বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

দীর্ঘ বৈঠকের পরও প্রত্যাশা অপূর্ণ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৩০

‘এবার কিছু একটা হবে, হয়তো কিছু একটা হবে’–নির্বাচন ও আন্দোলন সামনে রেখে বিএনপির কর্মপন্থা নির্ধারণী ধারাবাহিক বৈঠক নিয়ে এমনই প্রত্যাশা ছিল দলে এবং দলের বাইরে। তিন দিনে সাড়ে ষোলো ঘণ্টার বৈঠকে সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বৈঠক শেষে লাভালাভের হিসাব মেলাতে গিয়ে ঘুরেফিরে বর্তমানের বিএনপিকেই পাওয়া গেল। ভবিষ্যতে নিজেদের স্বপ্নপূরণে দলটি কী করবে, তা জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে বলে জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের মতামত নেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিএনপির তিন দিনের ধারাবাহিক বৈঠক। দল ও দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মতামত নেওয়ার মধ্য দিয়ে গত বৃহস্পতিবার ধারাবাহিক বৈঠকের সমাপ্তি হয়। বৈঠক থেকে বেশ কিছু পরামর্শ, নির্দেশ ও হুঁশিয়ারি এসেছে। ঝুলে থাকা অনেক বিষয় শেষ হওয়ায় আশাবাদী করে তুলেছে দলের দায়িত্বশীলদের। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আগে এগোনোর কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

বৈঠক সম্পর্কে বিএনপির নেতারা বলছেন, নানা বিষয়ে আলোচনা হলেও কোনো বিষয়েই এখনো পাকা সিদ্ধান্ত আসেনি। তাঁদের কথায় যা পাওয়া যায়, তাতে সিদ্ধান্তের বিপরীতে তিন দিনের বৈঠক থেকে বিএনপির বর্তমান চেহারার বিবরণই এসেছে। নেতৃত্বের সংকট, আস্থাহীনতা, কোন্দল, হতাশা, ক্ষোভ, জরাজীর্ণ সংগঠনসহ নানাভাবে দল যে বিপর্যস্ত, সেটাই বক্তাদের কথায় ঘুরেফিরে এসেছে। প্রায় ১৫ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির নেতাদের পরামর্শে প্রাধান্য পেয়েছে আন্দোলন, সরকার পতন, নির্বাচন, চেয়ারপারসনের মুক্তি, জোটসহ বেশ কয়েকটি বিষয়। আর এসব বিষয়ে বলতে গিয়ে নিজেদের সীমাবদ্ধতা, দুর্বলতা, নেতৃত্বের অবস্থাসহ নানা বিষয় সামনে আনেন তাঁরা। সেখানে দলের নীতিনির্ধারকদেরও দোষারোপ করা হয়। প্রশ্ন ওঠে নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে।

নেতাদের কথা শুনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মূলত বড় পদের নেতারাই ছিলেন তাঁর লক্ষ্য। বৈঠকে অংশ নিয়ে সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় দলের নেতাদের এখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির অন্যতম স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। দলের মহাসচিব কথা বলেছেন। এর বাইরে আর কেন কথা থাকবে?’

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা এবং নানা কারণে পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতায় হতাশার সৃষ্টি হয়, সেটাই স্বাভাবিক। দ্বন্দ্ব, কোন্দল বিএনপির মতো বড় দলের জন্য স্বাভাবিক ঘটনা। এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে হতাশাকে পাশ কাটিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। দলে একটা শক্তি তৈরি হয়েছে। এ শক্তি আগামী দিনে দলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করছি।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান খান দুদু বলেন, ‘চতুর্দিকে একটা রুদ্ধশ্বাস অবস্থা বিরাজ করছে। যেখানে রাজনীতিই নেই, সেই সময় এমন একটি বৈঠক নাড়া দিতে পেরেছে বলে মনে করি। বিএনপির তিন দিনের ধারাবাহিক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে একটা উচ্চাশা তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখান থেকেই বিএনপি আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবে।’

এদিকে বৈঠক সূত্রে বিএনপির আন্দোলন নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের জন্য কিছুটা সুখবরও জানা গেছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক যুগ্ম মহাসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৈঠকে সবার বক্তব্যই ছিল আন্দোলন। সে কারণে আগামী জানুয়ারিতে সেই আন্দোলনের দিনক্ষণ ঠিক হতে পারে। এ ছাড়া জোটগত ও জামায়াত ইস্যুতে আলোচনা চলছে। সব শরিকের সঙ্গেও সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানান ওই নেতা।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভয়ডরহীন

    'লাঠিপেটা' গণতন্ত্রের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সরকার: রিজভী

    বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার গোয়েবলসকেও হার মানায়: ওবায়দুল কাদের

    দাঙ্গা-হাঙ্গামাকারীরা অমানুষ জানোয়ার: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

    মাস্টার আপা

    আমি কলা খাব না হারুন ভাই।

    আব্বাসউদ্দীন ও রাষ্ট্রভাষা

    ভাতের ওপর চাপ কমান!

    প্যানকেক

    আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভয়ডরহীন

    মস্তিষ্ক বনাম কম্পিউটার