বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

ইউপি নির্বাচন

বিদ্রোহীদের দাপট দেখল আ.লীগ

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০০

মাঠে বিএনপি ছিল না। আওয়ামী লীগের অস্বস্তি ছিল তাই নিজ দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের নিয়ে। তাঁদের সতর্ক করার পাশাপাশি একাধিক জায়গায় বহিষ্কারও করা হয়েছিল দল থেকে। কিন্তু তাতেও দমানো যায়নি তাঁদের। গত সোমবারের ভোটের মাঠে দাপট দেখালেন তাঁরা। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন ২৫ বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী।

৬ জেলার ২৩ উপজেলায় ১৬০ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোট হয়েছে সোমবার। এর মধ্যে শুধু বাগেরহাটে বিনা ভোটে আগেই জয় পেয়ে যান আওয়ামী লীগের ৪৪ চেয়ারম্যান প্রার্থী।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের একাধিক জায়গায় জয় পাওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম গতকাল মঙ্গলবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। এ জন্য বিদ্রোহী প্রার্থী অনেক কমে এসেছে। এরপরও যাঁরা বিদ্রোহী হচ্ছেন, তাঁরা শাস্তিভোগ করবেন। ভবিষ্যতে দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন। পদপদবি পাবেন না।’

স্থানীয় সূত্র বলছে, ক্ষমতাসীন দলটি বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাঁদের পক্ষ নেওয়া নেতা-কর্মীদের নানাভাবে সতর্ক এবং দল থেকে বহিষ্কার করেও অনেক জায়গায় কোনো ফল পায়নি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ মনে করছে, একটানা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় সুবিধা পাওয়া না-পাওয়া নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত বেড়ে গেছে। এরই প্রভাব পড়েছে নির্বাচনের ফলাফলে।

মাঠপর্যায় থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ৬ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন খুলনায়। সেখানে ৫ উপজেলার ৩৪ ইউপির ২১টিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। আর দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন ৮ জন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, এই জেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ৪ জন। এ ছাড়া ১টিতে ফলাফল স্থগিত রয়েছে। ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কয়রা সদর ইউপিতে কয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে কারণে এই ইউপিতে চেয়ারম্যান পদের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে।

খুলনার পরই সাতক্ষীরা জেলায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহী প্রার্থীরা দাপট দেখিয়েছেন। এই জেলার তালা ও কলারোয়া উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯ জন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও ১২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। স্বতন্ত্র ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন ৭ জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। বাকি ৪ জন বিএনপি ও ১ জন জামায়াতের।

নোয়াখালীতেও ১৩টি ইউপির ৪টিই নিজেদের করে নিয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিতরা। জেলার হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন ৯ জন। এর মধ্যে সুবর্ণচর উপজেলায় যে ২ জন বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন তাঁরা এই নির্বাচনে শুরুর দিকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৬ সালের ভোটেও এই ২ জন বিদ্রোহী হয়ে ভোটে অংশ নেওয়ায় তাঁদের এবার মনোনয়ন দেয়নি দল।

চট্টগ্রামে ১২ ইউনিয়নের ১০টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীই জয় পেয়েছেন। কিন্তু সেখানেও বিদ্রোহী প্রার্থীরা ২ ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন। 

কক্সবাজারের ৪ উপজেলার ১৪ ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বেশি সুবিধা করতে পারেননি। ২ ইউপিতে ভোট স্থগিত রয়েছে সহিংসতার কারণে। বাকি ১২টির ৬টিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। আর দলটির বিদ্রোহীরা জিতেছেন ২টিতে। অপর ৪টি পেয়েছেন বিএনপি-জামায়াত বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি নজির স্থাপন করেছে বাগেরহাট জেলায়। এই জেলায় ৬৬ ইউপির মধ্যে ভোটের আগেই আওয়ামী লীগের ৪৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে যান বিনা ভোটে। সোমবার চেয়ারম্যান পদে ভোট হয়েছে ২৩ ইউপিতে। এর মধ্যে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ২ ইউপিতে।

ইসির যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানান, প্রথম ধাপে ১৬০ ইউপিতে ভোট পড়েছে ৬৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদ প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার সুপারিশ

    ডেঙ্গুতে এক দিনে ভর্তি ১৮২, মৃত্যু ১

    দেশে পৌঁছেছে সিনোফার্মের আরও ২ লাখ টিকা

    করোনায় আরও ৬ মৃত্যু, ঢাকাসহ মৃত্যুহীন ৪ বিভাগ

    সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের নাম শিগগিরই জানানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কুমিল্লার ঘটনা ছড়ায় ৪ মহানগর ও ২৮ জেলায়

    মাস্টার আপা

    আমি কলা খাব না হারুন ভাই।

    আব্বাসউদ্দীন ও রাষ্ট্রভাষা

    ভাতের ওপর চাপ কমান!

    প্যানকেক

    আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভয়ডরহীন

    মস্তিষ্ক বনাম কম্পিউটার