মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

সেকশন

 

অনাগত সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে—জানিয়ে বিপদে ভারতীয় ইউটিউবার

আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ১৮:২৯

স্ত্রীর সঙ্গে অভিযুক্ত ইউটিউবার ইরফান। ছবি: সংগৃহীত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তানটি ছেলে নাকি মেয়ে, তা জন্মের আগেই জানিয়েছিলেন ভারতীয় ইউটিউবার ইরফান শারদ। তবে এই ঘোষণায় এবার বিপদে পড়েছেন তিনি। কারণ ভারতে জন্মের আগে সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় জানা নিষিদ্ধ। 

এই বিষয়ে আজ বুধবার এনডিটিভি টিভি জানিয়েছে, ভারতে নিষিদ্ধ হওয়ায় সন্তানের লিঙ্গ জানার জন্য সম্প্রতি দুবাই গিয়েছিলেন ইরফান এবং তাঁর স্ত্রী। ইরফান মূলত খাবারের ভ্লগ তৈরি করেন। তাঁর ইউটিউব চ্যানেলটি বিপুল জনপ্রিয়। বর্তমানে তাঁর চ্যানেলে ৪২ লাখ ৯০ হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছে। 

সম্প্রতি একটি ভিডিওতে অনাগত সন্তানের লিঙ্গ কী, তা ফাঁস করেন ইরফান। এ সময় ভিডিওতে একটি ডাক্তারি পরীক্ষার ফুটেজও দেখান তিনি। ওই ভিডিওটি পরে প্রায় ২০ লাখ ভিউ হয়েছে। 

অনাগত সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় ফাঁস করা ভারতে শুধু নিষিদ্ধই নয়, এর জন্য সুনির্দিষ্ট শাস্তিরও বিধান রয়েছে। ভারত সরকার এমন পদক্ষেপ নিয়েছে, যেন লিঙ্গগত কারণে কোনো শিশু গর্ভপাতের শিকার না হয়। এক সময় দেশটিতে অসংখ্য বাবা-মা তাঁদের কন্যাশিশুটিকে গর্ভে থাকা অবস্থায় নষ্ট করে ফেলতেন। এর ফলে ভারতের জনসংখ্যায় লিঙ্গ ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। পরে ১৯৯৪ সালে জন্মের আগে শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে একটি আইন চালু করা হয়। ওই আইনেরই আওতায় এবার ইউটিউবার ইরফান শারদকে একটি নোটিশ পাঠিয়েছে তামিল নাড়ুর স্বাস্থ্য বিভাগ। 

ইরফানকে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে—আইনি ব্যবস্থা হিসেবে প্রয়োগকারী কর্মকর্তা জনাব ইরফানকে একটি নোটিশ পাঠিয়েছেন। এই ধরনের পদক্ষেপ শুধুমাত্র তামিলনাড়ুতে নয়, সারা দেশেই কন্যা সন্তানের জন্ম হ্রাস করতে পারে। 

তামিল নাড়ুর স্বাস্থ্য বিভাগ ভিডিওটি ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম থেকে মুছে ফেলার জন্য সাইবার নিরাপত্তা উইং এবং পুলিশের কাছেও চিঠি দেয়। তবে ইউটিউবার ইরফান শারদ জানান, তিনি ইতিমধ্যেই ভিডিওগুলো সরিয়ে নিয়েছেন। আর স্বাস্থ্য বিভাগের নোটিশ হাতে পৌঁছালে, তিনি এটির জবাব দেবেন। 

এদিকে সরিয়ে নেওয়ার আগে ইরফানের ভিডিও দেখে অনেকেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কেউ কেউ আবার বিষয়টিকে একটি বাজে অনুশীলন হিসেবে আখ্যা দেন। তারা বলেন—সন্তানের লিঙ্গ জানার জন্য দম্পতিদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বাড়াতে পারে ভিডিওটি। 

জানা যায়, কন্যাসন্তানের ভ্রূণ নষ্ট করে দেওয়ার প্রবণতা ভারতে একসময় পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছিল। ২০০৫ সালের একটি জরিপে দেখা যায়—দেশটিতে ১ হাজার পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা ছিল ৮৭৬ জন। তবে সরকার কন্যাশিশুকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য দেশজুড়ে লিঙ্গ পরিচয় জানানো আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। ২০১৮ সালের জরিপে এই উন্নতি চোখে পড়েছিল। সেবার ভারতের সংসদে উপস্থাপন করা একটি পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছিল, ১ হাজার জন পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা কিছুটা বেড়ে ৯০৭ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে তামিল নাড়ুর উন্নতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এই রাজ্যে ২০১৯ সালে ১ হাজার পুরুষের বিপরীতে নারী ছিল ৯৪২ জন।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     

    বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক নিয়ে মোদিকে কড়া ভাষায় মমতার চিঠি

    হিন্দু নামে জাল নথি বানিয়ে গুজরাটে গ্ৰেপ্তার বাংলাদেশি মুসলিম যুবক

    ভারত-বাংলাদেশ আলোচনা থেকে বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ মমতা

    দিল্লির রাস্তায় চন্দ্রিকার দৈনিক আয় ৫৬ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায় 

    পরকীয়ার জেরে ডেপুটি পুলিশ সুপার হলেন কনস্টেবল

    তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামীদের মৃত্যুদণ্ডের হুমকি চীনের

    জামিনে মুক্তি পেলেন যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী পাপিয়া

    অস্ট্রেলিয়াকে অপেক্ষায় রেখে সেমিতে ভারত

    পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

    যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচার প্রতিবেদনে বাংলাদেশ আগের অবস্থানেই, বেড়েছে প্রচেষ্টা

    ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়ে মালদ্বীপে ১৮ লাখ নতুন পর্যটক, পেছনে পড়ল সেশেলস 

    শরীফার গল্প: জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের মত নিয়ে নতুন গল্প যুক্ত করার নির্দেশ