Alexa
বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 

তদন্ত কমিটির ম্যাজিক রিয়ালিজম

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ০৯:৪২

তদন্ত কমিটির ম্যাজিক রিয়ালিজম আমাদের সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি। তদন্ত করতে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো যাবে না—এ রকম দিব্যি কে দিল? মানুষ টাকা চুরি করলেই খারাপ হয়ে যাবে, সে কথা কে বলল? তাঁর বিরুদ্ধে ১৩টি অভিযোগ থাকলেই কি তিনি খারাপ মানুষ হয়ে গেলেন? শিক্ষার্থী আর প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেই কি তিনি দোষী? একজন ‘নিরীহ’, ‘দক্ষ’ ইনচার্জের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে কি না, সেটাও তো তলিয়ে দেখা দরকার।

মেনে নিচ্ছি, তদন্তেই প্রমাণিত হবে তিনি দোষী কি নির্দোষ। তদন্তই হলো না, আর আমরা সবাই মিলে চিৎকার করতে শুরু করলাম—কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-সংলগ্ন কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ মোসা. কাঞ্চনমালা অপরাধ করেছেন। তিনি টাকা আত্মসাৎ করেছেন!

মামলা হয়েছিল আগেই, তাই তদন্তে এসেছেন তিনজন। তাঁরা মামলার বিবরণী নিশ্চয়ই পড়েছেন। কুষ্টিয়ায় আসার আগেই তাঁরা জেনে গেছেন ইনচার্জের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আছে। একটি বলি। প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারসামগ্রী কেনার সময় ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। আরে! রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে বালিশ কেনার নাম করে কত টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, তা কি আমাদের জানা নেই? সেই পুকুরচুরির কথা মনে রাখলে কুষ্টিয়ার এই ঘটনাকে কতটা মূল্য দেওয়া উচিত?

এ কথা বোঝেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। তাই তো তাঁরা ঠিক করেছেন, তদন্ত এগোবে নিজের পথে। তবে এই নিজের পথটি মসৃণ করে তোলার ক্ষেত্রে যদি কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ সামান্য ভূমিকা রাখেন, তাতে কার কী এসে-যায়? ঢাকা থেকে নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফ অধিদপ্তরের উপসচিব পরিচালক (শিক্ষা) মো. রশিদুল মান্নাফ কবির তিন সদস্যের যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, তাঁদেরই একজন সরলভাবে বলতে পারেন, ‘যেহেতু তিনি (ইনচার্জ) তদন্তে এখনো দোষী প্রমাণিত হননি, সে জন্য তাঁকে নিয়ে বেড়ানো দোষের কিছু নয়।’

সম্ভবত তদন্তকারী দল তদন্ত করতে এসে ম্যাজিক রিয়ালিজমের পাল্লায় পড়ে ‘ছু-মন্তর-ছু’ বলে ভ্রমণসঙ্গী হিসেবে অভিযুক্ত ইনচার্জকেই বেছে নিয়েছেন। কুষ্টিয়ায় এসেছেন অথচ ছেঁউড়িয়ায় লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়িতে যাবেন না, তা কি হয়? অগত্যা নার্সিং ইনস্টিটিউটের কোচে চড়েই আখড়া দর্শন! সঙ্গী কে? অবশ্যই অভিযুক্ত ইনচার্জ! আর আপ্যায়নের কথা না হয় না-ই বলি। ভূরিভোজটাও হয়েছে ইনচার্জের কল্যাণে।

এ ধরনের ইনচার্জরা শুধু ‘অভিযুক্ত’ই থেকে যাবেন, তাঁরা ‘দোষী প্রমাণিত’ হবেন কি হবেন না, সেটা কি আগাম বলে দেওয়া যায়? তাহলেও তো ম্যাজিক রিয়ালিজমের সাহায্য নিতে হবে। আমরা বরং এহেন তদন্ত কমিটির নামে জয়ধ্বনি দিতে থাকি, তাতে ইনস্টিটিউটের বারোটা বাজলেও কারও কিছু আসবে-যাবে না। রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, আমাদের দেশটায় জবাবদিহি কোথায় এসে ঠেকেছে, তা এই ঘটনা থেকেই পরিষ্কার বোঝা যায়। অভিযুক্ত আর তদন্ত কমিটির সদস্যদের এই হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক অক্ষয় হলে কী হবে, তা নিশ্চয়ই আর বুঝিয়ে বলতে হবে না।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রভাষা

    কৃষিজমি সুরক্ষায় অঙ্গীকার ও তৎপরতা

    ‘হাঁসুলিবাঁকের নসুবালা’

    এ কেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান!

    ফ্লোরা হল্যান্ড ফুল-বাণিজ্যের রাজ্য

    কোথায় নতুন প্রজন্মের নেতা?

    বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় রাজি নয় আদানি

    ডলার সংকট না কাটলে ফল আমদানি নয়

    আরও তেল ও ডাল কিনছে সরকার

    ভূমিকম্পে তুরস্ক-সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে

    নোয়াখালীতে ট্রলি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২