Alexa
শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০২৩

সেকশন

epaper
 

কেঁচো সার তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন ঘিওরের কিষানিরা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০:৩০

কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কিষানিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা কেঁচো সার তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কিষানিরা। সংসারে এনেছেন সচ্ছলতা। গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কাজের পরিধি ও আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্রমেই চাষিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই ভার্মি কম্পোস্ট সারের ব্যবহার। 

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার জাবরা, সাইংজুরী, কাউটিয়া, নালী, গোয়ালডাঙ্গী, তরা, আশাপুর, বড়টিয়া, সিংজুরীসহপাড়া, বিভিন্ন গ্রামে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন কমপক্ষে অর্ধশতাধিক নারী। স্বল্প পুঁজি ও কম পরিশ্রমে কেঁচো সার উৎপাদন করে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা এনেছেন তাঁরা। 

উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধিতে দিতে কাজ করছেন তাঁরা। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বাড়বে ফসলের মান ও উৎপাদন। 

উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের জাবরা গ্রামের রহিমা বেগম (৫২) বাড়ির উঠানের একপাশে ১৬টি বড় রিং বসিয়েছেন কেঁচো পালনের জন্য। প্রতি মাসে এই রিং থেকে ৮০০ থেকে ১ হাজার কেজি জৈব সার উৎপাদিত হচ্ছে। খরচ বাদে মাসিক আয় থাকছে ১০ হাজার টাকার বেশি। রহিমার পরিবেশবান্ধব এই সার চলে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। তাঁর দেখাদেখি ওই গ্রামের বেশ কয়েকজন গৃহবধূ এ কাজ শুরু করেছেন। 

রামেশ্বরপট্টি গ্রামের কিষানি হোসনেয়ারা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রাকৃতিক কৃষি কেন্দ্র প্রথম কেঁচো সার উৎপাদনের পরামর্শ দেয়। রিংয়ের মধ্যে গোবর আর কেঁচো দিয়ে সার তৈরি করি। প্রতি কেজি সার বিক্রি হয় ১২ থেকে ১৫ টাকা। মাসে ৬ হাজার টাকার টাকার ওপরে আয় হয়।’ 

জাবরা গ্রামে রহিমা বেগমের বাড়িতে দেখা যায়, একটি টিনের নিচে রিং বসিয়ে তিনি কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে তরা গ্রামের কৃষক এমদাদুলের ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন দেখে অনুপ্রাণিত হই। তারপর কেঁচো সংগ্রহ করে অল্প পরিসরে পাঁচটা পাত্রে সার তৈরি করি। এখন আমার রিংয়ের সংখ্যা ১৬টি। মাসে আয় করছি ১০-১২ হাজার টাকা।’ 

তরা গ্রামের কেঁচো সার উৎপাদনকারী গৃহবধূ রোজিনা আক্তার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রথমে অনেকে কেঁচো পালন বিষয়টি ভালোভাবে নিতেন না। এখন কদর বাড়ছে। প্রতি কেজি সার ১৫ টাকা, কেঁচো ৬০০ টাকায় বিক্রি করি। আমাদের সংসার ভালোই চলছে। ভবিষ্যতে বেশি পরিমাণ কেঁচো সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।’ 

বারসিকের কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা সুবীর কুমার সরকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এ অঞ্চলে ভার্মি কম্পোস্টকে কেন্দ্র করে উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। জৈব সারের যতই ব্যবহার বাড়বে, ততই ক্ষতিকর রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে আসবে, ততই এলাকার প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা পাবে।’ 

কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কিষানিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা জৈব সার ব্যবহারকারী কৃষক দেলোয়ার জাহান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘রাসায়নিক সারের তুলনায় জৈব সারে ফসল উৎপাদন ভালো হয়। সেই সঙ্গে সাশ্রয়ীও। শুধু এই সার ব্যবহারে চলতি বছর সবজির স্বাস্থ্যসম্মত অধিক ফলন পেয়েছি।’ 
 
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা চিত্রা সরকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন নারীরা। চাষিদের সবজিখেতে ও ফলের বাগানে ভার্মি কম্পোস্ট সার প্রয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছি। তাঁদের এ ধরনের উদ্যোগে যাবতীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ 

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    হাতীবান্ধায় বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    উত্তরা-আগারগাঁও রুটে চালু হলো মেট্রোরেলের সব স্টেশন

    ফকিরহাটে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে আরেক ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১

    নাটোরে বিএনপির ইফতার ঠেকাতে আ.লীগের ‘শান্তি সমাবেশ’, মঞ্চ ভাঙচুর

    সচিবের পিএস পরিচয়ে বাসাভাড়া, বাড়ির মালিকের টাকা আত্মসাৎ

    রাণীনগরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ 

    ভারতে মন্দিরের কূপের ছাদ ধসে ৩৫ জনের মৃত্যু

    হাতীবান্ধায় বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    ৪৫ জন নেবে গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট

    ফ্লাইটে প্রবাসীর মৃত্যু: বৈমানিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বিমান

    এক বছরে একাই ৬ লাখ রুপির ইডলি অর্ডার করেছেন

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থী অজয় বঙ্গাকে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা