Alexa
সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১

সেকশন

 

শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় ৪৬১ উপজেলা

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৪

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন ৪৬১ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। 

আজ বুধবার ১১ তম জাতীয় সংসদের ১৪ তম অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সংরক্ষিত নারী সাংসদ মমতা হেনা লাভলীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের শতকরা ৯৯ দশমিক ৫ ভাগের বেশি জনগণকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু দুর্গম অফগ্রিড এলাকা ছাড়া মুজিববর্ষে গ্রিড-অফগ্রিড নির্বিশেষে শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম নিশ্চিতের রোডম্যাপ প্রণয়নপূর্বক নিবিড় তদারকির মাধ্যমে বাস্তবায়ন হচ্ছে।’

সরকার দলীয় সাংসদ কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের ৫৬ দশমিক ৪২ ভাগ আবাসিক খাতে ব্যবহৃত হয়েছে। ১০ দশমিক ৫৮ ভাগ বাণিজ্যিক খাতে এবং ২৮ দশমিক ৪০ ভাগ শিল্পখাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, চলমান শতভাগ বিদ্যুতায়নের কার্যক্রমের কারণে আবাসিক খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ইকোনমিক জোনগুলো পর্যায়ক্রমে চালু হলে শিল্প খাতেও বিদ্যুতের ব্যবহারে পর্যায়ক্রমে বাড়বে।

নসরুল হামিদ বলেন, ২০০৯ সালে সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। বিগত ১২ বছরে ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

সরকার দলীয় আরেক সাংসদ নুরন্নবী চৌধুরী প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন ও ভবিষ্যতে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা বিবেচনা করে ২০২১ সালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার মেগাওয়াট নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিগত ১২ বছরে ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হওয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদ খালেদা খানমের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হতে পাবনা-কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ হয়ে খুলনার আড়ংঘাটা পর্যন্ত উচ্চচাপ সম্পন্ন গ্যাস সঞ্চালন লাইন ২০১২ জুলাই মাসে নির্মিত হয়েছে। এ লাইনের মাধ্যমে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর ও খুলনা জেলায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে গ্যাস রেগুলেটিং ও মিটারিং স্টেশনসমূহ স্থাপন করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, কুষ্টিয়া জেলায় অবস্থিত গ্যাস রেগুলেটিং ও মিটারিং স্টেশন হতে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস বিতরণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে গ্যাস বিতরণ অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে জন্য দরপত্র আহ্বানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এছাড়াও ঝিনাইদহ, যশোর ও খুলনা জেলার পরিকল্পিত শিল্প এলাকায় (অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বিসিক) অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্যাস বিতরণের জন্য ইতিমধ্যে জরিপ কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া ১ আসনের সরকার দলীয় সাংসদ আ ক ম সরওয়ার জাহানের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানান, পেট্রোবাংলার আওতাধীন ৬টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির মাধ্যমে ৩০টি জেলায় গ্যাস বিতরণ করা হচ্ছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলসহ মধ্য অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের জন্য নতুন গ্যাস লাইন স্থাপনের জন্য কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। যেগুলো আগামী চার বছরের মধ্যে শেষ হবে।

প্রকল্পগুলো হলো ধনুয়া-এলেঙ্গা এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়-নলকা পর্যন্ত, বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর পর্যন্ত, বাখরাবাদ-মেঘনাঘাট-হরিপুর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুতে গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প। 
দীর্ঘ মেয়াদে আগামী ১০ বছরে (২০২২-২০৩২) দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের গ্যাস সঞ্চালন গ্রিডের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 
 
সেগুলো হলো: লাঙ্গলবন্দ-মাওয়া এবং জাজিরা-টেকেরহাট, খুলনা-গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট, সাতক্ষীরা (ভোমরা)-খুলনা (আড়ংঘাটা), পায়রা-বরিশাল এবং বরিশাল-খুলনা, টেকেরহাট-ফরিদপুর এবং টেকেরহাট-বরিশাল গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্প।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিমের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র সমূহতে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতার বিপরীতে আগস্ট ২০২১ মাসে গ্যাস উৎপাদন দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৪৮৪ মিলিয়ন ফুট। 

নসরুল হামিদ জানান, আটটি গ্রাহক শ্রেণিতে সংরক্ষিত অনুমোদিত গ্যাস লোড অনুযায়ী দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বর্তমান চাহিদার দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলার অধীন ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ক্যাপটিভ পাওয়ার, শিল্প, সার কারখানা, সিএনজি, গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক ও চা বাগান শ্রেণিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র সমূহের উৎপাদন কম হওয়ায় এলএনজি আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। আগস্ট ২০২১ মাসে দৈনিক প্রায় ৭১১ মিলিয়ন ঘনফুট আর এল এন জি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। অর্থাৎ বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৯৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনার এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাস নিরাপত্তা বিধিমালা ১৯৯১ ধারা নম্বর ৩১ অনুযায়ী মাটির তলদেশে স্থাপিত এক ইঞ্চি ব্যাসের গ্যাস লাইনের গাত্র হইতে সংরক্ষণীয় পূর্ত কর্ম অর্থাৎ ভবন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত দূরত্ব ২ মিটার।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    শেষ হলো সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশন

    এমপিদের অবসর ভাতার দাবি

    টাকা পাচারের তথ্য জানতে কমিশন গঠনের দাবি সংসদে

    উচ্চ আদালতের বিচারকদের ভ্রমণ ভাতা বাড়ছে

    হাফ ভাড়ার আইন করার দাবি সংসদে

    ধুনটে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হলেন যারা

    দেশে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ বেড়েছে

    ডিএসইতে সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন

    চলতি বছরে ঢাকার সড়কে প্রাণ ঝরেছে ১১৯টি

    নরসিংদীতে নির্বাচনী সহিংসতায় আরও একজনের মৃত্যু  

    উত্তরখানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও পুলিশ ক্যাম্প তৈরির নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর