শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

সেকশন

 

দশ গম্বুজ মসজিদটি মাটির নিচেই রয়ে গেল এক যুগ

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪, ১০:৪১

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরীক্ষামূলক খননে ঐতিহাসিক খানজাহান আলী মসজিদের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে দেওয়া হয় সাইনবোর্ড। আজকের পত্রিকা খুলনার ফুলতলা উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থান পায়গ্রাম কসবা গ্রামের ভাটপাড়া খেয়াঘাটের। ভৈরব নদের এই খেয়াঘাটের পাশেই এক যুগ আগে সন্ধান মেলে সুলতানি আমলের হজরত খানজাহান আলী (রহ.) নির্মিত দশ গম্বুজ মসজিদের।

২০১১ সালে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পরীক্ষামূলক খননকাজ করে প্রাচীন ও ঐতিহাসিক এই স্থাপনার সন্ধান পায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। কিন্তু পরে সংরক্ষণের কাজ আর এগোয়নি। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে মাটির নিচে চাপা পড়া ঐতিহাসিক নিদর্শনটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সতীশচন্দ্র মিত্রের ‘যশোর ও খুলনার ইতিহাস’ গ্রন্থ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ শতকে খানজাহান আলী বাগেরহাট ও খুলনায় দুটি শহর প্রতিষ্ঠা করে ওই অঞ্চল শাসন শুরু করেন। শাসনকালে অনেক মসজিদ ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করেন তিনি। এই দশ গম্বুজ মসজিদও তাঁর তৈরি বলেই প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ওই স্থানে নতুন মসজিদ নির্মাণের সময় পুরোনো একটি স্থাপনা দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সেখানে খননকাজ চালালে প্রাচীন মসজিদটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। পুরো মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৫০ দশমিক ৫ ফুট, প্রস্থ ১৮ দশমিক ১০ ফুট।

খননের সময় পাওয়া ধ্বংসাবশেষ পর্যালোচনা করে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা জানান, দশ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি ষাট গম্বুজ মসজিদের অনুরূপ নকশা করে নির্মাণ করা হয়েছিল। মনে করা হয়, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মূল মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রাচীন মসজিদের ওপর একটি আধা পাকা মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল।

গত সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের খনন করা অংশটি সম্পূর্ণ মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। প্রায় এক যুগ ধরে স্থানটি এভাবেই পড়ে আছে। দীর্ঘ সময়েও এটি সংরক্ষণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে পাশেই এলাকাবাসীর উদ্যোগে টিনশেডের একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।

জোহরের নামাজ পড়তে আসা আমীর আলী (৯২) বলেন, ‘যেখানে স্থাপনাটি পাওয়া গেছে, সেখানে বেশ আগেই মাটির একটি ঢিবি ছিল। ওই ঢিবির ওপর একটি আধা পাকা মসজিদ ছিল হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর নামে। সেখানে বড় একটি কষ্টিপাথরও রাখা ছিল, যেটি পরে চুরি হয়ে যায়।’

আমীর আলী আরও জানান, ২০১১ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর স্থানটি খনন করে যে স্থাপনা শনাক্ত করে, পরে সেটি মাটি চাপা দিয়ে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে চলে যান কর্মকর্তারা। এরপর আর কোনো অগ্রগতি নেই।

ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার বলেন, ‘প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর দায়সারা কাজ করে চলে গেছে। মসজিদটি সংস্কার করে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারিভাবে উদ্যোগ নিলে স্বাগত জানাব।’

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে ওই মসজিদের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ওয়েবসাইট ঘেঁটে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক গোলাম ফেরদাউস জানান, ২০১০-১১ অর্থবছরে মসজিদটির খননকাজ করা হয়। প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উন্মোচিত মসজিদটি সুলতানি স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। মসজিদটির নির্মাণকাল ১৫ শতক বলে মনে করা হয়। এটি ২০১৪ সালে পুরাকীর্তির তালিকায় গেজেটভুক্ত হয়।

জানতে চাইলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, অদূর ভবিষ্যতে স্থাপত্যকীর্তিটির সংস্কারকাজ করা হবে। তবে পুরাকীর্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো উচিত বলে তিনি মনে করেন।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    যশোরে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ১ জন গ্রেপ্তার

    ভোমরা স্থলবন্দরে ৮ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

    ঈদে বন্ধ থাকবে বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলাচল

    জুমার নামাজ পড়াতে যাওয়ার পথে ট্রাক চাপায় ইমামের মৃত্যু

    চুক্তির মেয়াদ শেষ, ঝুলে আছে সেতু

    আলোকচিত্রে ফুটে উঠল রোহিঙ্গাদের সক্ষমতা

    অবরুদ্ধ গাজায় কোকা-কোলার ফ্যাক্টরি, মালিক কে

    সুন্দর ত্বক পেতে খাদ্যতালিকায় যেসব খাবার রাখবেন

    পাকুন্দিয়ায় ১০ মিনিটে ১১০টি চারা রোপণ করে বর্ষাকে বরণ 

    বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হলেন বেবী নাজনীন 

    লিংকডইনে এআই দিয়ে কভার লেটার তৈরি করা যাবে

    যশোরে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ১ জন গ্রেপ্তার