Alexa
বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১

সেকশন

 

জীবন মানে কষ্টের পরে আনন্দ

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২১, ১৪:১২

আতাউর রহমান, মানুষের ওজন মাপাই যার পেশা। ছবি: আজকের পত্রিকা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এখন অনেক মানুষ আসা-যাওয়া করছে। এরই ফাঁকে অনেকেই নিয়ে বসেছেন ব্যবসার পসরা। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, জীবনযুদ্ধ যথেষ্ট সংকটে ফেলে দিয়েছে তাঁদের। এমনই একজনের কাছে অনুরোধ করলাম কিছু বলার জন্য। তিনি কানের কাছে এসে বললেন, একটা ছোটখাটো চাকরি করেন, পাশাপাশি এই ব্যবসাটা যে করেন, সে কথা কেউ জানে না। পত্রিকায় ছাপা হলে লোকজন জেনে যাবে, তাতে একটা সংকটে পড়ে যেতে পারেন।

কারও জীবনে সংকট আসুক, সেটা কেউই চায় না। তাই নিরীহ এই মানুষের কাছ থেকে সরে আরেকটু সামনে যেতে হয়। সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আতাউর রহমান, একটা ওজন মাপার যন্ত্র নিয়ে তাঁর কারবার। তিনি এটাকে বলেন ওয়েলকাম মেশিন। ওজন, উচ্চতা মাপা যায়। লকডাউনের সময় বের হননি। এখন আবার কাজ করছেন পুরোদমে। বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করলে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা থাকে। চোখের সামনে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়, এরপর রাত নামে। চাঁদনি রাত হলে এখানে বেশি মানুষ আসে। প্রেমিক-প্রেমিকারা আসে। আড়ালে দাঁড়িয়ে বা বসে গল্প করে। একদল ছেলে গিটার বাজিয়ে গান করতে থাকে। কেউ কেউ কেডস পায়ে হাঁটে। আতাউর রহমানের খারাপ লাগে না।

‘লকডাউনের সময় সংসার চলেছে কীভাবে?’

‘আমার ছেলেমেয়ে আছে না, তারাই চালাইছে।’

‘কয়জনের সংসার?’

‘আমরা দুইজন আর এক ছেলে চার মেয়ে! ওরা তো কাজকাম করে। ছেলেটার নতুন চাকরি হইছে। মাস্টার। বিয়াও করছে। বাড়িতে ট্যাকাটুকা দেয়।’

‘মেয়েরাও ট্যাকাটুকা দেয়?’

‘দেয়!’

‘তাহলে আপনি কাজ করেন কেন? বাড়িতে আরামসে বসে থাকলেই তো পারেন।’

‘বাড়িতে বইসা থাকলে সময় কাটব কেমনে? আপনি কি বাড়িতে বইসা আছেন? আপনি রাস্তায় নামছেন ক্যা? ভাল্লাগে না বইলাই তো!’

আতাউর রহমান সাহেব নিজে প্রশ্ন করে নিজেই উত্তর দিয়ে দিলেন বলে কেন আমি রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি, সেটা আর পরিষ্কার করলাম না।

‘কবে থেকে ঢাকায় আপনি?’

‘পাঁচ বছর। পাঁচ বছর আগে নেত্রকোনা থেকে ঢাকায় আসলাম।’

‘নেত্রকোনায় থাকতে পারলেন না?’

‘সেখানে তো কাজ করতে পারতাম না। আমার তো বড় অসুখ হইল। একবার পইড়া গিয়া ব্যথা পাইলাম। তারপর সেই ব্যথা উঠতে লাগল পা থিকা বুক থিকা একেবারে ঘাড় পর্যন্ত। আর তো হালচাষ করতে পারি না। লাঙ্গল হাতে নিলেই সারা শরীর ব্যথা করে। ডাক্তার কইল, ব্যায়াম করতে হইব। দৌড়াইতে হইব। দৌড়াইলে ব্যথা কমব। পোয়া মাইল, আধা মাইল, পৌনে এক মাইল, এক মাইল, এইরকম প্রতিদিন বেশি বেশি দৌড়াইতে কইল। পারি নাই। তাই ঢাকায় চলে আসলাম।’

‘একা একা বসে থাকতে খারাপ লাগে না এখানে?’

‘একা কই? কত মানুষ! অনেকে ঝাঁকে ঝাঁকে আইসা ওজন করায়া লয়। মজা কইরাও মানুষ ওজন করায়।’

‘নেত্রকোনায় যাইতে ইচ্ছা হয় না?’

‘এইখানে তো ভালোই আছি। সবাই কাম করি। বাড়িভাড়া দিই। ভাত খাই। আনন্দ করি। এইখানেই তো ভালো আছি!’

‘আচ্ছা জীবন মানে কী, বলবেন একটু?’

‘জীবন মানে অনেক কষ্ট, আর কষ্টের পর আনন্দ...’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    সুন্দরগঞ্জে সাবেক ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মুরাদকে যারা সহযোগিতা করেছে তাদেরও বিচার চাইলেন নজরুল ইসলাম খান

    দুদকের মামলায় মানিকগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা মট্টুসহ দুজন গ্রেপ্তার

    চট্টগ্রামে বদ্ধভূমি সংরক্ষণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ

    সুন্দরগঞ্জে সাবেক ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মুরাদকে যারা সহযোগিতা করেছে তাদেরও বিচার চাইলেন নজরুল ইসলাম খান

    মিরপুরে ই-কারখানার যাত্রা শুরু

    মুরাদ হাসানের পদত্যাগ যথেষ্ট নয়: মঈন খান

    ভারতে ফের আফস্পা বাতিলের দাবি

    দুদকের মামলায় মানিকগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা মট্টুসহ দুজন গ্রেপ্তার