বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

সেকশন

 

গবাদিপশুর বেহাল চিকিৎসা: নামেই প্রাণী হাসপাতাল

আপডেট : ০৪ মে ২০২৪, ০৯:৪১

ফাইল ছবি দেশে প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন বাড়লেও প্রাণীর চিকিৎসাসেবায় অগ্রগতি নেই। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অধিকাংশ হাসপাতালই জীর্ণ। আধুনিক যন্ত্রপাতি, চিকিৎসক, ওষুধের সংকট তীব্র। ফলে প্রাণী হাসপাতাল থেকে তেমন সুফল পাচ্ছেন না গবাদিপশুর মালিক ও খামারিরা।

খামারিদের অভিযোগ, প্রাণী হাসপাতালে গবাদিপশুর চিকিৎসাসেবা নামে মাত্র। অনেক জেলা-উপজেলায় চিকিৎসকের দেখা মেলে না। অধিকাংশ প্রাণী হাসপাতালে গবাদিপশুর রোগ নির্ণয় করে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হলেও ওষুধ দেওয়া হয় না। জনবল ও ওষুধের সংকট থাকার কথা স্বীকার করে কর্তৃপক্ষ বলছে, চাহিদার তুলনায় ওষুধ সরবরাহ কম থাকায় সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয় না।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল আজিজ আল মামুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, দেশের ৬৪ জেলায় প্রাণী হাসপাতাল আছে। উপজেলা পর্যায়েও চিকিৎসক আছেন। তবে জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের প্রাণী হাসপাতালগুলোতে জনবলকাঠামো অনুপাতে এক-তৃতীয়াংশ চিকিৎসক নেই। স্টাফ পর্যায়েও অর্ধেকের মতো পদ খালি। তিনি জানান, প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধের বরাদ্দও অনেক কম। 

চিকিৎসকের দেখা মেলে না 
গবাদিপশুর স্বাস্থ্য নিয়ে খামারিরা আগের চেয়ে সচেতন হলেও প্রাণী হাসপাতালে গিয়ে তেমন সুফল পান না। জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার থুপসারা মহল্লার খামারি জাহাঙ্গীর আলম জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরসংলগ্ন মহল্লায় তাঁর বসবাস। তাঁর খামারে ২০টি গরু এবং শতাধিক হাঁস-মুরগি, কবুতর আছে। স্থানীয় প্রাণী হাসপাতালে গিয়ে ভালো সেবা পান না। চাহিদামতো ওষুধ পান না। গাভীর প্রজননের জন্য হাসপাতালে গিয়ে অধিকাংশ সময় প্রজনন কর্মকর্তার দেখা পাননি। জয়পুরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. এস এম খুরসিদ আলম জানান, জনবলের অভাবে খামারিরা কাঙ্ক্ষিত ও দ্রুত সেবা পাচ্ছেন না।

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে সম্প্রতি এক দিন দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেও সেবাপ্রার্থী কোনো খামারির দেখা মেলেনি। উপজেলার বলিপাড়ার খামারি বাবলু জানান, তিনি ভেটেরিনারি হাসপাতাল থেকে কখনো কোনো সহায়তা পাননি। গরুর কোনো সমস্যা হলে পরিচিত স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করান। খাগড়াছড়ি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জওহর লাল চাকমা বলেন, ‘জনবলসংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। যে পরিমাণ ওষুধ পাই, দুই-চারটি পশুর চিকিৎসা দিলে আর থাকে না।’

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা এলাকার আলিমুজ্জামান বলেন, ঠিকমতো সেবা পাওয়া যায় না। প্রায়ই এসে শোনা যায়, কর্তব্যরত চিকিৎসক নেই। 
বগুড়ার ধুনট উপজেলার খামারি শাহীন রেজা জানান, গত রোববার রুগ্‌ণ গরু নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা বসে থেকেও চিকিৎসক পাননি। একপর্যায়ে অফিস চত্বরেই গরুটি মারা যায়। বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ধুনটে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। কারণ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ছয় মাস আগে বদলি হলেও সেখানে নতুন কাউকে পদায়ন করা হয়নি। 

সেবা শুধু ব্যবস্থাপত্রে
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের কৃষক আল আমিন বলেন, অসুস্থ গবাদিপশু নিয়ে হাসপাতালে গেলে একটি ব্যবস্থাপত্র দিয়েই বিদায় করা হয়। কোনো ওষুধ মেলে না।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে হোসেনপুর উপজেলার চরপুমদী এলাকার ইসমাইল গিয়েছিলেন বাছুর নিয়ে। তিনি বলেন, ‘আমার বাছুরটি দুই দিন যাবৎ খাওয়াদাওয়া করত না। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর বাছুরটির জ্বর মেপে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছে। এখন ওষুধ কিনে খাওয়াব।’

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ হাবিব বলেন, ‘বিভিন্ন রকমের ওষুধের সংকট রয়েছে। আমরা চাইলেও উপযুক্ত সেবা দিতে পারছি না।’ 
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার রহিমা খাতুন গত রোববার দুটি ছাগলের চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন প্রাণী হাসপাতালে। তিনি বলেন, ‘ছাগল দুটি ঠিকমতো খায় না, তাই নিয়ে এসেছি। হাসপাতালের লোকেরা ওষুধ লিখে দিলে বাহির থেকে ২৬০ টাকায় কিনে আনতে হয়েছে।’

একই চিত্র দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাণী হাসপাতালেরও। পৌর এলাকার উত্তর সুজাপুরের আতিয়ার সরকার, ছামছুন্নাহারসহ কয়েকজন জানান, গরু-ছাগল নিয়ে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বলেন।

লালমনিরহাটে গবাদিপশু-পাখির রোগ নির্ণয়ের জন্য ল্যাব থাকলেও টেকনেশিয়ানের অভাবে কোনো কাজে আসছে না। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় ল্যাবের যন্ত্রপাতি ও কিট নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি হাসপাতালে ৭০ শতাংশ জনবলের সংকট আছে। জেলা প্রাণী হাসপাতালে ভেটেরিনারি সার্জনের একটিসহ সাতটি পদে আছেন চারজন। অফিস সহকারীর সাতটি পদই শূন্য থাকায় একজন উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকেই কাজ চালাতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) সভাপতি মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘সরকার ওষুধ, ভ্যাকসিন ও কৃমিনাশকের বরাদ্দ দেয়। কয়জন খামারি আজ পর্যন্ত এসব পেয়েছেন, আমার জানা নেই। খামারিরা বিপদের সময় সরকারি চিকিৎসককে ডেকেও পান না। দেশের পশু চিকিৎসার অগ্রগতি কেবল কাগজ-কলমে।’

[প্রতিবেদনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন আজকের পত্রিকার সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা]

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    সেক্টর কমান্ডার কে এম সফিউল্লাহ গুরুতর অসুস্থ

    সাবধানে মাংস কাটাকাটি করতে অনুরোধ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    আরও ছয় হাজার ডাক্তার নিয়োগ করা হবে: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেশের কোনো সরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবের আন্তর্জাতিক সনদ নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে সিঙ্গাপুরে বেনজীর 

    ঘূর্ণিঝড় রিমাল

    উদ্ধারকাজে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে ফায়ার ফাইটারের মৃত্যু

    ঈদের ছুটি শেষেও ঢাকা ছাড়ছে মানুষ

    চিলমারীতে ঝড়ে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

    পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া একেবারে বন্ধ হয়ে আছে: সন্তু লারমা

    ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে গিয়ে যা যা করবেন প্রধানমন্ত্রী

    ঢল ও বৃষ্টিতে বাড়ছে শেরপুরের নদ-নদীর পানি

    বাগেরহাটে মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু