মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

সেকশন

 

মিয়ানমার জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দিচ্ছেন পশ্চিমা স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধারা

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪, ১২:৫০

মিয়ানমারের সশস্ত্র প্রতিরোধে যোগদানকারী বিদেশি স্বেচ্ছাসেবী মার্কিন নাগরিক আজাদ (বায়ে)। ছবি: পিডিএফ জোল্যান্ডের সৌজন্যে মিয়ানমার জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাঝে বিদেশি যোদ্ধারাও আছেন। সংখ্যাটি খুব বড় না হলেও তা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এদের মধ্যেই আছেন প্রাক্তন এক ব্রিটিশ সেনা এবং একজন মার্কিন যোদ্ধা। বিদ্রোহীদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় যুদ্ধে যোগ দেওয়া এই পশ্চিমা যোদ্ধারা বলেছেন, তিন বছরেরও বেশি আগে মিয়ানমার জেনারেলরা ক্ষমতা দখল করেন। এরপর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করা মিয়ানমারের প্রতিবাদকারীদেরও হত্যা করা হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম নির্মম ও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ সংগ্রাম দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েই তারা জান্তাবিরোধীদের পক্ষে লড়তে এসেছেন।

২০০৯ থেকে চার বছর ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে পদাতিক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জেসন (ছদ্মনাম)। আফগানিস্তানেও সাত মাস ছিলেন তিনি। জেসন বলেন, মিয়ানমারে জানত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে আট সপ্তাহ সম্মুখ সারিতে থেকে লড়ার পর গত এপ্রিলের শেষ দিকে পূর্ব মিয়ানমার থেকে দেশে ফেরেন। তিনি বলেন, ‘জান্তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মতাদর্শ অনেকটাই—হয় সব নয়তো কিছুই নয়। জান্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে তারা মরতেও প্রস্তুত ছিল।’

জেসনের মতে, তিনি বেশির ভাগ জায়গায় যেমন মনোভাবের সেনা দেখেছেন মিয়ানমারের প্রতিরোধ যোদ্ধারা তেমন নন। তাদের চোখে ভয় নেই। তারা সাহসী মানুষ।

জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কয়েক দশক ধরেই সামরিক বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে। বিদেশি স্বেচ্ছাসেবকরাও কখনো কখনো সাহায্য করেছেন। এসব লড়াই হয়েছে প্রধানত সীমান্ত অঞ্চলে। কিন্তু ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর এ লড়াই সীমান্ত থেকে কেন্দ্রে চলে আসে।

মিয়ানমার জান্তার বিরুদ্ধে রাশিয়া নির্মিত যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে নির্বিচার হামলা চালিয়ে বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব ঘটনাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

জেনারেলরা তবুও বিদ্রোহ দমন করতে পারেনি। প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো জান্তার বিপুল ক্ষয় সাধন করেছে এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বড় অংশের। জনসাধারণের দান এবং গত বছর প্রায় হাজারখানেক অপারেশন চালিয়ে বিশাল সংখ্যক অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। বিদেশিদের সহায়তা ছাড়াই জান্তা সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে তারা।

ইউক্রেন কিংবা সিরিয়া যুদ্ধের মতো মিয়ানমারে বিদেশি স্বেচ্ছাসেবীদের ঢল দেখা যায়নি। বিদেশিদের নিয়োগের জন্য নেই কোনো সমন্বিত প্রচেষ্টা। তবে মিয়ানমার জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মোট সংখ্যা এখনো পরিষ্কারভাবে জানা না গেলেও তা অবাক করার মতো হতে পারে বলে অনুমান করছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। পূর্ব মিয়ানমারে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে জেসনের ফুটেজ ও ছবি দেখেছে সংবাদমাধ্যমটি। এ ছাড়া, দুটি সূত্র তাকে যুদ্ধক্ষেত্রেও দেখেছে।

রাশিয়ার আক্রমণ শুরু হওয়ার পরপরই প্রাক্তন এই ব্রিটিশ সেনা ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন। তারপর প্রায় দেড় বছর দেশে কাটিয়েছেন তিনি। জেসন বলেন, ‘আমি ভাড়াটে যোদ্ধা নই। যে পক্ষকে সঠিক বলে মনে করি তাদের জন্য যুদ্ধ করি। আমার এই উদ্বেগ আছে যে, নির্বোধদের কারণে মিয়ানমার হতে পারে পরবর্তী ইউক্রেন।’

একটি নামহীন প্রতিরোধ বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন জেসন। বিদ্রোহীদের সাহায্য করতে তিনি এখন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬ থেকে ১০ জন প্রাক্তন সেনাদের নিয়ে একটি দল গঠনের পরিকল্পনা করেছেন।

জেসন বলেন, ‘আমাদের কাছে চারটি ভিন্ন সেনাবাহিনীর জ্ঞান রয়েছে যা আমরা তাদের শেখাতে পারি। তারা শুধু তাদের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র চায়। আমরা আমাদের নিজস্ব দল নিয়ে বিদ্রোহীদের শ্বেতাঙ্গ ত্রাণকর্তা সাজতে চাই না। আমরা নিজেরা আলাদা দল গড়ার চেয়ে তাদের অধীনে কাজ করতে চাই।’

মিয়ানমারের অন্য পাশে ভারতের সীমান্তবর্তী চিন রাজ্যে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স জোল্যান্ড (পিডিএফ জোল্যান্ড) নামের প্রতিরোধ গোষ্ঠী গত ১১ মে সামাজিক প্ল্যাটফর্মে একটি ছবি পোস্ট করেছে—যেখানে দুই বিদেশি স্বেচ্ছাসেবককে দেখা গেছে। এর মাঝে একজন মার্কিন স্বেচ্ছাসেবী আজাদ (ছদ্মনাম) এবং তার সঙ্গে আছেন একজন ব্রিটিশ স্বেচ্ছাসেবক।

আজাদ বলেন, তিনি স্নাইপার এবং পদাতিক কোর্স শেখানোর পাশাপাশি অন্যান্য সামরিক দায়িত্ব পালন করছেন। চিন রাজ্য থেকে তিনি বলেন, শহরগুলোতে জান্তা পিছু হটছে। পুরো গ্রামাঞ্চল মুক্ত হয়েছে। শিগগিরই কেন্দ্রের দখলও নিতে শুরু করবে প্রতিরোধ বাহিনী।

কুর্দি, আরব, খ্রিষ্টান এবং উত্তর সিরিয়ার অন্যান্য সংখ্যালঘুদের স্বায়ত্তশাসনের লড়াইকে একটি বৈশ্বিক সংগ্রামের অংশ হিসেবে দেখেন আজাদ। এর মধ্যে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরোধ এবং মিয়ানমারের বিপ্লবও রয়েছে।

মিয়ানমার জান্তা এবং রুশ সরকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং অস্ত্র সরবরাহের দিকে ইঙ্গিত করে আজাদ বলেন, এগুলো সবই অভিন্ন সংগ্রামের অংশ। তার মতে, সব সংগ্রামই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত বলে মিয়ানমারে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আসার সিদ্ধান্ত ছিল নৈতিকভাবে সম্পূর্ণ বৈধ।

আজাদ বলেন, ‘শূন্য থেকে শুরু করে দল গঠনের কয়েক বছরের ব্যবধানে যারা জান্তাকে পেছনের পায়ে ঠেলে দিতে পারে তাদের সম্পর্কে জানা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। এখানকার মানুষ অবিশ্বাস্য রকমের সাহসী। জান্তার ঘাঁটিগুলো দখলের সময় এরা বিনা দ্বিধায় নিজেদের অদ্ভুত সব প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে।’

বিদেশি স্বেচ্ছাসেবীদের বাইরে মিয়ানমারে খ্রিষ্টান মানবাধিকার গোষ্ঠী ফ্রি বার্মা রেঞ্জারস (এফবিআর) ১৯৯০ সাল থেকে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের তারা পূর্ব মিয়ানমারের জাতিগত রাজ্যগুলোতে নিয়ে যায় যেখানে সংখ্যালঘুরা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এই স্বেচ্ছাসেবকেরা বাস্তুচ্যুত মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্যগুলো রেকর্ড করেন। বিপজ্জনক পরিবেশে কাজ করতে হয় বলে তারা সঙ্গে অস্ত্রও রাখেন।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     

    ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়ে মালদ্বীপে ১৮ লাখ নতুন পর্যটক, পেছনে পড়ল সেশেলস 

    দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাটারি ফ্যাক্টরিতে বিস্ফোরণে নিহত অন্তত ২২

    ভারত-বাংলাদেশ আলোচনা থেকে বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ মমতা

    হজে তীব্র গরমে মারা গেছেন অন্তত ১৩০১ জন: সৌদি আরব

    হজযাত্রীদের মৃত্যু: মিসরের ১৬ ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

    তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামীদের মৃত্যুদণ্ডের হুমকি চীনের

    জামিনে মুক্তি পেলেন যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী পাপিয়া

    অস্ট্রেলিয়াকে অপেক্ষায় রেখে সেমিতে ভারত

    পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

    যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচার প্রতিবেদনে বাংলাদেশ আগের অবস্থানেই, বেড়েছে প্রচেষ্টা

    ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়ে মালদ্বীপে ১৮ লাখ নতুন পর্যটক, পেছনে পড়ল সেশেলস 

    শরীফার গল্প: জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের মত নিয়ে নতুন গল্প যুক্ত করার নির্দেশ