বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

শিক্ষায় বাণিজ্যিকীকরণ, সাম্প্রদায়িকীকরণ ও বেসরকারিকরণ বন্ধের দাবি

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৫২

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ)। ছবি: আজকের পত্রিকা শিক্ষায় বাণিজ্যিকীকরণ, সাম্প্রদায়িকীকরণ ও বেসরকারিকরণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী, অর্থনীতিবিদ, সংগঠকসহ বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। 

আজ শুক্রবার 'মহান শিক্ষা দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়। 

রাজধানীর হাইকোর্টের সামনে অবস্থিত 'শিক্ষা অধিকার চত্বর' এ আজ শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্র সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। সকাল ৮টায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। এছাড়া বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, ছাত্র ফেডারেশন, ইসলামি শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শাহবাগে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ছবি: আজকের পত্রিকা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ)
শিক্ষার বেসরকারিকরণ-বাণিজ্যিকীকরণ প্রতিহত, শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল বেতন ফি মওকুফ করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্র সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ)। সংগঠনটির সভাপতি আল কাদেরী জয়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্সের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ ও রাজেকুজ্জামান রতন। 

আনু মুহাম্মদ বলেন, '১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল কলেজ খুলে দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারে নি। এর আগে সরকারের এক নীতিনির্ধারক আশঙ্কা করেছিলেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার ষড়যন্ত্র হতে পারে। এ কথা দ্বারা বোঝা যায়, সরকার তারুণ্যের শক্তিকে ভয় পায় ৷ সরকার যদি জনস্বার্থবিরোধী প্রচারণা চালায় কিংবা দেশের সম্পদ লুট করার যারা পাঁয়তারা করে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করার চেষ্টা চালায় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনচেতা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জেগে উঠবে। এ ভয়ে সরকার যত বেশি দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা যায় তার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।' 

পৃথিবীর কোথাও কোন দেশ নেই যেখানে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা বাণিজ্যিকীকরণ করা। শুধুমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া। শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, সাম্প্রদায়িকীকরণ ও বেসরকারিকরণ বন্ধ করার দাবি করেন আনু মুহাম্মদ। 

সকল স্তরের জনগণের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এগুলো বন্ধ করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। ছবি: আজকের পত্রিকা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন
সেশনজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহ চার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে ছাত্র সমাবেশ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. এমএম আকাশ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন প্রমুখ।

এম এম আকাশ বলেন, '৬২ 'র শিক্ষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ৬২ তে ছাত্রদের রক্তের সঙ্গে শ্রমিকের রক্ত মিশে শিক্ষা আন্দোলন সফল হয়েছিল, বর্তমান সময়েও কোন আন্দোলন শুধু ছাত্রদের রক্ত দিয়ে সফল হবে না, শ্রমিক-কৃষকদের রক্তও ছাত্রদের রক্তের সঙ্গে মিশতে হবে। তবে সেরকম আন্দোলন করতে হবে ছাত্রদের আগে শুরুটা করতে হবে। আজ ৬২ 'র শিক্ষা আন্দোলনের এত বছর পর দেশে প্রাইভেট মেডিকেল হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, আর সেখানকার বেতন আর সরকারি বেতনের মধ্যে পার্থক্য আছে। সরকারি স্কুলের টিচার করোনাকালে বেতন পেয়েছে কিন্তু কিন্তু প্রাইভেটের টিচাররা বেতন পায়নি। প্রাইভেট স্কুলের ছেলেরা পড়তেও পারেনি। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় সরকার আপনাকে তো পড়াতে পারছে না, উল্টো ভ্যাট আদায় করছে।' 
 
সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, বিএ ক্লাস পর্যন্ত লেখাপড়া অবৈতনিক করবে। কিন্তু এখন বিএ ক্লাস তো দূরের কথা স্কুলেও আমাদের টাকার ওপর নির্ভর করে চলে বলে উল্লেখ করেন আকাশ। 

প্রগতিশীল ৮ সংগঠনের ছাত্র সমাবেশ
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ-মার্কসবাদী), বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদসহ ৮টি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন একযোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিকেল ৪টায় ছাত্র সমাবেশ করে।

এ সময় তারা করোনাকালে সকল প্রকার বেতন ফি মওকুফ, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার, এই বছর থেকে পিএসি-জেএসসি বাতিল, করোনাকালে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা দেওয়া এবং শিক্ষার বাণিজ্যকরণ-বেসরকারি করণ বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

এছাড়া বিদ্যমান শিক্ষা কাঠামো সংস্কার ও চলমান সংকট নিরসনের দাবিতে শাহবাগে 'শিক্ষা সমাবেশ' করেছে ইসলামি শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটির সভাপতি নূরুল করিম আকরামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ'র যুগ্ম-মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    গুচ্ছ পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটে উত্তর না দিয়েও নম্বর পাওয়ার অভিযোগ

    গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

    ভর্তি পরীক্ষায় চবি শাটল ট্রেনের বিশেষ সার্ভিস

    পূর্বাচলে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণকাজ শুরু

    জবি শিক্ষার্থীদের এনআইডি নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন

    ১৯ মাস পর খুলেছে জাককানইবি'র আবাসিক হল

    বাসেত মজুমদার আর নেই

    জেতার জন্য চাই আন্দোলন ও সংগঠন

    সঙ্গে থাকুক ভ্রমণ স্মৃতি

    বিলুপ্তপ্রায় ১৭ প্রজাতির মাছ

    ক্ষমতার দাপট