বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

চড়ুইদের ঠাঁই হলো বিদ্যুতের তারে

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:০৫

মৌলভীবাজার শহরের চৌমোহনায় সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের তারে হাজারো চড়ুই পাখি। ছবি: আজকের পত্রিকা 'আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে'
-চড়ুই পাখিদের বড়াই করা সেই দিন নেই। আজ তাদের অট্টালিকা ছেড়ে ঠাঁই হলো বিদ্যুতের তারে। কবি রজনীকান্ত সেনের দেখা চড়ুই পাখিদের অট্টালিকায় মহাসুখে থাকার দিন শেষ। মৌলভীবাজার জেলা শহরের ব্যস্ততম এলাকা চৌমুহনী চত্বর। এই চত্বর হয়ে যাওয়া সেন্ট্রাল রোডের ৫ /৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আশ্রয় নিয়েছে হাজারো চড়ুই পাখি। সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্ত থেকে এই স্থানটি কিচিরমিচির শব্দে মুখর হতে থাকে। সামনে দাঁড়িয়ে কিচিরমিচির ডাক আর পাখিদের এক তার থেকে অন্য তারে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে যে কারও ভালো লাগবে।

প্রতিদিন বহু মানুষ ভিড় করেন এই অপরূপ দৃশ্য দেখতে। অনেকে ছবি তুলে নিয়ে যান, কেউ কেউ ভিডিও করেন। বৈদ্যুতিক খুঁটিই চড়ুইয়ের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যত দিন যাচ্ছে চড়ুই পাখিদের সংখ্যা তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাস দু-এক হলো চড়ুইরা এখানে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের দেখার জন্য পাখিপ্রেমীদের সন্ধ্যার পর এখানে ভিড় জমান। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তারা কিচিরমিচির শব্দে মাতিয়ে রাখে পুরো এলাকা। কিন্তু দিনের বেলা তাদের খুব একটা দেখা যায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা অমিত রায় জানান, আগের মতো চড়ুই এর বাসা বাড়িতে ঠাঁই হয় না। পরিচ্ছন্ন রাখতে অনেকে তাড়িয়ে দেন, ফলে তাদের বাইরে আশ্রয় নিতে হয়। 

পরিবেশকর্মী ও সমাজকর্মী সোনিয়া মান্নান বলেন, খড়কুটো, শুকনো ঘাস পাতা দিয়ে কড়িকাঠে, কার্নিশে বাসা বেঁধে বসবাস করতে এদের দেখা যায়। এর পাশাপাশি বিদ্যুতের তারসহ বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করে। সারা দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ায় খাদ্যের সন্ধানে। সন্ধ্যা নামার মুহূর্তে ফিরে নীড়ে। চড়ুই মাটি থেকে পোকামাকড় শস্য খুঁটে খায়। পরিবেশ সহায়ক প্রিয় পাখি চড়ুই সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ও এদের বিলুপ্তি রুখতে আসুন যে যার অবস্থান থেকে সহায়ক কিছু একটা করার সুযোগ রয়েছে।

ব্যস্ততম সড়কের ব্যবসায়ী রজত ভট্টাচার্য জানান, সন্ধ্যার পর চড়ুই পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয় এই এলাকা। এ দৃশ্য দেখতে খুবই ভালো লাগে। ব্যবসায়ীদের বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নূর জাহান সরকারের মতে চড়ুই পরিবেশবান্ধব। তিনি বলেন, প্রকৃতিতে চড়ুইয়ের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আমাদের অসচেতনতার কারণে আমরা সেটা বুঝতে পারি না। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রকৃতি থেকে চড়ুইয়ের বিলুপ্তি ঠেকাতে হবে। আমাদের বাসাবাড়ির বারান্দায় যদি চড়ুইয়ের বাস উপযোগী করে দু’একটি ছোট বাক্স বেঁধে রাখি। এতে বিলুপ্তির হাত থেকে যেমন চড়ুই বাঁচবে, তেমনি বাড়ির শিশুরাও আনন্দ পাবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ছোটবেলা থেকে এরা একদিন হয়ে উঠবে প্রকৃতিপ্রেমী।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    থেমে থেমে হতে পারে বৃষ্টি, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

    আসছে মাংসল দেশি ব্রয়লার

    প্রতিশ্রুতি নয়, পদক্ষেপের আশায়

    দেশের কয়েক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে

    বিলীনের পথে ইউরোপের পাখি

    জলবায়ু পরিবর্তন: চলতি বছর কার্বন নিঃসরণ বাড়ার শঙ্কা

    উসকানিমূলক ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে বদরুন্নেসার শিক্ষক রুমা আটক 

    বিদ্যুতের খুঁটি থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

    গোমস্তাপুরে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলায় দুধ বিক্রেতা নিহত

    আশুগঞ্জে সৎ মায়ের বিরুদ্ধে শিশু হত্যার অভিযোগ

    ওবায়দুল কাদের মিথ্যুক: কাদের মির্জা

    আওয়ামী লীগ দেশের প্রভু হয়ে থাকতে চায়: মির্জা ফখরুল