Alexa
সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 

বর্বরতা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৪৮

বর্বরতা মানুষ কতটা পাষণ্ড বা হৃদয়হীন হয়ে উঠছে, তার একটি ছোট্ট উদাহরণ হতে পারে রোববার আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত ‘কিশোরের পায়ে পেরেক ঢুকিয়ে নির্যাতন’ শিরোনামের খবরটি। ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার একটি গ্রামে। নিষ্ঠুর নির্যাতনে গুরুতর আহত সজীব মোল্লা নামের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোর শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন চিকিৎসা নিচ্ছে। তার আঘাত খুব গুরুতর না হলেও সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লাগবে। তবে কেন এমন নির্যাতনের শিকার হতে হলো এই কিশোরকে? খবরটি পড়ে নেওয়া যাক: মাগুরার শালিখায় বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছে এক কিশোর। শুক্রবার উপজেলার ছান্দড়া গ্রামে সজীব মোল্লা (১২) নামের ওই কিশোরকে চুরির অপবাদে পায়ে পেরেক ঢুকিয়ে নির্যাতন করেন স্থানীয় পোলট্রি ও মুদি ব্যবসায়ী হাসান আলী। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসানকে ১৫১ ধারায় আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সজীব ছান্দড়া গ্রামের কোহিনুর মোল্লার ছেলে। সে স্থানীয় ছান্দড়া প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সজীবের চাচা জয়নুল জানান, সজীব শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে ছান্দড়া চৌরাস্তা জামে মসজিদে যায়। এ সময় স্থানীয় মুদিদোকানদার হাসান তাকে দোকানে আটকে রেখে চোর অপবাদ দিয়ে নির্যাতন চালান। এরপর তাঁরা তাকে একটি ঘরের মধ্যে নিয়ে পায়ে পেরেক পুঁতে দেন। হাতুড়ি দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় করেন নির্যাতন। পরে শালিখা থানা-পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সজীবের পায়ে ও শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক।

সজীবের বাবা কোহিনুর মোল্লা নির্যাতনের যে বিবরণ দিয়েছেন, তা এককথায় ভয়াবহ। সজীবকে প্রথমে রশি দিয়ে বেঁধে ঘরে নিয়ে যায়।তারপর পায়ের মধ্যে পেরেক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। একটি বাচ্চা ছেলের ওপর এভাবে নির্যাতন করা যে অন্যায় এবং এটা যে দেশে প্রচলিত আইনের চোখে অপরাধ, সেটা কি নির্যাতনকারী ব্যক্তির জানা ছিল না? সজীব যে চুরি করেছে, সেটা কিন্তু প্রমাণিত নয়। অভিযোগমাত্র।

চুরির ঘটনা হয়তো মিথ্যা নয়। কিন্তু চোরকে তো হাতেনাতে ধরা যায়নি। ১২ বছরের এক কিশোর চুরি করতে পারে না, সেটাও হয়তো ঠিক নয়। কিন্তু শুধু সন্দেহের বশে একজনকে ধরে সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক নয়।

আমাদের দেশে আইন না মানার কিংবা আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখানোর একটি প্রবণতা কারও কারও মধ্যে প্রবল হয়ে উঠছে। বড় অপরাধ করেও অনেকেই ছাড় পাচ্ছেন। ছোটখাটো অপরাধ করেও আবার কারও-বা নিষ্কৃতি মিলছে না। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই দেখা দরকার। সজীব মোল্লার ওপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় আটক ব্যক্তিকে কি এটা বুঝিয়ে দেওয়া হবে যে তিনি অপরাধ করেছেন?

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    রোহিঙ্গা নীতি-কৌশল আমূল পাল্টানো দরকার

    লোভের হাত থেকে ছাড় পেল না হজও

    অবক্ষয়ের মৌসুম

    ‘চো’ গেল পাখীরে

    স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন

    ‘মানুষের সাফল্য পরিমাপ করি বিত্ত আর ক্ষমতা দিয়ে’

    ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জনি হত্যা: ১৫ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ

    চাঁদপুরে ‘আত্মহত্যা’র প্ররোচনা মামলায় ১০ আসামি কারাগারে

    রমেক হাসপাতালে দুদকের অভিযান

    শাজাহানপুরে কলেজছাত্র আশিক হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার

    হবিগঞ্জে ট্রাকচাপায় কলেজছাত্রী নিহত, আহত ২ 

    মোবাইল ফোনের বিস্ফোরণ এড়াতে যা করবেন, যা করবেন না