শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

সেকশন

 

লন্ডনের স্কুলে নামাজে নিষেধাজ্ঞা, হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে হেরে গেলেন মুসলিম শিক্ষার্থী

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২০:১১

লন্ডনের মিখায়েলা স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষ। ছবি: স্কুলের ওয়েবসাইট গত বছর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত মিখায়েলা কমিউনিটি স্কুলে নামাজসহ সব ধর্মীয় উপাসনা নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার জের ধরে গত মাসে ওই স্কুল ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন দুই মুসলিম ছাত্রী। তারও আগে স্কুলের ভেতর নামাজের ওই নিষেধাজ্ঞাকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন আরেক ছাত্রী। আজ মঙ্গলবার বিবিসি জানিয়েছে, আদালতের ওই চ্যালেঞ্জে শেষ পর্যন্ত হেরে গেছেন মুসলিম ওই শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক পর্যায়ের ওই স্কুলটিতে নামাজের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে ‘বৈষম্যমূলক’ দাবি করে হাইকোর্টে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন চ্যালেঞ্জকারী শিক্ষার্থী। এর আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টকে জানিয়েছিল—ধর্মীয় প্রার্থনার অনুমতি দিলে ধর্মনিরপেক্ষ একটি স্কুলের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

শেষ পর্যন্ত স্কুলের ভেতর নামাজে নিষেধাজ্ঞার পক্ষেই রায় দিয়েছেন আদালত। মিখায়েলা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক ক্যাথরিন বিরবলসিং বলেছেন, ‘এই রায় সব স্কুলের জন্য বিজয়।’

মুসলিম শিক্ষার্থীর চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দেওয়া ৮৩ পৃষ্ঠার এক রায়ে বিচারক লিন্ডেন জানান, চ্যালেঞ্জকারী খুব দুর্বলভাবে হলেও স্বীকার করেছেন, ধর্ম প্রকাশ করার ক্ষমতার ওপর বিধিনিষেধের শর্ত মেনেই তিনি স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনের ব্রেন্টে অবস্থিত মিখায়েলা কমিউনিটি স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭০০। শিক্ষার্থীদের অর্ধেকই আবার মুসলিম। গত বছর স্কুলটিতে ধর্মীয় উপাসনা নিষিদ্ধ করা হয়। তবে স্কুলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করলে আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

এদিকে আদালতের রায় ঘোষণার অপেক্ষা না করেই গত মাসে স্কুলটি ছেড়ে যান সারাহ ও সেলিনা নামে দুই মুসলিম শিক্ষার্থী। সে সময় তাঁরা বিবিসিকে জানিয়েছিলেন ইসলাম ধর্মে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। তাঁরা লাঞ্চ ব্রেকের সময় ৫ মিনিট সময় নিয়ে জোহরের নামাজ আদায় করতে চেয়েছিলেন।

প্রধান শিক্ষক ক্যাথরিন বিরবলসিং সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের স্কুলকে হাসিখুশি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ একটি ধর্মনিরপেক্ষ স্কুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। যেখানে সব বর্ণ, বিশ্বাস ও অন্যান্য গ্রুপ সামগ্রিক কল্যাণের জন্য আত্মত্যাগ করতে প্রস্তুত।

নিজের দাদি মুসলিম ছিলেন দাবি করে ক্যাথরিন জানান, ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ফলেই তাঁর স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। স্কুলে উপাসনা নিষিদ্ধ করার সঙ্গে ইসলাম ধর্মকে অপছন্দ করার কোনো সম্পর্ক নেই। কেবল স্কুলের নীতিমালা অনুযায়ী স্কুল পরিচালনা করতে গিয়েই ধর্মীয় উপাসনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     

    সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু দেখলেই ‘অলৌকিক ঘটনা’ বলা যাবে না, ভ্যাটিকানের নির্দেশিকা জারি

    স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় ভাইকিং সমাধিতে ‘আল্লাহ’ লেখা আংটি এল কী করে

    ক্ষতিকর উপাদান থাকায় এবার নেপালে নিষিদ্ধ ভারতের দুই ব্র্যান্ডের মসলা

    ইহুদি উপাসনালয়ে আগুন লাগানো ব্যক্তিকে হত্যা করেছে ফরাসি পুলিশ

    ভারতে স্কুলের নর্দমায় মিলল শিশুর লাশ, বিক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগ

    স্কুলে লিঙ্গ পরিচয় শিক্ষা নিষিদ্ধের আইন করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য

    ‘মন্থন’: ভারতের দুগ্ধ খামারিদের অর্থে নির্মিত যে সিনেমা কান উৎসবে

    টঙ্গীতে নারী পোশাক শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

    ধোলাইখালে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে আগুন 

    চাঁদা না দেওয়ায় কৃষকের ফসল নিয়ে যাচ্ছে দস্যুরা

    সব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা নয়, তালিকাও তৈরি হয়নি