মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

ইটভাটার প্রতিবাদে রাস্তায় এলাকাবাসী

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৪১

বদরগঞ্জের নাগেরহাটে ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ বন্ধ করতে গতকাল এলাকাবাসীর মানববন্ধন। tছবি: আজকের পত্রিকা বদরগঞ্জের কুতুবপুর ইউনিয়নের নাগেরহাট এলাকায় কৃষি জমিতে রয়েছে তিনটি ইটভাটা। সম্প্রতি তিনফসলি জমিতে আরও একটি নতুন ভাটার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন আশপাশের জমির কৃষকেরা।

নতুন ইটভাটার নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে জোটবদ্ধ হয়েছেন এলাকাবাসী। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁরা নাগেরহাট-পদাগঞ্জ সড়কে মানববন্ধন করেছেন। এতে কৃষকদের পাশাপাশি শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।

মানববন্ধনে স্থানীয় আমচাষি তুহিন শাহ বলেন, ‘আমার ১৩ একর জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের বাগান আছে। এলাকার তিনটি ইটভাটার প্রভাবে বাগানে তেমন আম ধরে না। তার ওপর বাগানের পাশে আরও একটি নতুন ইটভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। ইটভাটা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

আইন অনুযায়ী পাকা সড়ক ঘেঁষে এবং কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যায় না। কিন্তু আইনের প্রয়োগ না থাকায় তা প্রভাবশালীরা মানছেন না। এ কারণে একের পর এক কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ চলছে বলে অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরমানুজ্জামান।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সবুজ ধানখেত দেখে মন জুড়িয়ে যায়। আর সেই ধানখেতের মাঝে নির্মাণ করা হচ্ছে ইটভাটা। এতে হতাশ হওয়া ছাড়া আর কিছুই দেখছি না।’

এলাকার কৃষক বাপ্পি মিয়া জানান, যিনি নতুন ইটভাটা নির্মাণ করছেন তাঁর বাড়ি পাশের মিঠাপুকুর উপজেলায়। প্রভাবশালী এই ব্যক্তি এলাকার কিছু মানুষকে ম্যানেজ করে ভাটার নির্মাণকাজ চালাচ্ছেন।

এদিকে ইটভাটা নির্মাণের জায়গায় গিয়ে দেখা যায়, সবুজ ধানখেতের মাঝে ইট, বালু, সিমেন্ট ও রড ফেলা হয়েছে। জোরেশোরে কাজ চলছে। সেখানে কাজের তদারকি করা সুমন শাহ নামে এক যুবক জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে নিয়ে ইটভাটা মালিক রুহুল আমিন এই ভাটার নির্মাণ শুরু করেছেন।

তবে ফোনে যোগাযোগ করা হলে রুহুল আমিন বলেন, ‘ইটভাটার অনুমোদন নেওয়ার জন্য আবেদন করেছি। এখনো সাড়া পাইনি।’ তবে তিনি কোন দপ্তরে আবেদন করেছেন তা জানাতে রাজি হননি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জে ৭০টি ইটভাটা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মো. জোবাইদুর রহমান বলেন, ‘কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করতে আমি কোনো ছাড়পত্র দেইনি।’

অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক মেজবাবুল আলম বলেন, ‘বদরগঞ্জে অনেক ইটভাটাকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। নতুন করে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনুমা তারান্নুম বলেন, নতুন করে কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণের বিষয়ে তাঁর জানা নেই। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি বিষয়টি দেখবেন।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    জেলায় শনাক্ত ও মৃত্যুহীন একদিন

    মাসে অর্ধকোটি টাকা কেনাবেচা

    ফেরেনি ৩ হাজার শিক্ষার্থী

    নওয়াববাড়ি এখন রিসোর্ট

    নকলায় ইউপি নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন ঘোষণা

    অস্ত্রোপচার বন্ধ, দুশ্চিন্তা

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুপ্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন

    ছানার পুডিং

    অভিনয়ের নেশা

    স্থাপনাটি পুকুরের মাঝখানে

    ১৫ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে সেতুর পিলার

    চিকেন বল যখন গোল্ডফিশ