শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

সেকশন

 

স্মরণ

শংকর গোবিন্দ চৌধুরী

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০০

আজ ১৩ সেপ্টেম্বর রাজনীতিক শংকর গোবিন্দ চৌধুরীর ২৬তম প্রয়াণ দিবস বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত শংকর গোবিন্দ চৌধুরী দেশ ও জাতির কল্যাণে মনুষ্যত্ব ও মহত্ত্বের যে নিদর্শন রেখে গেছেন, তা কখনোই ভোলার নয়। তিনি ছিলেন রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির স্বাধীন-সার্বভৌম অস্তিত্ব, বাঙালির ভাষা, বাংলার মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীপ্ত চেতনা নিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় অংশ নিতে ১৯৫৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

উত্তরাঞ্চলীয় জনপদ নাটোরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা ছিলেন শংকর গোবিন্দ চৌধুরী। বেনারস বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট বাবা জ্ঞানদা গোবিন্দ চৌধুরী ছিলেন নাটোরের ভবানীর প্রজাহিতৈষী জমিদার। শিক্ষিত ও সাংস্কৃতিক পরিবারে শংকর গোবিন্দ চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৬ সালের ৪ মার্চ। তিনি নাটোর, বগুড়ায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এবং কলকাতায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। বিদ্যাসাগর কলেজে পড়ার সময়ই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু।

১৯৫৮ সালের আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারির পর থেকে সব ধরনের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন সক্রিয়। রাজপথ থেকে সংসদ—সব জায়গায় তাঁর উপস্থিতি ছিল সরব।

সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আবার নিজে একজন সাধারণ কর্মীর মতো কাজ করেছেন। ১৯৭৫ সালের পরবর্তী শাসনামলে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮১ সালে দুর্বৃত্তরা তাঁকে চলন্ত ‘সীমান্ত এক্সপ্রেস’ ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছিল হত্যার উদ্দেশ্যে। সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন, তবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলেন।

১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য এক বছর কারাবরণ করেন। এ ছাড়াও তিনি রাজনৈতিক কারণে অনেকবার কারাবরণ করেন। ১৯৬৯-৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি একাধিকবার ঐতিহ্যবাহী নাটোর পৌরসভার (১৮৬৯ সালে সৃষ্ট) চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি নাটোর সদর আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ৭ নম্বর সেক্টরের জোনাল কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।

মনুষ্যত্ব, নীতি ও আদর্শের পথিক শংকর গোবিন্দ চৌধুরী রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি নাটোর রানী ভবানী মহিলা কলেজের (বর্তমানে সরকারি মহিলা কলেজ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া নাটোর বনলতা হাইস্কুল, বড়গাছা হাইস্কুল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাইস্কুল, দিঘাপতিয়া বালিকা শিশুসদন (এতিমখানা)-সহ নাটোরের ডায়াবেটিক হাসপাতাল, আধুনিক বাস টার্মিনাল, নাটোর সুগার মিল তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে।

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক জমির সিলিং নির্ধারণের পরপরই তিনি ১০০ বিঘা জমি নিজে রেখে অনেক জমিজমা তাঁর এলাকার সাধারণ গরিব মানুষের মধ্যে রেজিস্ট্রি করে দেন, যাতে তাঁরা চাষবাস করে খেতে পারেন। অবশিষ্ট জমি সরকার বরাবর সারেন্ডার করেন।

 ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য’–তিনি এ নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। কোনো গোঁড়ামি বা সংকীর্ণতা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। আজও তিনি নাটোরবাসীর কাছে সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

দীর্ঘদিন নানা রোগে ভুগে তিনি ১৯৯৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পরলোকগমন করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৮ সালে তাঁকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর)’ প্রদান করেন।

লেখক: সাবেক সিনিয়র সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    স্মৃতির কোনো আয়ু নেই

    স্মৃতির কোনো আয়ু নেই

    কে কার ভাশুর

    কে কার ভাশুর

    ফেসবুক ভালো, তবে খারাপ!

    ফেসবুক ভালো, তবে খারাপ!

    নিখোঁজের ৩ দিন পর উদ্ধার ৩ স্কুলছাত্রী ও এক গৃহবধূ

    নিখোঁজের ৩ দিন পর উদ্ধার ৩ স্কুলছাত্রী ও এক গৃহবধূ

    ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে মূলত কী করা হয়?

    ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে মূলত কী করা হয়?

    ২০ বছর ধরে দুর্ভোগের জীবন পৌরবাসীর

    ২০ বছর ধরে দুর্ভোগের জীবন পৌরবাসীর

    দেশে এল সিনোফার্মের আরও ৫০ লাখ ডোজ টিকা

    দেশে এল সিনোফার্মের আরও ৫০ লাখ ডোজ টিকা

    ‘রাস্তাটার জন্য এলাকাত বিয়ার সম্বন্ধ আইসে না’

    ‘রাস্তাটার জন্য এলাকাত বিয়ার সম্বন্ধ আইসে না’

    হেফাজত নেতা মুফতি রিজওয়ান গ্রেপ্তার

    হেফাজত নেতা মুফতি রিজওয়ান গ্রেপ্তার