রতি অসংগতিপূর্ণ আচরণ করছে। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা না হওয়ার ফলে আই কন্টাক্ট লোপ পেয়েছে তাদের।

২০০৬ সালে চারজন বিশেষ শিশু নিয়ে নিজ বাসায় কার্যক্রম শুরু করেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডি ডি রায় বাবলু। ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এ বিদ্যালয়ের। স্কুলটির ব্যবস্থাপনায় রয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডি ডি রায় বাবলু বলেন, ‘প্রথমে এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নানা সমস্যা ছিল। ধীরে ধীরে সবার সহযোগিতায় এগিয়েছে। বর্তমানে একটি ভাড়া বাসায় থাকলেও, সরকারিভাবে স্কুলের জন্য জায়গা দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ ও সদর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শিগগিরই স্কুলভবন করে দেওয়া হবে, এ রকম আশ্বাস আমরা পেয়েছি।’

বিশেষ এই শিশুদের ‘মা ও শিশু, প্রাক-প্রাথমিক, বিশেষ শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এই চার শ্রেণিতে বিশেষ পদ্ধতিতে পড়ানো হয়। আসনসংখ্যা ৫৫ জনের হলেও বর্তমানে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ১১২ জন শিক্ষার্থীকে এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যায়াম, নাচ, গান, চিত্রাঙ্কন, খেলাধুলা করানো হয়।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    সরকার প্রতারণামূলক নির্বাচনের চেষ্টা করছে

    প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবি ফেসবুকে দিয়ে কারাগারে যুবক

    নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আশ্বাস অবরোধ প্রত্যাহার

    শিবগঞ্জ সীমান্ত থেকে কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার 

    হাগের আডির মতো ২০-২৫ টেহায় বেচতাছে বন

    ভারত-পাকিস্তান সেমিফাইনালে খেলবে, বলছেন পাকিস্তানি সাবেক 

    তফসিল ঘোষণার সাত দিন পরও মনোনয়ন ফরম না পাওয়ায় প্রার্থীদের ক্ষোভ 

    পিএসসির প্রশ্ন ফাঁস করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর জেল

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মেয়র আতিকুলের বিরুদ্ধে মামলা