শনিবার, ২২ জুন ২০২৪

সেকশন

 

কৃষি কর্মকর্তাদের পাশে পান না কৃষকেরা

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:৫১

সঠিক সময়ে পোকা দমনে কৃষি কার্যালয়ের কোনো মাঠকর্মীকে কাছে পাচ্ছেন না তাঁরা। ছবি: সংগৃহীত ‘এবার আমার ৪৬ শতক জমিতে ধান হওয়ার কথা অন্তত ২৫ মণ। সেখানে উঠেছে ১৫ মণ। ফলন ভালো হতো, যদি সঠিক সময়ে পরামর্শ পেতাম। ধানে পোকা লেগে এখন খরচের টাকা তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। যাঁরা ব্লক সুপারভাইজার (উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা) আছেন, তাঁদের কখনো মাঠে আসতে দেখি না।’

কথাগুলো মাগুরার সদর উপজেলার শিবরামপুরের কৃষক আইয়ুব আলী বিশ্বাসের। এবার আমন ধান চিটা হয়ে যাওয়ায় কৃষি কার্যালয়ের মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দায়ী করছেন এই কৃষক।

একই অভিযোগ নড়িহাটি এলাকার কৃষক শাহীনুর খানের। এই কৃষক বলেন, ‘এক বছর হলো ব্লক সুপারভাইজারের মুখ দেখি না। অথচ আগে যিনি ছিলেন, তিনি প্রায় সময়েই আমাদের খোঁজখবর নিতেন। আমরাও বিভিন্ন ফসল চাষ করতে তাঁর সহযোগিতা পেতাম।’

এবার আমন ধানে মাজরা পোকা ও কারেন্ট পোকার আক্রমণে মাগুরা সদরসহ শ্রীপুর, শালিখা উপজেলার কৃষকেরা ধান নিয়ে বিপদে আছেন। তাঁরা বলছেন, যা ফলন হওয়ার কথা, তার অর্ধেক পাচ্ছেন। সঠিক সময়ে পোকা দমনে কৃষি কার্যালয়ের কোনো মাঠকর্মীকে তাঁরা কাছে পাচ্ছেন না। ফলে নিজেদের অনুমানের ভিত্তিতে কৃষকেরা কীটনাশক দিয়ে আসছেন পোকা দমনে। তবে তাতে শেষরক্ষা হয়নি।

শালিখা উপজেলার বাউলিয়া গ্রামের কৃষক সবুর মিয়া বলেন, যাঁরা ব্লক সুপারভাইজার পদে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা নিজেদের পছন্দসই কৃষকদের সহযোগিতা করেন। কোনো এক পছন্দের কৃষকের বাড়িতে বসে নিজেদের আত্মীয়স্বজন নিয়ে মাঠ দিবস করেন। তাঁরাই সার, বীজসহ সরকারি নানা সুবিধা পান। অনেক সময় প্রকৃত কৃষকেরা এসব সুবিধা পাচ্ছেন।

শালিখার বুনাগাতির বাউলিয়া ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সজীব হোসেন বলেন, ‘কৃষকদের অভিযোগ সত্য নয়। আমরা নিয়মিত প্রতিটি ব্লক পরিদর্শন করি। অনেক সময় কৃষকেরা নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাই হয়তো ঠিক সময়ে তাঁরা উপস্থিত হতে পারেন না।’

শ্রীপুর উপজেলার গাঙনালিয়া এলাকার কৃষক গোলাম রসুল বলেন, ‘ব্লক সুপারভাইজাররা মাঠে আসেন না। আমাদের নানা সময়ে কী কী ফসল উৎপাদন করতে হবে, তা বাপ-দাদার আমলের সেই ধারা মেনে শঙ্কা নিয়েই চাষ করতে হয়। যে কারণে আমরা বছরে নানা সময়ে মার খাচ্ছি। তাঁরা (উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা) সরকারি বেতন পান, আমাদের সেবা করার জন্য; কিন্তু তাঁরা তো মাঠেই আসেন না।’ 
এ বছর মাগুরা জেলায় ৬১ হাজার ৯৩৬ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেখানে অর্জন হয়েছে ৬২ হাজার ১০১ হেক্টর। তবে কৃষকেরা বলছেন, তাঁদের জমি আবাদ হলেও ফলন আশানুরূপ হয়নি।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুফি মো. রফিকুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সহযোগিতা করেন। তবে কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    ভারতের সঙ্গে চুক্তির আগে দেশের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে

    ধূসর রুক্ষ মহানগরীতে বিপন্ন নাগরিক জীবন

    লাগাম টেনে ধরা হোক

    আছাদুজ্জামান মিয়ার তথ্য দিয়ে ফেঁসে যাচ্ছেন তিন পুলিশ কর্মকর্তা

    এমপি মালেকের ‘ষাঁড়ে’তটস্থ এলাকার মানুষ

    ছুটির দিনে ৫০ কোটি টাকার দরপত্র অনুমোদন

    ভারতের সঙ্গে চুক্তির আগে দেশের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে

    বর্ষায় শাক খাওয়ায় সতর্কতা

    এ সময়ের কাঁঠাল

    ধূসর রুক্ষ মহানগরীতে বিপন্ন নাগরিক জীবন

    ওষুধ লাগে না যে পরিবারে

    পেটের মেদ কমাবে যেসব ব্যায়াম