সোমবার, ২০ মে ২০২৪

সেকশন

 

মুনাফা শিকারিরা যেন ছাড় না পায়

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৪, ০৭:২৫

মুনাফা শিকারিরা যেন ছাড় না পায় সবকিছুরই একটি নিয়ম থাকে। নিয়মের বাইরে কিছু হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশকে বলা হয় ‘সব সম্ভবের দেশ’। এখানে সব সময় সবকিছু নিয়ম মেনে হয় না। এখানে কিছু কিছু জিনিস হয় যা কোনো কারণ কিংবা যুক্তি দিয়ে বোঝানো কঠিন।

এর মধ্যে একটি হলো জিনিসপত্রের দাম। কিছু মানুষের মর্জির ওপর এখানে পণ্যমূল্য নির্ধারণ করা হয়। দাম বাড়ার যুক্তিসংগত কারণ হয়তো কখনো কখনো থাকে, কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই দাম বাড়ে অকারণে, মুনাফা শিকারি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ইচ্ছায়।

বলা হয়ে থাকে ‘সরকারের হাত অনেক লম্বা’। চাইলে সরকারের হাত পৌঁছাতে পারে না এমন কোনো জায়গা থাকার কথা নয়। অথচ আমাদের দেশে জিনিসপত্রের দাম বাড়া-কমার বিষয়টি সরকার কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। ওটা নিয়ন্ত্রণ করছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এ ক্ষেত্রে সরকারের হাতের চেয়ে সিন্ডিকেটের হাত বড় বলে দেখা যাচ্ছে

এ কথাগুলো বলা হলো শুক্রবার আজকের পত্রিকায় ‘আমদানি ও সরবরাহে ঘাটতি নেই, তবু দাম লাগামহীন’ শিরোনামে প্রকাশিত খবর পড়ে। চাহিদার তুলনায় বাজারে পণ্য আমদানি ও সরবরাহ কম থাকলে দাম বাড়তে পারে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও দাম লাগামহীন করা শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলে এলেও বাজারে এর কোনো প্রতিফলন নেই। কোনো কিছুরই দাম কমে না; বরং লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে।

প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, রমজানের চাহিদা সামনে রেখে গত তিন মাসে দেশে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা ও খেজুরের পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে। আমদানিকারকেরাও বলেছেন, রমজানে পণ্যের কোনো ঘাটতি হবে না, দামও বাড়বে না; কিন্তু তাঁদের এ কথার প্রতিফলন নেই বাজারে। বরাবরের মতো এবারও রোজা শুরুর আগেই বাজারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অতিমুনাফালোভী চক্র। বাড়তে শুরু করেছে চিনি, ছোলা, খেজুরসহ প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম।

চিনির দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কেন বাড়ল? ব্যবসায়ীদের ইচ্ছে হয়েছে রোজা সামনে রেখে বেশি মুনাফা করার। তাই এই মূল্যবৃদ্ধি। চিনি ছাড়াও ভোজ্যতেল, ছোলা, খেজুর ইত্যাদির দামও অকারণেই বাড়ছে।

ভোজ্যতেল ও চিনির অন্যতম শীর্ষ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, ‘রমজান ঘিরে চিনি ও ভোজ্যতেলের যে চাহিদা তার চেয়ে বেশিই মজুত আছে আমাদের। সুতরাং রমজান ঘিরে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই।’

কারণ ছাড়াও দাম বাড়িয়ে যাঁরা মুনাফা লাভের পথ তৈরি করছেন, তাঁদের প্রতি কোনো ধরনের অনুকম্পা দেখানো ঠিক হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক বক্তৃতায় মজুতদার, মুনাফাখোরদের কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার কথাই বলেছেন।

আমরা দেখতে চাই, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যাঁরা কারসাজি করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে মানুষের কষ্ট বাড়াচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে কোনো শৈথিল্য দেখাবেন না।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     

    ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য হ্রাসের নেপথ্যে

    কারচুপি

    চুকনগর হত্যাকাণ্ড: হৃদয়বিদারক সেই দিনটি

    ৪ কোটি টাকার সোনা

    সাক্ষাৎকার

    রান্নাও হতে পারে নারীর ক্ষমতার শক্তিশালী উৎস

    স্মরণ

    আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীকে বাঙালি মনে রাখবে চিরকাল

    হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে চীনের প্রতি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের আহ্বান 

    ইরানের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হবেন মোহাম্মদ মুখবার 

    মিরপুরে পুলিশ বক্সে অটোরিকশা চালকদের হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩০ 

    প্রিমিয়ার ব্যাংক ব্রাঞ্চ কিউআর টেলার সার্ভিসের উদ্বোধন

    উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত

    সুনামগঞ্জে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রকল্পে ২৮৫ কৃষি উদ্যোক্তা পেলেন প্রশিক্ষণ