Alexa
বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১

সেকশন

 

চড়ুই এখন বিদ্যুতের তারে

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০০

বাড়ছে মানুষ, উজাড় হচ্ছে বন জঙ্গল, গাছপালা। হারিয়ে যাচ্ছে পশুপাখিদের আবাসস্থল। নিরুপায় পরিযায়ী পাখিরা বিরাম নিচ্ছে বৈদ্যুতিক  তারে।  ছবিটি গতকাল শ্রীমঙ্গল লালবাগ এলাকা থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা বাবুই আর চড়ুই নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন কবি রজনীকান্ত সেন।

অনেকের নিশ্চয়ই মনে আছে সে কবিতা, আমরা শুধু দুটো পঙ্‌ক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিই। বাবুইকে বলছিল চড়ুই: ‘আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে’ কিন্তু সে সুখ বুঝি সইল না চড়ুইয়ের। আজ তাদের অট্টালিকা ছেড়ে ঠাঁই হলো বিদ্যুতের তারে। কবির দেখা চড়ুই পাখিদের অট্টালিকায় মহাসুখে থাকার দিন শেষ! কিন্তু তাতে মানুষের চোখের আরাম হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলা শহরের ব্যস্ততম এলাকা চৌমুহনী চত্বরের সেন্ট্রাল রোডে গেলে দেখা যাবে এক অসাধারণ দৃশ্য। সেখানে পাঁচ-ছয়টি বিদ্যুতের খুঁটিতে আশ্রয় নিয়েছে হাজারো চড়ুই পাখি।

সন্ধ্যা হলো কি না সেটা বোঝা যায় এই চড়ুইদের কিচিরমিচিরে। সন্ধ্যার একটু আগে থেকেই শোনা যায় এই ডাক। কিচিরমিচির কিচিরমিচির। পাখিদের এক তার থেকে অন্য তারে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে যে কারও ভালো লাগবে।

প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে ভিড় করেন স্রেফ এই দৃশ্য দেখবেন বলে। কেউ কেউ ছবি তোলেন, কেউ কেউ ভিডিও করে নিয়ে যান।

কোনো বাড়ি নয়, বিদ্যুতের খুঁটিই এখন চড়ুইয়ের আশ্রয়স্থল।

স্থানীয় বাসিন্দারা অবাক হয়ে লক্ষ করছেন, যতই দিন যাচ্ছে এই তারে চড়ুই পাখির সংখ্যা ততই বাড়ছে। মাস দু-এক হলো চড়ুই পাখিরা এখানে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের দেখার জন্য সন্ধ্যার পর পাখিপ্রেমীরা আসেন এখানে।

একটা অবাক করা ব্যাপার হলো, দিনের বেলা এই চড়ুইদের খুব একটা দেখা যায় না।

কেন হঠাৎ বাড়ির বাইরে চলে আসতে হলো চড়ুইদের? স্থানীয় বাসিন্দা অমিত রা বলেছেন তাঁর ভাবনার কথা। ‘আগের মতো চড়ুইরা আর বাসাবাড়িতে ঠাঁই পায় না। বাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখতে অনেকে তাড়িয়ে দেন তাদের, ফলে পথই তাদের ঠিকানা এখন।’

পরিবেশকর্মী ও সমাজকর্মী সোনিয়া মান্নান জানান তাঁর পর্যবেক্ষণের কথা। তিনি বলেন, খড়কুটো, শুকনো ঘাস-পাতা দিয়ে কড়িকাঠে, কার্নিশে বাসা বেঁধে বসবাস করে চড়ুই পাখি। এর পাশাপাশি বিদ্যুতের তারসহ বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করে। সারা দিন লাফিয়ে লাফিয়ে খাবার খোঁজে। সন্ধ্যা নামার মুহূর্তে ফিরে আসে নিজের বাড়িতে।

একটু লক্ষ করলেই দেখা যাবে, মাটি থেকে শস্য খুঁটে খাচ্ছে চড়ুই। কে না জানে, এই পাখিটি পরিবেশ-সহায়ক। এদের রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে মানুষকেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নূর জাহান সরকার চড়ুই পাখি সম্পর্কে বলেন, ‘এই পাখি পরিবেশবান্ধব। প্রকৃতিতে চড়ুইয়ের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

আমাদের অসচেতনতার কারণে আমরা সেটা বুঝতে পারি না। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রকৃতি থেকে চড়ুইয়ের বিলুপ্তি ঠেকাতে হবে।’

কীভাবে বিলুপ্তি ঠেকানো যাবে? সহজ কাজ সেটা। বাসাবাড়ির বারান্দায় যদি চড়ুই পাখির বাসের উপযোগী করে দু-একটা ছোট বাক্স বেঁধে রাখা হয়, তাহলে বিলুপ্তির হাত থেকে যেমন চড়ুই বাঁচবে, তেমনি বাড়ির শিশুরাও আনন্দ পাবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ছোটবেলা থেকেই শিশুরা একদিন হয়ে উঠবে প্রকৃতিপ্রেমী।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    সাড়ে ৬ বছরেও শেষ হয়নি ব্লগার অনন্ত হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ

    মেলায় গিয়ে যুবলীগ নেতার মৃত্যু

    শাল্লায় ৪ ইউপিতে নৌকার মনোনয়ন পেলেন যাঁরা

    কমলগঞ্জে নৌকা প্রতীক না পেয়ে মিষ্টি বিতরণ

    সিলেটে আরও ৩টি অস্থায়ী কেন্দ্রে মিলছে ফাইজারের টিকা

    সুন্দরগঞ্জে সাবেক ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মুরাদকে যারা সহযোগিতা করেছে তাদেরও বিচার চাইলেন নজরুল ইসলাম খান

    মিরপুরে ই-কারখানার যাত্রা শুরু

    মুরাদ হাসানের পদত্যাগ যথেষ্ট নয়: মঈন খান

    ভারতে ফের আফস্পা বাতিলের দাবি

    দুদকের মামলায় মানিকগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা মট্টুসহ দুজন গ্রেপ্তার