বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

সর্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষ

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২১, ১৩:০৯

উপকূলে লবণাক্ত জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে চাষ করা নিজের সবজিখেতে জসিম উদ্দিন। ছবি: আজকের পত্রিকা নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের চাষিদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে সর্জন নামের বিশেষ পদ্ধতির চাষাবাদ। বর্তমানে জেলার সুবর্ণচর ও হাতিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন উপজেলায় এ পদ্ধতিতে প্রতি বছর প্রায় ৫৫ কোটি টাকার সবজি উৎপাদন হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলার ২ হাজার ৭১ হেক্টর (৫ হাজার ৫১৫ একর) জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে সবজির চাষ হয়েছে। এ অঞ্চলে উৎপাদিত সবজি জেলার চাহিদা পূরণ করে পাশের লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সর্জন পদ্ধতিতে জেলায় শসা, করলা, বরবটি, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ এসবের চাষ করা হচ্ছে। অন্তত ১৫ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হয়েছে। এ ছাড়া ২০৭১ হেক্টর জমির মাচার নিচে চাষ হচ্ছে তেলাপিয়া, রুই, কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। আগামী মৌসুমে আরও ৪-৫ শত একর জমি সর্জন পদ্ধতির আওতায় আনা হবে।

জানা গেছে, অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে জেলার হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপকূলের শত শত হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন আর অনাবাদি থাকছে না ওই জমিগুলো। সর্জন পদ্ধতিতে সবজি ও মাছ চাষ এখন চরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। স্বল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় নতুন এ পদ্ধতি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে উপকূলের কৃষকদের।

সারি সারি আইল, তার ওপর মাচা। মাচায় লাগানো হয়েছে শিম, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া, শসাসহ নানা সবজি। সেই সবজির মাচার নিচে পানি। সেখানে চাষ করা হয়েছে দেশীয় নানান প্রজাতির মাছ।

চরক্লার্ক ইউনিয়নের কৃষক অসীম যদ্দিন (৬৫) জানান, জমি অতিরিক্ত লবণাক্ত হওয়ায় ফলন ভালো হতো না। প্রতি একর জমিতে ধান ৫০ হাজার টাকার ধান পাওয়া যেত। সর্জন পদ্ধতিতে ভালো ফলন মিলছে।

কৃষক মণির হোসেন (৩২) বলেন, ‘আগে আমাদের খেতে তেমন কোনো ফলন হতো না। বর্তমানে সর্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বছর দুই-আড়াই লাখ টাকা লাভ থাকে। যা দিয়ে আমাদের সংসার ভালোভাবে পরিচালনা করা যায়।’

ফরিদ উদ্দিন (৬৮) নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘হাতিয়ার নদী ভাঙনের পর ভূমিহীন হয়েছে আমরা সুবর্ণচরে আশ্রয় নিই। অনেক কষ্টের ছিল আমাদের জীবন। বর্তমানে ১ একর জমিতে শসা, শিম ও মাছ চাষ করছি। নিজের জমিতে উৎপাদিত সবজি ও মাছ বিক্রি করে যা আয় হয় তা নিয়ে আমরা অনেক সুখে আছি।’

সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, এ অঞ্চলের প্রায় ২ হাজার একর জমিতে বর্তমানে সর্জন পদ্ধতিতে শসা, বরবটি, ঝিঙে, চিচিঙ্গাসহ উচ্চফলনশীল সবজি উৎপাদন হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাষিদের প্রশিক্ষণ, বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শহীদুল হক জানান, গত কয়েক বছরে জেলার চরাঞ্চলে সর্জন পদ্ধতি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে অনেক সবজি উৎপাদন হয়েছে। তাতে চাষিরা বেশ খুশি।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    সেনবাগে নৌকার ৬ মাঝি

    খালে আবর্জনার স্তূপ ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

    শহরে আবার আসছে রকফেস্ট

    অচলাবস্থায় পড়ে আছে ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি  

    বাংলাদেশকে ‘বিপজ্জনক’ বলছেন বাটলার 

    আগৈলঝাড়ায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ 

    ভারতীয় সীমান্ত থেকে বাংলাদেশি যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার 

    ভর্তিচ্ছুদের জন্য পটিয়া থেকে চবি ক্যাম্পাসে ফ্রি বাস সার্ভিস