বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বড় বাধা সমন্বয়হীনতা, সেমিনারে বক্তারা

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:২১

গত ৫০ বছরেও মশা সমস্যার কোনো সন্তোষজনক সমাধান হয়নি- এটা বিব্রতকর। ছবি: আজকের পত্রিকা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও, তা ততটা কার্যকর হয়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ঢাকা শহরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলছে। একই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের অন্য শহরগুলোতেও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যর্থতার পেছনে দায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতা। সরকার মশক নিবারণ কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান গঠন করতে পারে। যারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বয় করে মশক দমনে ভূমিকা রাখবে।

আজ শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নগরীর মশা নিবারণে সমস্যা, টেকসই সমাধানের একটি রূপরেখা’ সেমিনারে আলোচকেরা এসব কথা বলেন।

আয়োজক সংস্থা সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর এ চৌধুরী, তৌহিদ উদ্দিন আহমেদ, ড. জিএম সাইফুর রহমান।

সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের চেয়ারম্যান কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর এ চৌধুরী বলেন, মশা ও সংক্রামক কীটপতঙ্গ নিবারণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। মশা ও সংক্রামক কীটপতঙ্গ নিবারণের জন্য জাতীয় ভিত্তিক একটা নির্দেশিকা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। নির্দেশিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বালাইনাশক (পেস্টিসাইড) আইন, ২০১৮, স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন বিবেচনায় নিতে হবে।

এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের আলোকে এই নির্দেশিকা প্রণয়ন করতে হবে। মশা ও সংক্রামক কীটপতঙ্গ নিবারণ মূলত একটি কারিগরি কার্যক্রম। এ ধরনের কার্যক্রমের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে কীট নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবলের ওপর। দক্ষ জনবল ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভাব ও মশক নিবারণ কর্মকাণ্ড ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ। সরকার মশক নিবারণ কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান গঠন করতে পারে। 

আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তৌহিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের নগর, শহরগুলোতে মশা (কিউলেক্স ও এডিস) একটি প্রধান সমস্যা। দুই দশক আগ পর্যন্ত মশা সমস্যা কেবল শুষ্ক মাসগুলোতে কিউলেক্স মশার দংশন-উপদ্রবে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০০০ সাল থেকে বর্ষা মৌসুমে প্রায় বছরই ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। আমাদের শহর-নগরগুলোতে মশা এখন সারা বছরের সমস্যা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব মহামারি রূপ নিয়েছে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এরই মধ্যেই গত ২১ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। দেশের জন্য এটা বিব্রতকর যে গত ৫০ বছরেও মশা সমস্যার কোনো সন্তোষজনক সমাধান হয়নি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, যথাযোগ্য জনবল সমস্যা। সিটি করপোরেশনের কোনো প্রশিক্ষিত জনবল নেই। মেডিকেল কীটতত্ত্ববিদ নেই। মশা নিবারণ, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের জন্য এখন পর্যন্ত সরকার কোনো পলিসি, নীতিমালা তৈরি করতে পারেনি। 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বয় করে মশক নিধনে পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

    সিদ্ধিরগঞ্জে 'ভুয়া' চিকিৎসক আটক

    মাধবপুরে ভিমরুলের কামড়ে ১০ দিন পর মৃত্যু

    গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানালেন সেই ইকবালের মা

    বিদ্যুতের খুঁটি থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

    মডার্না ও জনসনের বুস্টার ডোজের অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

    বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

    সিদ্ধিরগঞ্জে 'ভুয়া' চিকিৎসক আটক

    মাধবপুরে ভিমরুলের কামড়ে ১০ দিন পর মৃত্যু

    ধর্মান্ধ রাজনীতির বলি হচ্ছে সংখ্যালঘুরা: জাফরউল্লাহ চৌধুরী

    সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী