Alexa
রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 

রাতের ক্রিকেট বদলে দিচ্ছে পাকিস্তানি মেয়েদের

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:২৩

এভাবে রাতে টেপ টেনিস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকছেন পাকিস্তানি মেয়েরা। ছবি: বিবিসি ‘আমি যদি অনুভূতিটা বোতলবন্দী করে রাখতাম’—সবুজ মাঠে হাঁটতে হাঁটতে ক্রিকেটে নারীদের সাফল্য নিয়ে কথাটা বলছিলেন পাকিস্তানের ‘খেলো ক্রিকেট’-এর প্রতিষ্ঠাতা হাদিল ওবায়েদ। মেয়েদের নিয়ে প্রথমবারের মতো রাত্রিকালীন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করে বেশ সাড়া জাগিয়েছেন তিনি। সেটিও পাকিস্তানের মতো রক্ষণশীল দেশে। আর এ টুর্নামেন্টই এখন বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে পাকিস্তানের মেয়েদের ক্রিকেটকে।

বিশ্বে এখন পুরুষ ক্রিকেটের সঙ্গে এখন এগিয়ে যাচ্ছে নারী ক্রিকেটও। মেয়েদের ক্রিকেটে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন দেশে ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির বিভিন্ন প্রোগ্রাম থাকলেও পাকিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন ওবায়েদ নামের এক ক্রিকেট সংগঠক। করাচিতে ২০১৬ সালে টেপ টেনিস বল নিয়ে প্রথম তিনি চালু করেন ‘খেলো ক্রিকেট’। খেলা চলে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত।

উপমহাদেশে টেপ টেনিস বলের টুর্নামেন্ট নতুন কিছু নয়। পাকিস্তানেও ছেলেদের রাত্রিকালীন টেপ টেনিস ক্রিকেট বেশ জনপ্রিয়। তবে এ জায়গায় বেশ পিছিয়ে ছিলেন নারীরা। নারীদের ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ওবায়েদের মাথায় আসে খেলো ক্রিকেট আয়োজনের। সেই লক্ষ্যে সাত বছর আগে এই টুর্নামেন্টের ধারণা নিয়ে বিজ্ঞাপন দেন তিনি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৫০ নিবন্ধন পেয়ে উৎসাহটাও বেড়ে যায় তাঁর। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি, দ্য টেলিগ্রাফের মধ্যে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম।

পাকিস্তানের রক্ষণশীল সমাজে নারীরা খেলাধুলায় অনেক পিছিয়ে। তবে এই ‘ট্যাবু’ ভাঙার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ওবায়েদ। এখন নিজের কন্যাদেরও মাঠে দেখে আবেগতাড়িত এবং উৎসাহিত হন মায়েরা। পাকিস্তানি মায়েদের এমন কথাগুলোয় বিবিসিকে সম্প্রতি জানিয়েছেন খেলো ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ‘মায়েরা আমার সামনে কাঁদেন এবং বলেন, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের মেয়েদের সুযোগ করে দেওয়ায়।’

২০২৩ সালে খেলো ক্রিকেট বছরেই হতে যাচ্ছে পাঁচবার। একেক সংস্করণে অংশ নিচ্ছে পুরো পাকিস্তানের ১০-১২টি দল। ম্যাচ সর্বোচ্চ ২০ ওভারের। টেনিস বলের ওপর বৈদ্যুতিক তার প্যাঁচানোর টেপ দিয়ে মোড়ানো শক্ত বল দিয়ে হয় খেলা। শুরুটা করাচিতে হলেও লাহোর ও রাওয়ালপিন্ডিতে এই টুর্নামেন্ট ছড়িয়ে দিতে চান ওবায়েদ। তিনি জানান, এই টুর্নামেন্ট নারীদের নিরাপদে ক্রিকেট খেলার সুযোগ দিচ্ছে। আর এই টুর্নামেন্টের কারণে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে পাকিস্তানের স্থানীয় নারী ক্লাবগুলোও।

পাকিস্তান জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের ফাতিমা সানা উঠে এসেছেন খেলো ক্রিকেট থেকে। গত বছর সানা আইসিসি নারী উদীয়মান ক্রিকেটারও নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এই টুর্নামেন্টটির। ওবায়েদ খেয়াল করেছেন, প্রতিটি টুর্নামেন্টে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাচ্ছে। টেলিগ্রাফকে তিনি বলছিলেন, ‘আমরা দেখছি, অনেক বাবা, ভাই কিংবা মানুষ—যাঁরা বাধা হতেন, তাঁরাই এখন রোমাঞ্চিত। আমাদের মেয়েরা পাকিস্তানের হয়ে খেলতে যাচ্ছে, এটা তারা গর্ব নিয়ে বলে। জানি না আগে এই গর্ব কেন দেখা যেত না। এখন আমরা এটাকে দেখি আসল উদ্‌যাপন আর সুযোগ হিসেবে।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    বাংলাদেশে আইটির সম্ভাবনা কেমন?

    ক্যারিয়ারে ভালো করার ছয় ধাপ

    ক্ষমা করার সুফল পাবে তো আওয়ামী লীগ?

    সুচিত্রা সেনের মঞ্চনাটক

    দায়িত্বজ্ঞানহীনতা

    ভোটের মাঠে

    নৌকার দুর্গে নীরব বিএনপি

    সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহি

    তুরাগে নারী গার্মেন্টস কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পুলিশের ধারণা ‘আত্মহত্যা’

    চলমান আন্দোলনে বড় মাত্রা যোগ করেছে যুগপৎ কর্মসূচি: মির্জা ফখরুল 

    বালতিতে উপুড় হয়ে পড়েছিল শিশু আফিফা, হাসপাতালে মৃত্যু

    মোহনগঞ্জে সাবেক ইউপি সদস্যের দরজার সামনে কাফনের কাপড়, এলাকায় আতঙ্ক

    ফাওয়াদ বাদ পড়ায় অবাক আফ্রিদি