শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

সেকশন

 

নদীখেকোদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ১৭:৫৮

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সভায় বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: আজকের পত্রিকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমাদের নদী রক্ষার জন্য নদীখেকো, বালুখেকো, নদী দখলকারী এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার। আর যে সমস্ত শিল্পের মালিকেরা নদীতে রঙিন পানি ফেলে, তারা সমাজের শত্রু। এদের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার।  

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নোঙর ট্রাস্ট আয়োজিত ২৩ মে ‘জাতীয় নদী দিবস’ ঘোষণার দাবিতে ‘ঢাকা নদী সম্মেলন’ প্রস্তুতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের দেশের মানুষ এখন উন্নয়ন মানেই বুঝে রাস্তা, ব্রিজ ও বিল্ডিং বানানো। এটাকেই মানুষ উন্নয়ন মনে করে। এই উন্নয়নের সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করি। রাস্তা বানাতে গিয়ে যেটা হচ্ছে, খাল-বিল-নদী-নালার ওপরে ব্রিজ বানানো হচ্ছে, কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। আমরা যদি শুরু থেকে নদীর নাব্য রক্ষা করে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতাম তাহলে কিন্তু আজকে নদীর এই অবস্থা দাঁড়াতো না। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি ছোটবেলায় যে নদীর পাড়ে খেলা করতাম, সেই নদী আর এখন নেই, বালুচরও নেই। কারণ নদী শুকিয়ে গেছে। আর এর পেছনের কারণ হচ্ছে নদীতে বিভিন্ন রাবার ড্যাম তৈরি, নদীর উজানে প্রতিবন্ধকতা তৈরি। এটি সারা দেশের চিত্র।  আর শহর অঞ্চলের যে নদী সেগুলো ক্ষমতাসীনরা দখল করেছে। এখন নদী শুকানোর পাশাপাশি এখন আবার সরু হয়ে যাচ্ছে। 

নগরায়নের প্রভাব পরিবেশে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে মানুষ ৩০০ কোটি থেকে ৮০০ কোটিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় তিনগুনের কাছাকাছি।  মানুষ বাড়ছে, আগে মানুষ দুই এক বালতি পানি দিয়ে গোসল করত। কিন্তু এখন সেটা করে না।
 
আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা দাঁড় করানোর কথা জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, আমি মনে করি সবার জন্য নদীর পানির ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য অর্থাৎ নদীর অববাহিকায় যারা বসবাস করে সবার জন্য সুষমভাবে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা দরকার। আমাদের যৌথ নদী কমিশন আছে, কিন্তু আমি মনে করি এটাকে আরও ইফেক্টিভ করা দরকার। আর আমাদের একটি আঞ্চলিক সহযোগিতার ফোরাম গঠন করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। 

কারণ নদীর উৎপত্তি নেপালে, তারপর ভারতের ওপর দিয়ে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে সাগরে গিয়ে মিশে। এখানে কয়েকটি দেশ জড়িত। অতএব সবাই মিলে যদি আমরা একটা আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা দাঁড় করাতে পারি তাহলে সবার জন্যই এটি সুবিধা হবে বলে আমি মনে করি। 

ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য  ড. মো. আওলাদ হোসেন বলেন, এক সময় এই ঢাকার মধ্যেই অনেক পালতোলা নৌকা চলাচল করত। একসময় ঢাকা গড়েই উঠেছিল নদীকে কেন্দ্র করে। নদী পথে পণ্য পরিবহন করা যায় কম খরচে। তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই আমদের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় নদীকে রক্ষা করতে হবে। 

দৈনিক সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, আমাদের নদী বাঁচাতে হলে যা যা করা দরকার তা আমাদের করতে হবে। আমরা এটাও আশা করি আমাদের এই সরকারের সময়ই অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের নদীর যে হিস্যা রয়েছে তার সমাধান হবে। 

নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামসের সভাপতিত্বে এ সময় সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা  উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন:

৩০ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর দখলে শীতলক্ষ্যার তীর: ড. মজিবর রহমান
মেঘনা নদীতে শিল্প–কারখানার বর্জ্য, মরে ভেসে উঠছে মাছ
চাঁদপুরের এক নারী মন্ত্রী নদী দখলে সহায়তা করেন: কমিশনের চেয়ারম্যান
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদকে অপসারণ

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২১ কিলোমিটারজুড়ে যানজট 

    শঙ্খ নদীর দূষিত পানিই ভরসা কানাজিও পাড়ার অর্ধশতাধিক পরিবারের

    কারাগারে বন্দী মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামির মৃত্যু

    কাজ শেষের ২০ দিনেও মজুরি পাননি ইজিপিপির ২৮১৪ শ্রমিক, ঈদের আনন্দ মাটি

    টেকনাফে খুনের বদলা নিতে যুবককে কুপিয়ে হত্যা 

    শনিবার থেকে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে বেনজীরের সাভানা পার্ক

    পশুর হাটে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেল দুটি গরু, শিশুসহ আহত খামারি

    ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২১ কিলোমিটারজুড়ে যানজট 

    জাপানি ব্যান্ডের মিউজিক ভিডিও নিয়ে আপত্তি, কোক স্টুডিও থেকে প্রত্যাহার

    ঘরে বসেই কোরবানির পশু কেনা যাবে নগদে

    ঈদের আগমুহূর্তে জমজমাট ওয়ালটন ফ্রিজের বিক্রি

    বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায়, সুপার এইটে যুক্তরাষ্ট্র