শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

সেকশন

 

অতিথির লেখা

ফুলের শহরে চামড়া পুড়ে যায়

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:৫৩

জল ছাড়া যেমন মাছের চিন্তা মেকি, তেমনি প্রকৃতি ছাড়া মানুষের চিন্তাও ফানুস। একদিকে খাল-বিল, নদী-নালা ভরাট ও দখল হচ্ছে; অপরদিকে পাহাড়-পর্বত, বনাঞ্চল ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ‘শহরকে ফুলে ফুলে সাজিয়ে তুলবেন’–এ রকম চিন্তা যাঁরা করেন, তাঁদের মস্তিষ্ক সেখানে কী বিরাজ করে–আশা করি, তা আর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই।

মৌলভীবাজার জেলার ছোট্ট মফস্বল শহর মৌলভীবাজারের ঢাকা-সিলেট রোড, কোর্ট রোডসহ কিছু সড়কের ডিভাইডারে লাগানো ফুলের গাছ বড় হয়েছে। সেই গাছগুলোয় ফুল ফুটেছে। সেই ফুলের সৌন্দর্য মানুষ উপভোগ করছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। আর সোশ্যাল মিডিয়া তো রয়েছেই।

কল্পনা করুন, শহরের প্রতিটি সড়কে ফুলের গাছ। গাছের ছায়ায় শরীর-মন জুড়িয়ে যায়। মাঝেমধ্যে দু-একটি পাখিও দেখা যায়। কী প্রশান্তি! অফুরন্ত অক্সিজেন। লোকজন ফুলের শহর বলে ডাকা শুরু করেছে। বিষয়টি সত্যিই অপূর্ব ও আনন্দের।

তবু এই আনন্দের বিষয়টির মধ্যেও একটি প্রশ্ন আছে–ফুলের শহর যেমন সত্যি, তেমনি ‘ফুলের শহরে চামড়া পুড়ে যায়’, সেটাও সত্যি। চাঁদনিঘাট, চৌমোহনা, পশ্চিম বাজার, শমসেরনগর রোডসহ বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনের জন্য দাঁড়াতে হয়; কিন্তু কোথাও কোনো ছায়া নেই। কারণ, সড়কের পাশের সব গাছ উধাও।

কিছুদিন আগে শহরতলির পশ্চিম কদমহাটায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। খেয়াল করলাম দাঁড়ানোর মতো কোনো গাছের ছায়া নেই। আবার তীব্র রোদে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকাও যাচ্ছে না। একটা অসহ্য অবস্থা!

ফুলের শহর ভালো, কিন্তু তার চেয়ে আরও ভালো হবে বড় বড় গাছ উপড়ে না ফেলে রক্ষা করা গেলে। আর পরিকল্পনা করে কিছু জায়গায় যদি গাছ লাগানো যায়, তাহলে অন্তত রোদ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। যাঁরা এমন চমৎকার ফুলের শহরের স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের জন্য এই কাজটা কঠিন বলে মনে হয় না।

শহরের প্রতিটি সড়কের পাশে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব অনুসারে আবারও এক দিন বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় গাছ দেখব–সেই প্রত্যাশা করি। যেখানে দাঁড়িয়ে দরদর করে ঘাম ঝরবে না, মাথা ঘুরে পড়ার দশা হবে না, চোখ অন্ধকার হয়ে আসবে না। যেখানে ‘ফুলের শহরে চামড়া পুড়ে যায়’–এমন বাক্য রচনারও প্রয়োজন হবে না।

আমাদের চিন্তা, উন্নয়নভাবনা হোক প্রকৃতিবান্ধব। সবুজ গ্রামীণ মেঠো পথের মতো আঁকাবাঁকা খাল ঘিরে, খোলা প্রান্তর ঘিরে। নদী হোক সম্পদের আধার, নদীর পাড় হোক সৌন্দর্যে ভরপুর। পুকুরে থাকুক মাছ, পাড়ে থাকুক সারিবদ্ধ নারিকেল বা সুপারিগাছ। আমাদের শহরের লেকের জল হোক স্বচ্ছ, হোক দূষণ ও দখলমুক্ত। আমাদের লেক হোক এই শহরের ফুসফুস। আমাদের যেন মনে থাকে আমরাও প্রকৃতির সন্তান।

কবি ও লেখক, মৌলভীবাজার

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    নবাবগঞ্জে ১৫  জনের করোনা শনাক্ত

    নবাবগঞ্জে ১৫ জনের করোনা শনাক্ত

    কেরানীগঞ্জে শ্রমিক লীগের বর্ধিত সভা

    কেরানীগঞ্জে শ্রমিক লীগের বর্ধিত সভা

    বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর প্রতিবাদ

    বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর প্রতিবাদ

    গবিতে যোগ দিলেন ফাতেমা নাসরিন

    গবিতে যোগ দিলেন ফাতেমা নাসরিন

    আফগানিস্তানে ৩টি বিস্ফোরণে নিহত কমপক্ষে ২

    আফগানিস্তানে ৩টি বিস্ফোরণে নিহত কমপক্ষে ২

    বার্সা খেলোয়াড়দের ‘হাঁটুর চোট’ রহস্য

    বার্সা খেলোয়াড়দের ‘হাঁটুর চোট’ রহস্য

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে বড় বাধা সমন্বয়হীনতা, সেমিনারে বক্তারা

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে বড় বাধা সমন্বয়হীনতা, সেমিনারে বক্তারা

    আজ প্রচারণা শেষ, ১৬১ ইউপিতে ভোট সোমবার

    আজ প্রচারণা শেষ, ১৬১ ইউপিতে ভোট সোমবার

    বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ওএমএসের আটা

    বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ওএমএসের আটা

    নিখোঁজের ৩ দিন পর উদ্ধার ৩ স্কুলছাত্রী ও এক গৃহবধূ

    নিখোঁজের ৩ দিন পর উদ্ধার ৩ স্কুলছাত্রী ও এক গৃহবধূ