শনিবার, ২২ জুন ২০২৪

সেকশন

 

‘সিগারেটের দাম-শুল্ক বাড়ালে রাজস্ব বাড়বে ১০ হাজার কোটি টাকা’

আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ২১:০৬

রাজধানীর ইস্কাটনে অবস্থিত বিয়াম মিলনায়তনে ‘সিগারেটের ওপর কার্যকর করারোপ’ বিষয়ক জাতীয় সংলাপ। ছবি: আজকের পত্রিকা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো এবং নিম্নমানের সিগারেটের সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৬৩ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান উন্নয়ন সমন্বয়। এতে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে ১০ হাজার কোটি টাকা, যা আগের চেয়ে ২৮ শতাংশ বেশি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে অবস্থিত বিয়াম মিলনায়তনে ‘সিগারেটের ওপর কার্যকর করারোপ’ বিষয়ক জাতীয় সংলাপের আয়োজন করে উন্নয়ন সমন্বয়। সেখানে করারোপ ও দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা ও সুফল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের খুচরা মূল্য যথাক্রমে ৩৩ শতাংশ, ১৯ শতাংশ, ১৫ শতাংশ ও ১৩ শতাংশ বাড়ানো এবং শুধু নিম্নমানের সিগারেটের শুল্কহার ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৬৩ শতাংশ করার সুপারিশ জানিয়েছে উন্নয়ন সমন্বয়। 

তামাকবিরোধী সংগঠনের পক্ষে উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণা পরিচালক আব্দুল্লাহ নাদভী সিগারেটে কার্যকর করারোপের বিষয়ে প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরেন। এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্যরা। 

উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মান্নান। সংলাপে অংশ নেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার, ঢাকা-১০ আসনের ফেরদৌস আহমেদ, সংরক্ষিত মহিলা-৭ আসনের জারা জাবীন মাহবুব, জামালপুর-৪ আসনের আব্দুর রশিদ এবং রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ।

সংস্থাটি বলছে, প্রস্তাবিত দর ও শুল্কারোপ করা হলে সরকার অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। সিগারেট ব্যবহারের হার ১৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ হবে। উচ্চ দামের কারণে ১৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধূমপান ছাড়বেন। ১০ লাখ তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবেন। আর দীর্ঘ মেয়াদে ১১ লাখ অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। 

সংলাপে প্রধান অতিথি এম এ মান্নান বলেন, ‘সিগারেটের দাম ও শুল্ক বাড়ানোর উদ্দেশ্য ভালো, তাই ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমরা সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। তাঁদের জন্যই কাজ করি। সামনের বাজেটকে কেন্দ্র করে আমরা এ বিষয়ে সোচ্চার থাকার চেষ্টা করব।’ 

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যক্তি আসক্ত হয় তামাকের প্রতি, আর সরকারের আসক্তি রাজস্বের প্রতি। ২০৪০ সালের মধ্যে সরকারের তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। সরকার এটা থেকে বেরিয়ে আসবে।’ 

স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘আগামী বাজেটে সিগারেটের ওপর করারোপের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে মনে করি। কারণ, এই বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা নিজেদের সম্পদ কতটা সমাবেশ করতে পারি।’ 

তিনি বলেন, ‘প্রবৃদ্ধির দৌড়ে আমরা উপমহাদেশের মধ্যে সফল। এটা ধরে রাখার জন্য সম্পদ প্রয়োজন। এটা নিজস্ব হলে ভালো।’ 

প্রস্তাবিত হারে দাম বৃদ্ধি ও শুল্কারোপের উপকারিতা তুলে ধরে আতিউর রহমান বলেন, ‘এটা বাস্তবায়ন করা হলে সিগারেটের কর থেকে আমরা আরও ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করতে পারব। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করলে এর উপকারিতা আরও বেশি। কারণ, দাম বাড়লে সিগারেটের ভোগ কমে যাবে। এতে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট রোগবালাই কমে যাবে। এ জন্য স্বাস্থ্য খাতে সরকারের ব্যয় কমে যাবে।’ 

ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর সিগারেট থেকে সরকারের রাজস্ব আসে ২২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অথচ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা বাবদ সরকারের খরচ হয় ৩০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশের বেশি।’ 

সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘সিগারেটে ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ কর বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।’ 
 
সিগারেট খাওয়া নিরুৎসাহিত করার পরামর্শ দিয়ে ফেরদৌস বলেন, ‘টরন্টোতে ১৮ বছরের কম বয়সীরা সিগারেটের দোকানে ঢুকতে পারে না। আমাদের দেশেও খুচরা বিক্রি বন্ধ করতে হবে।’ 

সংসদ সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ওহে তোমরা ধূমপান করিও না—এই ধরনের মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম এটা নয়। আগামী বাজেটে আমরা সরকারকে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব দিতে চাই। এর প্রক্রিয়া এখান থেকেই শুরু হতে পারে।’ 

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, সিগারেটের দাম ও শুল্ক বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকের সহজলভ্যতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তা ছাড়া এসব উদ্যোগ খুব বেশি কাজে আসবে না।’ 

তিনি বলেন, সিগারেটের দাম ও শুল্ক বাড়ানো সাময়িক প্রক্রিয়া। এটা সিগারেটবিরোধী আন্দোলন সফল করতে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

সম্পূরক আলোচনায় অংশ নিয়ে ইউসিএসআই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক গোলাম আহমেদ ফারুকী বলেন, উপমহাদেশের মানুষ মূল্য সংবেদনশীল। সিগারেটের দাম মানুষের আওতার বাইরে নিয়ে গেলে খেতে চাইবে না। 

বুয়েটের মানবিক বিভাগের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘অর্থনীতির সূত্র বলে, অস্থিতিস্থাপক পণ্য বা সিগারেটের দাম বাড়ালে রাজস্ব বাড়বে। সে ক্ষেত্রে অবৈধভাবে সিগারেট বিক্রির প্রবণতা বেড়ে যাবে। নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    এনআরবিসি ব্যাংকের এজিএম ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত 

    বার্জার পেইন্টস এবং এডিসন রিয়েল এস্টেটের সমঝোতা চুক্তিস্বাক্ষর

    মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতনও বাড়ছে, এটা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিরই ফল: এমএ মান্নান

    বাজেট করেই কেনাকাটায় জোর

    অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির ঘা, ৬ শতাংশের কম প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের

    বাজেট ২০২৪–২৫

    সেবায় মূসক সুবিধা বহাল রাখার দাবি টোয়াবের

    রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদ্রাসাছাত্র তামিম

    নবীজির রওজা জিয়ারতে আদব

    চোখের স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব

    ভারতের সঙ্গে চুক্তির আগে দেশের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে

    বর্ষায় শাক খাওয়ায় সতর্কতা

    এ সময়ের কাঁঠাল