Alexa
রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 

উদ্যোগ

ভালো কাজে মিলছে খাবার

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭:০২

ঢাকা শহরের পাঁচটি জায়গায় ‘ভালো কাজের হোটেল’ বিনা মূল্যে খাবার দেয়। ছবিটি কারওয়ান বাজারের পান্থকুঞ্জ থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ও সুন্দরবন হোটেলের মাঝখানে যে শ্রীহীন পার্ক, সেটির নাম পান্থকুঞ্জ। তখন দুপুর। শামিয়ানা টাঙানো শেডের নিচে বসে বিভিন্ন বয়সী বেশ কিছু মানুষ খাবার খাচ্ছেন। কেউ খাবার নেওয়ার জন্য নাম লিখে দিচ্ছেন। দেখেই বুঝবেন, এই মানুষগুলো রাজধানী ঢাকায় ভীষণভাবে প্রান্তিক! এ হোটেলে খেতে টাকা লাগে না, কিন্তু করতে হয় যেকোনো একটি ভালো কাজ! এ হোটেল ‘ভালো কাজের হোটেল’ হিসেবে বিখ্যাত।

ব্যাপক কৌতূহলে শীতের এক দুপুরে হোটেলটিতে ঢুকে গেলাম। কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী সেখানে খাবারদাবার তদারক করছিলেন। রুবেল নামের এক স্বেচ্ছাসেবী খাবার খেতে আসা মানুষদের নামধাম লিখে নিচ্ছিলেন। রুবেলের পাশে দাঁড়িয়ে খাবারপ্রত্যাশী মানুষদের ভালো কাজের কথা শুনতে লাগলাম। বিচিত্র সেই সব কাজ। কেউ বললেন, তিনি এক অন্ধকে রাস্তা পার করে দিয়েছেন। কেউ বললেন, তিনি এক সপ্তাহ থেকে আর নেশা করছেন না। রুবেলকে বললাম, সব সত্যি? তিনি হাসলেন। এখানে দিনে দেড়-দুই শ মানুষ খেতে আসেন।

মেয়ের লেমিনেটিং ছবি হাতে এক নারী দাঁড়ালেন লাইনে। চোখ ছলছল। ধীর পায়ে এগিয়ে এলেন রুবেলের দিকে। রুবেল কিছু বলার আগেই তিনি বললেন, তাঁর মেয়ে শিশু হাসপাতালে ভর্তি। চিকিৎসার টাকা জোগাড়ের জন্য ভিক্ষা করছেন। কিন্তু সকালবেলা এক বৃদ্ধাকে ১০ টাকা দিয়েছেন নাশতা খেতে। তাই দুপুরে তিনি এখানে খেতে চান। তাতে যে টাকা বেঁচে যাবে, সেটা মেয়ের চিকিৎসায় খুব দরকার।

রুবেল বাক্যহারা। হাতের ইশারায় খেতে যেতে বললেন। নাম লিখতেও ভুলে গেলেন সেই নারীর। বেশ কিছুক্ষণ এমন সব ঘটনার মুখোমুখি হয়ে এক অদ্ভুত শীতের দুপুর দেখতে দেখতে রাজধানীর জন-অরণ্যে মিশে গেলাম। কিন্তু ভেতরে রয়ে গেল এই অসমাপ্ত গল্প সমাপ্ত করার ইচ্ছা।

দুই দিনের মধ্যে জানতে পারলাম, ঢাকার সবুজবাগ এলাকার কালীবাড়ি পানির পাম্পের পাশে প্রশান্তিবাগে ভালো কাজের হোটেলের রান্নাঘর।গতকাল সেই রান্নাঘরের দরজার সামনে বাইক থেকে যখন নামলাম, সকাল নয়টা। সবুজ ফ্লুরোসেন্ট রঙের টি-শার্ট পরিহিত এক তরুণ দরজা খুলে হাত বাড়িয়ে দিলেন। হাত ঝাঁকিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেল, দুটি বড় ডেকচিতে রান্না করা ভাত ঢেকে রাখা হয়েছে। বিশাল এক কড়াইয়ে তখন রান্না হচ্ছে সবজি। পাশেই বেশ বড় আকারের একটি গামলায় রাখা আছে ভাজা সেদ্ধ ডিম। জানা গেল, কোনো কোনো দিন এখানেই রান্না হয় খিচুড়ি অথবা পোলাও কিংবা চিকেন বিরিয়ানি! না। এটি কোনো ক্যাটারিং সার্ভিসের রান্নাঘর নয়। এখান থেকেই পান্থকুঞ্জ, সাতরাস্তা, বনানী ১১ নম্বর, কমলাপুর ও খিলগাঁওয়ের যে পাঁচটি ভালো কাজের হোটেল আছে, সেগুলোয় খাবার পাঠানো হয়। এ রান্নাঘরে প্রতিদিন ১১ শ থেকে ১২ শ মানুষের খাবার রান্না করা হয়!

‘ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠন এ প্রকল্প পরিচালনা করছে। এর উদ্যোক্তা আরিফুর রহমান। মূলত সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের চাঁদার টাকায় চলে প্রকল্পটি। সংগঠনটিতে প্রায় ১৮ শ সদস্য আছেন। তাঁদের মধ্যে প্রতি মাসে আনুমানিক দেড় হাজার সদস্য ৩০০ টাকা করে চাঁদা দেন। সেটার সঙ্গে কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীর দেওয়া টাকায় চলে পুরো প্রকল্প।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     
    ভোটের মাঠে

    নিজের ঘরের দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগ

    সিসিক: কারসাজিতে করের বাইরে ছিল দুই হাজার হোল্ডিং

    ‘অস্ত্রবাজ’ নিয়াজুলের পদোন্নতি

    স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন: পাস হওয়ার আগেই বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

    ঈদে আসছে অপুর ‘লাল শাড়ি’

    হিন্দু সম্প্রদায় মুসলিম শাসনকালে

    সাত বছরের শিশু হত্যার দায়ে একজনের আমৃত্যু আরেক জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বাংলাদেশ থেকে অভিবাসন ব্যয় কমাতে চায় মালয়েশিয়া

    বেতন জটিলতার সমাধান চান প্রাথমিক শিক্ষকেরা

    রাবারকে কৃষি পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি চায় বাগান মালিকেরা 

    টোয়াবের পর্যটন মেলার টাইটেল স্পনসর ইউএস-বাংলা