ট্রলার ডুবি। প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গায় বাল্কহেডের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবি হয়েছে। ১১ মার্চ সোমবার সকাল থেকে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস। ডুবে যাওয়া ট্রলার ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য নদীতে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম কাজ করছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারের স্থান শনাক্তের পর উদ্ধার কাজ শুরু করবে ডুবুরি দল। তবে এ ঘটনায় কতজন নিখোঁজ রয়েছেন এখনও সঠিকভাবে কেউ সেটা বলতে পারছে না।

১১ মার্চ সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন উদ্ধার কাজে নদীতে নামেন। তবে এখনও পর্যন্ত ডুবে যাওয়া ট্রলারটির স্থান শনাক্ত করা যায়নি।

এদিকে ট্রলার ডুবে নিখোঁজদের সন্ধানে বুড়িগঙ্গার তীরে ভিড় করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। ওই ট্রলারে শ্রমিক ছাড়াও সাধারণ যাত্রী ছিল বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ট্রলার ও নিখোঁজদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস কাজ শুরু করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের নিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করে উদ্ধার কাজ শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ডুবে যাওয়া ট্রলারে থাকা বালু ও কয়লা টানা লেবার সরদার বশিরের দেয়া তথ্যমতে শুধুমাত্র একজন নিখোঁজ রয়েছেন। ট্রলার ডুবে যাওয়ার পর সকল লেবাররা সাঁতরিয়ে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে। তবে ট্রলারে লেবার ছাড়াও সাধারণ যাত্রী ছিলো কিনা সে তথ্য নেয়া হচ্ছে। নিখোঁজদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এলে সঠিক তথ্য জানা যাবে।

প্রসঙ্গত, ১০ মার্চ রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কেরানীগঞ্জের জাজিরার কুইচ্ছামারা এলাকায় বালু টানা কাজ শেষ করে ট্রলারযোগে নারীসহ প্রায় ৫০ জন লেবার ফতুল্লার পাগলায় যাওয়ার পথে ঢাকা থেকে আসা ‘তাকওয়া পরিবহন’ নামে একটি খালি বাল্কহেড ওই ট্রলারের ওপর উঠে যায়। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা কিছু যাত্রী লাফিয়ে বাল্কহেডে ওঠেন এবং কিছু লোক সাঁতরিয়ে তীরে ওঠেন। তবে কিছু লোক এখনও নিখোঁজ রয়েছে। তবে ট্রলারে থাকা ৫০ জন শ্রমিকের মধ্যে ৩৮/৪০জন উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছে।

এছাড়া খালি বাল্কহেডটি এলাকাবাসী ও ফতুল্লা থানা পুলিশের সহযোগিতায় আটক করা হয়। এ সময় বাল্কহেডে থাকা দিদার হোসেন (৪৮) ও আবু বক্করকে (৩৮) আটক করা হয়।