Alexa
রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 

নীতিমালার আগেই বৈকালিক রোগী দেখার ঘোষণা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:৩২

 দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস বা প্রাতিষ্ঠানিক রোগী দেখা চালু হতে যাচ্ছে। আগামী ১ মার্চ থেকে এক শর মতো উপজেলা, জেলা ও মেডিকেল কলেজ পর্যায়ে এই সেবা চালু হবে। দেশের মানুষ কম খরচে পাবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা। এসব তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী। তবে এই সময়ের মধ্যে সেবাটি চালু হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এখনো এ-সংক্রান্ত নীতিমালাই হয়নি। তা ছাড়া, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সপ্তাহে এক দিন তিন ঘণ্টা সময় দিলে দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির আশানুরূপ পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও কেউ কেউ মনে করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সব সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক রোগী দেখা চালু করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে এত অল্প সময়ে চালু করা সম্ভব হবে না। তা ছাড়া, নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে, যেন রোগী ও চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবার স্বার্থ রক্ষা হয়। পাশাপাশি বেসরকারি খাতনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা পরিবর্তনে যেন ভূমিকা রাখতে পারে, সে দিকেও লক্ষ রাখতে হবে।

এ প্রসঙ্গে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক এম এ আজিজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে এটি আরও আগেই চালু করা উচিত ছিল। তা ছাড়া, নীতিমালা প্রণয়ন করে সেটি অনুমোদন করতে অনেক সময় প্রয়োজন। তাই খুব শিগগির এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাতিষ্ঠানিক রোগী দেখা নীতিমালা প্রণয়নসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গতকাল রোববার সকালে এক সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, দেশের চিকিৎসাসেবায় গুণগত পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণে হাসপাতালের নির্ধারিত অফিস সময়ের পর নিজ কর্মস্থলে থেকে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস প্রবর্তন করা হবে। এটি বাস্তবায়নে প্রাধনমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।

সভার পরে দুপুরেই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলেন জানান, আগামী ১ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস। অর্থাৎ চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে হলে ছুটির পরে হাসপাতালেই করতে হবে। আপাতত ৫০টি উপজেলা, ৩০টি জেলা এবং ৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই প্র্যাকটিস শুরু হচ্ছে। ফির পরিমাণ নির্ধারণ করতে একটি কমিটি করা হবে। তিনি বলেন, মানুষ যাতে কম খরচে নিজ দেশে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে, এ জন্য ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এখানে রোগীকে পরামর্শ ছাড়াও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সব ধরনের সেবা থাকবে। 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাতিষ্ঠানিক রোগী দেখা নীতিমালার খাসড়া তৈরি করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। ১৭ জানুয়ারি বিএসএমএমইউতে এই কমিটির প্রথম সভা হয়। সভায় একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক রোগী দেখার উদ্যোগ বাস্তবায়নে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে বর্তমানে চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণার কাজ যেভাবে চলছে, তার বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। প্রথমে অগ্রগামী প্রকল্প হিসেবে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এটি চালু করতে হবে। অভিজ্ঞতার আলোকে পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা হাসপাতালে চালু করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় কীভাবে এই পদ্ধতি চলছে, তা পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে চালু করা যেতে পারে। এতে সরকারি হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে জনগণ বিশেষজ্ঞ সেবা পাবে।

এ প্রসঙ্গে নীতিমালা প্রণয়নসংক্রান্ত কমিটির সভাপতি শারফুদ্দিন আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস শুরু হলে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ হবে না। সপ্তাহে মাত্র এক দিন রোস্টার করে বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিশেষজ্ঞরা সময় দেবেন। এরপর তাঁরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন।’ তিনি বলেন, নীতিমালা করতে ২১ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে এটি চালু করা সম্ভব কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হয়তো দু-একটি হাসপাতালে পাইলটিং করা যেতে পারে। সারা দেশে করতে আরও অনেক সময়ের প্রয়োজন।’

কমিটির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক বৈকালিক রোস্টার (কার্যতালিকা) চালু করা যেতে পারে। আয়-ব্যয়ের ক্ষমতা স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত থাকবে, যা একটি নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। বিকেলে বহির্বিভাগে রোগী দেখার জন্য বসার স্থান আধুনিকায়ন করতে হবে।

কার্যতালিকা করে নার্স ও সহায়ক জনবলের দায়িত্ব দিতে হবে। এ জন্য উৎসাহ ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। বিকেলে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্রুত সময়ে করা এবং দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এই পদ্ধতি চালু করতে হলে চিকিৎসক, সহায়ক কর্মকর্তা, নার্স, কর্মচারীর শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। উন্নত করতে হবে ল্যাবরেটরি সার্ভিস। চিকিৎসকদের প্রণোদনা দিতে হবে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ সম্প্রসারণ করতে হবে। প্রাপ্ত আয়ের ১০ শতাংশ আয়কর হিসেবে কাটা হবে। বাকি অর্থের ৬০ শতাংশ কনসালট্যান্ট এবং ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ও সহায়তাকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। কনসালট্যান্টদের পরিবহন সুবিধা দিতে হবে।

অধ্যাপক এম এ আজিজ বলেন, নতুন পদ্ধতি চালু করার জন্য নীতিমালা লাগবে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতেও এ পদ্ধতি চালু করা যায় কি না, তা ভেবে দেখা দরকার।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    সরকারই ভোজ্যতেল ও চিনি আমদানিতে নামছে

    পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার কোচ

    চিকিৎসার আগে মন ভরে ফুলের সৌন্দর্যে

    এক দশকে আবাদি জমি কমেছে ৬০ শতাংশ

    মেলার ভেতর আরেক মেলা

    ৫০০ হেক্টর অনাবাদি জমিতে ফলবে ফসল

    এবং বই-এর পঞ্চম বর্ষপূর্তিতে আনন্দ সম্মিলন

    উপশাখা ব্যবসার উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংকের সম্মেলন 

    রেমিট্যান্স গায়েব করেছিলেন তারেকের সাবেক পিএস: সিআইডির দাবি

    সরকারই ভোজ্যতেল ও চিনি আমদানিতে নামছে

    ৮৩ হাজার কর্মী নেবে ইতালি, সুযোগ পাবেন বাংলাদেশিরাও

    বার কাউন্সিল সভায় বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ালেন বিএনপি-আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা