Alexa
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 

সমাজসেবা

স্বেচ্ছাশ্রমে দাফন-কাফন

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:০৯

যশোরের ঝিকরগাছার কৃষ্ণনগরের ‘আমার ঠিকানা কবর’ সংগঠনটির কয়েকজন সদস্য। ছবি: আজকের পত্রিকা দীর্ঘ ৪৭ বছর স্থানীয় ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের শেষযাত্রায় সঙ্গী হচ্ছেন তাঁরা। বিনা পারিশ্রমিকে করে যাচ্ছেন সে কাজ। সম্পদশালী হোক কিংবা সহায়হীন, সমান শ্রদ্ধায় সবার শেষযাত্রায় সঙ্গী হয়েছেন তাঁরা বিনা বাক্যব্যয়ে। গত ৪৭ বছরে সংগঠনটি প্রায় ১ হাজার ৪০০ কবর খনন ও দাফন-কাফন সম্পন্ন করেছে!

যশোরের ঝিকরগাছার ‘আমার ঠিকানা কবর’ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির সদস্যরা এ কাজ করে চলেছেন। পৌর সদরের কৃষ্ণনগর বায়তুল আমান জামে মসজিদের পাশে সংগঠনটির কার্যালয়।

 ১৯৭৬ সালে ছয়জন সদস্য নিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এখন সংগঠনের ১৬ সদস্যের একটি কার্যকরী কমিটি আছে। এর সদস্যরা স্বপ্রণোদিত হয়ে কবর খনন থেকে লাশ দাফন-কাফন করেন। এ জন্য সদস্যরা কল্যাণ তহবিলে প্রতি মাসে জমা দেন ২০ টাকা করে। উল্লেখ করার বিষয় হলো, আমার ঠিকানা কবর নামের এ সংগঠনের প্রায় সব সদস্য খেটে খাওয়া মানুষ। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও কবর খনন, দাফন-কাফনে অংশ নিতে কোনো অবস্থায় অবহেলার অভিযোগ নেই তাঁদের বিরুদ্ধে। মৃত্যুসংবাদ শুনলে সদস্যরা এসে হাজির হন সংগঠনটির কার্যালয়ে। এরপর কবর খননের সরঞ্জামসহ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মৃতের বাড়িতে হাজির হয়ে পূর্ণ ধর্মীয় মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পরবর্তী কাজ শেষ করেন। কবর খননে নিজস্ব সরঞ্জাম, পোশাক, জেনারেটর, জ্বালানি খরচসহ সব ব্যয়ভার বহন করেন সংগঠনটির সদস্যরা। সংগঠনের কল্যাণ তহবিলের অর্থ দিয়ে বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়। এক দিনে একাধিক দাফন-কাফনেও অংশ নিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যরা!

সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী ইদুলের সঙ্গে কথা হয়। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। আর্থিকভাবে মানুষের উপকার করার সামর্থ্য না থাকায় এই সংগঠনের সঙ্গে থেকে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। অন্য সদস্য শাহাদত হোসেন জানিয়েছেন, তাঁর সংসার চলে ভ্যান চালিয়ে। নিজস্ব কোনো জায়গাজমি নেই তাঁর। তারপরও তিনি ২৪ বছর ধরে সংগঠনটির সঙ্গে আছেন। এ সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন শিক্ষার্থী হান্নান হোসেন। তিনি ১০ বছর ধরে সংগঠনটির সদস্য।

আমার ঠিকানা কবর নামের এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফিরোজ মাসুদ। ছোটবেলা থেকে কৃষ্ণনগর গ্রামের মজহার আলী বিশ্বাসসহ কয়েকজনকে কবর খনন করতে দেখে বড় হন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছেন, মৃত্যুপরবর্তী বিষয়গুলো নিয়ে শোকার্ত পরিবারের অনেকেই বিভিন্ন কারণে সমস্যায় পড়ে যান। তিনি বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। গ্রামের ইসমাইল হোসেনসহ কয়েকজনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। এরই একপর্যায়ে আমার ঠিকানা কবর নামের সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে।

দূরদূরান্তে কবর খনন ও দাফন-কাফনে অংশ নিতে সরঞ্জামসহ পৌঁছাতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। এ সমস্যা সমাধানে নিজেদের একটি পরিবহন দরকার। ফিরোজ মাসুদ সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে আরজি জানিয়েছেন তাঁদের পরিবহন সমস্যা দূর করার জন্য।

আমার ঠিকানা কবর নামে এ সংগঠনের বিষয়ে ভালো খোঁজখবর রাখেন একুশে পদক পাওয়া বরেণ্য সাহিত্যিক হোসেনউদ্দীন হোসেন। তিনি বলেছেন, সংগঠনটির বেশির ভাগ সদস্য শ্রমজীবী। সব সীমাবদ্ধতার ওপরে উঠে তাঁরা যা করছেন, সেটা অনন্য। সমাজেরও দায়িত্ব আছে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর। 

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    মনসুর কি হারিয়ে যাবেন

    নাদালের পাশে বসা জোকোভিচের যত রেকর্ড

    বিপিএলে কেন আচরণবিধি ভাঙছেন ক্রিকেটাররা

    শুরু হচ্ছে বাংলা খেয়াল উৎসব

    ডলারের চাপ ঋণ শোধে

    ৮ কিলোমিটারে ৪০ বাঁক, সড়ক যেন মরণফাঁদ

    নাটক ছাড়ছেন না মেহজাবীন

    শুরু হচ্ছে সিসিমপুরের নতুন মৌসুম

    এভাবেও প্রচারণা হয়!

    বাস্তবতা দিয়ে গড়া প্রতিটি দৃশ্য

    মনসুর কি হারিয়ে যাবেন

    ক্ষমা পেলেও পদ পাচ্ছেন না