রোববার, ১৬ জুন ২০২৪

সেকশন

 

প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে নাকাল গৃহপালিত ও বন্যপ্রাণীরা

আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ১৪:৫৫

উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পদ্মার চরে কাদামাটিতে খাবারের সন্ধান করছে কিছু শামুকখোল পাখি। ছবি: আজকের পত্রিকা কয়েক দিনের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে মানুষের পাশাপাশি নাকাল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গৃহপালিতসহ বন্যপ্রাণীরাও। বৃষ্টির অভাবে পানি শুকিয়েছে নদী-নালার। এতে খাবার ও পানিসংকট দেখা দিয়েছে বন্যপ্রাণীর। গৃহপালিত প্রাণীদেরও গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা।

এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তি উদ্যোগে বন্যপ্রাণীদের খাবার ও পানি নিশ্চিতের পরামর্শ দিচ্ছেন পরিবেশকর্মীরা। এদিকে উপজেলা বন বিভাগ বলছে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য তারা একটি অভয়ারণ্যের প্রস্তাব দিয়েছে। এর বাস্তবায়ন হলে এসব প্রাণী রক্ষায় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

এদিকে গৃহপালিত প্রাণীদের সুস্থ রাখতে প্রতিনিয়ত খামারিদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করে পরামর্শ দিচ্ছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গৃহস্থালি ও বন্যপ্রাণীদের দুর্দশার কিছু চিত্র চোখে পড়ে।

বৈশাখের তপ্ত রোদে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পানিশূন্য পদ্মার কাঁদায় শামুক খুঁজছিল একদল শামুকখোল পাখি। কদিন আগে এখানে দুটি পাখি মারা গেছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, নদীর এই স্থানে প্রতিবছর পানি থাকে। এবার খরার মাত্রা বেশি থাকায় পানি শুকিয়ে গেছে। এতে খাবারের সংকট দেখা দেওয়ায় পাখিদের আনাগোনা কমেছে।

স্থানীয় আলোকচিত্রী ও পাখিপ্রেমী তন্ময় তাহসান সবুজ জানান, পাখিদের সঙ্গে চার বছরের সম্পর্কে এমন করুণ পরিস্থিতি আগে দেখেননি। একদিকে তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে নদী-নালায় পানি না থাকায় বিপাকে পড়েছে এসব প্রাণী।

তপ্ত রোদে জড়সড় হয়ে জমিতে বসে আছে কিছু পাখি। ছবি: আজকের পত্রিকা কুষ্টিয়ার পরিবেশকর্মী ও বন্যপ্রাণীপ্রেমী সাহাব উদ্দিন মিলন বলেন, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে প্রাণীরা তাদের সঠিক খাবার ও পানি পাচ্ছে না। এতে তারা মারা যাচ্ছে এবং প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এখন উচিত ব্যক্তি উদ্যোগে এসব প্রাণীর খাবার ও পানি নিশ্চিত করা। এতে কিছুটা হলেও এদের কষ্ট লাঘব হবে।

বৈশাখের এই তপ্ত রোদে হাঁসফাঁস করছে কৃষকের যত্নে থাকা গৃহপালিত পশু-পাখিও। পর্যাপ্ত খাবার ও পানির ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এসব প্রাণী ভালো নেই বলে জানিয়েছেন দেলোয়ার হোসেন নামের এক খামারি। বাড়ির আঙিনায় দুটি গরু, পাঁচটি ছাগল ও ১০টি মুরগির ছোট খামার তাঁর। রোদের তাপে পশুর ঘরে ফ্যানের ব্যবস্থা, গা ধোয়ানোসহ সব ধরনের পরিচর্যা করেন তিনি। তবু গরমে ছটফট করছে তার পশু-পাখিগুলো।

প্রচণ্ড খরায় শুকিয়ে যাওয়া নদীতে ঘাস খাচ্ছে ঘোড়া। ছবি: আজকের পত্রিকা এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ থেকে গৃহপালিত প্রাণীদের যত্নে আমরা প্রতিদিন কাজ করছি। আমাদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। প্রতিদিন খামারিদের সঙ্গে উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণসহ নানা ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুবকর বলেন, ‘রোদের এই তাপের কারণে বন্য পশু-পাখির খুব কষ্ট হচ্ছে আমরা জানি। এদের রক্ষায় আমরা অভয়ারণ্য তৈরির জন্য ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহিরমাদি মৌজা এলাকায় জমির প্রস্তাব দিয়েছি। অনুমতি পেলে বড় ধরনের ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    রাজধানীর মহাখালীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে বাস চালকসহ ৪ জন

    কেন্দ্রীয় কারাগারের এক আসামির ঢামেকে মৃত্যু

    সাভারে উত্তরবঙ্গমুখী সড়কে বেড়েছে শেষ মুহূর্তের চাপ

    পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী কেরানীগঞ্জ গিয়ে নিখোঁজ

    কোরবানির জন্য লালন করা গরু নিয়ে বিপাকে খামারিরা

    টিসিবির পণ্যের সংকট, খালি হাতে ফেরত গেলেন ২ ইউনিয়নের ৭ হাজার মানুষ

    রাজধানীতে ঈদের দিন হতে পারে বৃষ্টি

    রাজধানীর মহাখালীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে বাস চালকসহ ৪ জন

    কেন্দ্রীয় কারাগারের এক আসামির ঢামেকে মৃত্যু

    সুদের টাকা দিতে না পারায় কৃষকের ষাঁড় নিয়ে গেল দাদন ব্যবসায়ীরা

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা দশে রিশাদ

    ‘তুফান’ সিনেমার ট্রেলার, শাকিব-চঞ্চলের সেয়ানে সেয়ানে লড়াইয়ের পূর্বাভাস