বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের জিন ব্যাংকে হারিয়ে যেতে বসা টেপাবোরো, বালামশাইল ও সাদামোটাসহ বিচিত্র নামে দেশি-বিদেশি সাড়ে আট হাজার ধানের জাত সংরক্ষিত রয়েছে। এসব জাত থেকে উদ্ভাবিত হয়েছে ব্রি-২৮, ব্রি-২৯`সহ ৯৪টি উচ্চ ফলনশীল জাত।

খরা, বন্যা ও লবণাক্ত সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনে গবেষণা চলছে। জিন ব্যাংকে সংরক্ষিত ধানের জাতগুলো দেখতে কেমন, এ নিয়ে সাধারণ মানুষের রয়েছে কৌতূহল।

রাধুনিপাগল, বৌ সোহাগী, জামাই নাড়ু, বৌ পাগলা- বিচিত্র নামগুলো যে কেউকে গোলক ধাঁধায় ফেলে দেবে। এগুলো সুস্বাদু খাবার কিংবা ব্যক্তি বা স্থানের নাম নয়। মাঠ থেকে হারিয়ে যাওয়া সুগন্ধি ধানের জাত। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া এমন সাড়ে ৮ হাজার ধানের জাত সংরক্ষণ করে গড়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্রের জিন ব্যাংক।

সংগ্রহের শুরুটা ১৯৭০ সালে। এরপর স্বল্প মেয়াদি রাইস জিনব্যাংকের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৪ সালে আর ২০০৭ সালে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ পদ্ধতি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে জিন ব্যাংকটি আধুনিকতার পূর্ণমাত্রা পায়।

বীজের আকার-বর্ণ, কোন মৌসুমে চাষ হয়, সেটা মিলিয়ে ধানের নাম হয়েছে, কালিজিরা, বেগুণবিচি, চৌদ্দ মুগর, জংলিবোরো, টেপাবোরো। সংরক্ষিত এসব জার্মপ্লাজম একটির সাথে অন্যটির সংকরায়ণ করানো হয়। এরপর উদ্ভাবন হয় নতুন জাতের। জিন ব্যাংকে সাড়ে আট হাজার ধানের জাত থাকলেও বর্তমানে চাষ হচ্ছে ৪শ থেকে ৫০০ প্রজাতির ধান।

উচ্চ ফলনের প্রয়োজনেই কৃষকের ক্ষেত থেকে হারিয়ে গেছে কটকতারা, পানবিড়া, কার্তিকশিন্নীর মতো নাম না ধানের অনেক জাত। তবে ব্রি`র বিজ্ঞানীরা বলছেন জীনব্যাংকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষিত ধানের জাতগুলো টিকে আছে, টিকে থাকবে বছরের পর বছর। গবেষণার মাধ্যমে এসব জাত থেকেই উদ্ভাবিত হবে নতুন নতুন জাত।

সূত্র : কৃষি নিউজ