Alexa
রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 
ভোটের মাঠে

ঠাকুরগাঁও-১: ফখরুলকে থামাতে বড় আয়োজন

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:১২

ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রমেশ চন্দ্র সেন, মুহা. সাদেক কুরাইশী, সাহেদুল ইসলাম সাহেদ। আসনটা রমেশ চন্দ্র সেনের বললে খুব একটা ভুল বলা হবে না। আওয়ামী লীগের প্রবীণ এ নেতা টানা তিনবার ঠাকুরগাঁও-১ (সদর উপজেলা) আসনের এমপি হয়েছেন। এর মধ্যে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হারান। আগেও একবার হয়েছেন এমপি। এ আসনে নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। কখনো লড়াই করেছেন আওয়ামী লীগের খাদেমুল ইসলামের সঙ্গে, কখনো রমেশ চন্দ্র সেনের সঙ্গে। দুবার জিতেছেন, হেরেছেন একাধিকবার। ঠাকুরগাঁও-১ আসন যেন প্রবীণ এ নেতার উত্থান-পতনের চক্রে ঘোরার গল্প।

তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনেক পরিণত মনে হচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। দেশের বিভিন্ন বিভাগে আয়োজিত সমাবেশে কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত করে নজর কেড়েছেন জাতীয় রাজনীতিতে। বিএনপি নির্বাচনে গেলে এবার এ আসনের ভোটারদের নিজের দিকে টেনে নিতে পারেন মির্জা ফখরুল। এ কারণে আগে থেকেই ভিন্ন কৌশলে হাঁটতে চাইছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে মনোনয়ন পেতে মাঠে প্রচার শুরু করেছেন দলটির চার হেভিওয়েট নেতা। সবাই আওয়ামী লীগের উন্নয়নগাথা বর্ণনা করছেন। ফখরুলকে থামাতে মনোনয়নে বড় চমক নিয়ে আসতে পারে দলটি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো অন্তত এক বছর বাকি। নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ ঠাকুরগাঁও-১ আসন। তবে বিএনপি এখনো নির্বাচনে আসবে কি না, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়ায় দলটির প্রার্থীরা সরাসরি মাঠে নামেননি। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে দলটির এ আসন থেকে একক প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই প্রার্থী হিসেবে থাকছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক শীর্ষ নেতা।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য চার প্রার্থী এখন মাঠপর্যায়ে সক্রিয়। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর আদাজল খেয়ে মাঠে নামবেন তাঁরা। সেরে নিচ্ছেন প্রাথমিক প্রস্তুতি। হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে অন্যতম বর্তমান এমপি সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন। আলোচনায় আছেন ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহা. সাদেক কুরাইশী, ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও তিনবারের সাবেক এমপি প্রয়াত খাদেমুল ইসলামের ছেলে সাহেদুল ইসলাম সাহেদ এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট অরুনাংশু দত্ত টিটো।

ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে দলটির জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল রাজি স্বপন চৌধুরী প্রার্থী হতে পারেন।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতী সন্তান। তিনি একসময় জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এ জেলার মানুষ তাঁকে অনেক সম্মান করে ও ভালোবাসে। তাই এ আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে তিনিই বিএনপির একমাত্র যোগ্য প্রার্থী। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তবে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।’

আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী রমেশ চন্দ্র সেন চারবার এ আসনের এমপি হন। দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। নেতা-কর্মীদের দাবি, তিনি জনগণ ও দেশের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ 
করেছেন। আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছেন। রমেশ চন্দ্র সেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এলাকার মানুষ যদি উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে চায়, তাহলে আমাকে থাকতে হবে। তবে যদি যোগ্য ব্যক্তি পাই, অবশ্যই ছেড়ে দেব। যেহেতু এখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, তাই এখানে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে রাখতে হবে।’

মনোনয়নের মাঠে দীর্ঘদিন ধরেই সরব মুহা. সাদেক কুরাইশী। তিনি বলেন, ‘দলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নেও কাজ করছি। দল যদি মনে করে, দলীয় মনোনয়ন পেলেই নির্বাচন করব।’ তবে যে চমকের কথা বলা হচ্ছে, সেটি হতে পারেন প্রয়াত এমপি খাদেমুল ইসলামের ছেলে সাহেদুল ইসলাম সাহেদ। তাঁর বাবা টানা তিনবার এ আসনের এমপি হয়েছিলেন। সে সুবাদে এলাকায় বেশ পরিচিতি আছে সাহেদের। এ ছাড়া ২০১৯ সালে সাহেদুল ইসলাম সাহেদকে দুবাইয়ের মিনিস্টার অ্যান্ড ডেপুটি কনসাল জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসের ডেপুটি কনসাল জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

সাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকার মানুষের জন্য নিজের অর্থায়নে বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে যাচ্ছি। মাঠপর্যায়ে আমার প্রস্তুতি খুব ভালো।’ আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী অরুনাংশু দত্ত টিটো বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায় বলেই তিনি প্রার্থী হতে চাইছেন। নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়লাভসহ নানা ঘটনা সামনে আনছেন তিনি।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     
    ভোটের মাঠে

    নিজের ঘরের দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগ

    সিসিক: কারসাজিতে করের বাইরে ছিল দুই হাজার হোল্ডিং

    ‘অস্ত্রবাজ’ নিয়াজুলের পদোন্নতি

    স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন: পাস হওয়ার আগেই বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

    ঈদে আসছে অপুর ‘লাল শাড়ি’

    হিন্দু সম্প্রদায় মুসলিম শাসনকালে

    বিদেশে উচ্চশিক্ষা: নিড ব্লাইন্ড স্কলারশিপের আদ্যোপান্ত

    গাইবান্ধায় ট্রাকচাপায় অটোরিকশার যাত্রী নিহত, আহত চালক

    গাংনীতে যাত্রীবাহী বাস উল্টে আহত ৩০ 

    উচ্ছ্বসিত ফেরদৌস

    ‘গ্ল্যামার’-এর প্রথম অতিথি পূজা চেরি

    কাসেমিরোর গ্রেপ্তার চেয়ে বিদ্রুপের শিকার সাবেক ফুটবলার