বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

সেকশন

 

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে হচ্ছেটা কী

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১২

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এবার বেশিরভাগ ম্যাচই হচ্ছে একপেশে। ছবি: সৌজন্য ছবি ৫০ ওভারের ম্যাচে ৪০ রানে অলআউট হয়ে যাচ্ছে কোনো দল, আবার লক্ষ্য তাড়া হয়ে যাচ্ছে ১০ ওভারের আগেই। বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো টুর্নামেন্ট। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) এবার নিয়মিতই দেখা হচ্ছে অদ্ভুতুড়ে সব ম্যাচ।

গতকাল বিকেএসপিতে রূপগঞ্জ টাইগার্স ৪০ রানে অলআউট হওয়ার পর ৬.২ ওভারে জিতে গেছে মোহামেডান। বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এর চেয়ে কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার ঘটনা আছে দুটি। ২০০২ সালে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ওয়ানডে সংস্করণে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ৩০ রানে অলআউট হয়েছিল চট্টগ্রাম বিভাগ। ২০১৩ ডিপিএলে ক্রিকেট কোচিং স্কুলকে ৩৫ রানে গুঁড়িয়ে দেয় আবাহনী।

ডিপিএলে গতকাল আরেক ম্যাচে ফতুল্লায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ৯৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১০.৪ ওভারে ৮ উইকেটে জিতেছে আবাহনী। ক্রিকেটে এমন লো স্কোরিং ম্যাচের উদাহরণ আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও।

 এ রকম আগে কখনো হয়নি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঠিকঠাক হচ্ছে না।...কারও একাধিক দল থাকলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। একটা গ্রুপের ৩টা দল, এভাবে আসলে খুব কঠিন (জমিয়ে তোলা)। পয়েন্ট ও নেট রানরেটে পিছিয়ে পড়তে হয়। 
সোহেল ইসলাম
কোচ, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব

তবে ডিপিএলে ‘কৌতুকপ্রদ’ ম্যাচের তালিকা যে নেহাত ছোট নয়। গত পরশু মিরপুরে রূপগঞ্জ টাইগার্সের দেওয়া ১১১ রানের লক্ষ্য ৯ ওভারে তাড়া করে ফেলে শাইনপুকুর।

 যাদের একাধিক দল থাকে, তারা তো চাইবে কৌশলে একটা দলকে কীভাবে সুপার লিগে নিয়ে যাওয়া যায় বা কীভাবে একটা দলকে নিরাপদ রাখা যায়। তাদের একটা সুবিধা থাকে। আমাদের সিটি ক্লাবের মতো দলগুলোর কষ্ট হয় দল তৈরি করতে, তবু চেষ্টা চালিয়ে যায় স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা করতে।

আমিন খান
ম্যানেজার, ব্রাদার্স ইউনিয়ন

গত ২০ মার্চ ব্রাদার্স ইউনিয়নের দেওয়া ৭২ রানের লক্ষ্য ১২.৩ ওভারে তাড়া করে আবাহনী। টুর্নামেন্টের শুরুতে আবাহনীর ২৬৮ রানের বিপরীতে পারটেক্স অলআউট হয়ে যায় ৯৭ রানে। শাইনপুকুরের দেওয়া ১৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে সিটি ক্লাবের ইনিংস থেমে যায় ৮৪ রানে। গাজী টায়ার্স ক্রিকেট একাডেমি ৮৪ রানে অলআউট হওয়া ম্যাচে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ১৯.৩ ওভারে জেতে। কাল পর্যন্ত ৫১ ম্যাচে ৯টি ইনিংস ১০০ পার হয়নি।

 উইকেট হয়তো বিশ্রাম পাচ্ছে না অথবা দলগুলোর সমস্যা। একই উইকেটে অন্য দল রান করছে, আরেক দল করতে পারছে না, এটা তাদের সমস্যা। তবে টেবিলের ওপরে-নিচে দুই দিকেই অনেক প্রতিযোগিতা হবে বলে মনে হচ্ছে।  

মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী, চেয়ারম্যান, সিসিডিএম

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের সংখ্যা একেবারেই হাতে গোনা। অন্তত ১৪টি ম্যাচ হয়েছে একপেশে। রোমাঞ্চের উত্তাপ নেই, সুপার লিগে ওঠার জমজমাট লড়াইয়ের দেখাও মিলছে কম। গতকাল প্রাইম ব্যাংককে ৭৩ রানে হারানোর পর শেখ জামালের কোচ সোহেল ইসলাম মনে করেন, এ রকম এক পেশে লিগ তিনি কমই দেখেছেন, ‘এ রকম আগে কখনো হয়নি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঠিকঠাক হচ্ছে না। যেমন আজকে (গতকাল) যে দলটা মোহামেডানের সঙ্গে খেলেছে, দেখা গেছে অনেক তারুণ্যনির্ভর। এত তরুণ দল নিয়ে যখন একটা বড় টুর্নামেন্ট খেলতে আসবেন, এ রকম হবে। কারও একাধিক দল থাকলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। একটা গ্রুপের ৩টা দল, এভাবে আসলে খুব কঠিন (জমিয়ে তোলা)। পয়েন্ট ও নেট রানরেটে পিছিয়ে পড়তে হয়।’

টুর্নামেন্টে গাজী গ্রুপের দল দুটি, শাইনপুকুর-আবাহনী একই ম্যানেজমেন্ট থেকে পরিচালিত হয়। রূপগঞ্জেরও আছে দুটি দল। এক ম্যানেজমেন্টের একাধিক দল হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়াটাও কঠিন বলে মনে করছেন কেউ কেউ। কিছু দল টুর্নামেন্টে খেলছে ‘ডামি’ হিসেবে—এমন অভিযোগও উঠছে।

 পয়েন্ট টেবিলের আটে থাকা ব্রাদার্স ইউনিয়ন জিতেছে এ পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ। ক্লাবটির ম্যানেজার আমিন খানও স্বীকার করলেন, ২০২৪ ডিপিএলে ম্যাচ হচ্ছে একপেশে। তাঁর অভিযোগ, কারও একাধিক দল থাকায় ‘ম্যাচ ছেড়ে দেওয়া’র কারণে সমস্যায় পড়ছে ব্রাদার্স-সিটির মতো ক্লাবগুলো। আমিন বললেন, ‘একতরফা ম্যাচ বেশি হয়ে যাচ্ছে। সেদিন দেখলাম ৮৫ রানে অলআউট, আজ (গতকাল) দেখলাম ৪০ রানে, ১০০ রানে অলআউট। ডিপিএলের মান এমন হওয়া উচিত নয়। এমন হলে খেলায় প্রতিযোগিতা হয় না, স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত। ৪০-৮৫ রানে অলআউট হয়, তাদের কাছ থেকে কী আশা করবেন? যাদের একাধিক দল থাকে, তারা তো চাইবে কৌশলে একটা দলকে কীভাবে সুপার লিগে নিয়ে যাওয়া যায় বা কীভাবে একটা দলকে নিরাপদ রাখা যায়। তাদের একটা সুবিধা থাকে। আমাদের সিটি ক্লাবের মতো দলগুলোর কষ্ট হয় দল তৈরি করতে, তবু চেষ্টা চালিয়ে যায় স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা করতে।’

এভাবেই চলছে দেশের সবচেয়ে পুরোনো ক্রিকেট লিগ। এমন টুর্নামেন্টের পারফরমারদের যখন সুযোগ মেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, পার্থক্যটা বোঝা যায় তখনই। বিসিবির ঢাকা মহানগরী ক্রিকেট কমিটির প্রধান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরীর বিষয়টি নিয়ে গতকাল আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, ‘উইকেট হয়তো বিশ্রাম পাচ্ছে না অথবা দলগুলোর সমস্যা। একই উইকেটে অন্য দল রান করছে, আরেক দল করতে পারছে না, এটা তাদের সমস্যা। আমরা যথেষ্ট বিশ্রাম দেওয়ার চেষ্টা করছি উইকেট। তবে টেবিলের ওপরে-নিচে দুই দিকেই অনেক প্রতিযোগিতা হবে বলে মনে হচ্ছে। টুর্নামেন্টের মান নিয়ে আমার চেয়ে ভালো বলতে পারবে ক্লাব ও খেলোয়াড়েরা।’ 

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    লিমারাও ডিজিটাল জ্ঞান ও ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ

    এক চেয়ারেই ১১ বছর পার মাউশি ডিডির

    বিশেষজ্ঞ মত

    পরিকল্পনা-নকশা দুটোতেই ত্রুটি

    মার্ডার মিস্ট্রি ‘কালপুরুষ’ মুক্তি পাচ্ছে আজ

    বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট: গোড়ার গলদেই প্রকল্প রুগ্‌ণ

    অনেক দিন পর অভিনয় ও আবৃত্তিতে মেমী

    এনজিওর ঋণের চাপে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করেন আলী: পুলিশ 

    নির্জন এলাকায় বাগানবাড়ি, শাহীনের বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ গ্রামবাসী

    ওবায়দুল কাদেরের ভাইয়ের প্রার্থিতা হাইকোর্টে বহাল 

    নদীখেকোদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী