Alexa
সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 
ভোটের মাঠে

কেউ সরব, কেউ নীরব প্রচারে

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৪৩

মজাহারুল হক প্রধান, নাজমুল হক প্রধান, নওশাদ জমির ও আবু সালেক দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঢের বাকি থাকলেও পঞ্চগড়-১ আসনে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে তৎপরতা চালানো শুরু করেছেন। যদিও এ তৎপরতা শুধু আওয়ামী লীগেই লক্ষণীয়। অন্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের চোখে পড়ার মতো কোনো তৎপরতা নেই। তাঁরা দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকলেও ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ঘুরপাক খাচ্ছেন। তারপরও কেউ কেউ এ দ্বিধা রেখেই জানান দিচ্ছেন নিজেদের প্রার্থী হওয়ার কথা। 

একসময় এ আসন ছিল ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীর। ১৯৯৬ (দুবার) ও ২০০১ সালে এ আসন থেকে এমপি হন বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। এর আগেও বিএনপির প্রার্থীই জয় পেয়েছিলেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জমির উদ্দিন সরকারকে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দেন আওয়ামী লীগের মজাহারুল হক প্রধান। একসময়ের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জমির উদ্দিন সরকার তাঁর কাছে হেরে যান ৫০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে।

পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনের পরের নির্বাচনগুলো বেশ ঘোলাটে। ২০১৪ সালে আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। বর্তমানে বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান ‘নৌকা নাই মশাল আছে জয় বাংলার শক্তি আছে’ স্লোগান তুলে অল্প ভোটের ব্যবধানে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে অবশ্য মজাহারুল হক প্রধানকে প্রার্থী করে আওয়ামী লীগ। নিরাশ করেননি এ নেতা।

সম্প্রতি সাবেক এমপি নাজমুল হক প্রধান বিএনপির সঙ্গে সমমনা কয়েকটি দলের একটি জোটে সমর্থন দিয়েছেন। এ জন্য তিনি এবার বিএনপির সমর্থনে, নাকি নিজের দলের হয়ে নির্বাচন করবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। এ কারণে নির্বাচনী দল সাজাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে স্থানীয় নেতাদের।

এবার দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজাহারুল হক প্রধান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট, জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহসভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের সাবেক জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাঈমুজ্জামান মুক্তা, আটোয়ারী উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম।

বিএনপি থেকে এবারও প্রার্থী হতে পারেন সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। মনোনয়ন চাইবেন পঞ্চগড় পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে আবু সালেক, বাংলাদেশ জাসদ থেকে নাজমুল হক প্রধান ও জামায়াতে ইসলামী থেকে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল খালেকের নাম ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনে থাকা জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের ছেলে রাশেদ প্রধান মনোনয়ন চাইবেন।

তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার সাদাত সম্রাট মাঠে বেশ তৎপর। বর্তমান এমপির সঙ্গে সমানতালে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। আওয়ামী লীগকে কেন আবার সরকারে আনতে হবে, এর নানা যুক্তি তুলে ধরে জনসাধারণসহ ভোটারদের পক্ষে রাখার কৌশলী প্রচার চালাচ্ছেন। দলীয় ছোটখাটো সভায়ও সক্রিয়। এমপি মজাহারুল হক প্রধান ও তাঁর অনুসারীরা মনে করেন, প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার শক্তি-সামর্থ্য রয়েছে তাঁর। মনোনয়ন পেলে তিনি তৃতীয়বার জয় ছিনিয়ে আনতে পারবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম এলাকায় পরিচিত ছিলেন স্বচ্ছ ইমেজের মানুষ হিসেবে। তিনি এ আসনে দুবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে দুবারই অল্প ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তাঁর ছেলে আনোয়ার সাদাত সম্রাট। এ কারণে তাঁর মনোনয়ন পাওয়া নিয়েও রয়েছে গুঞ্জন। মনোনয়ন পেতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন নাঈমুজ্জামান মুক্তা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে নানা কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি শীতবস্ত্র বিতরণ, দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ছোটখাটো কাজ, পানচাষিদের ঋণ বরাদ্দ এনে দেওয়া এবং অসুস্থ ও দরিদ্র নেতা-কর্মীদের আর্থিক সহায়তা ছাড়াও দলীয় ও বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে নিয়ে উঠান বৈঠকসহ নানা ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। তাঁকে এবারও মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে। ঢাকায় অবস্থান করলেও মাঝেমধ্যে তিনি পঞ্চগড়ে এসে তিন উপজেলাতেই নেতা-কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছেন। আন্দোলনে আহত নেতা-কর্মীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। তৌহিদুল ইসলামও বেশ সক্রিয়।

তিন উপজেলার বেশ কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তরুণ ভোটাররা বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবার এ আসনে ধরাশায়ী হতে পারে আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপির প্রার্থীই যে দলটিকে ধরাশায়ী করবেন, এমনটি নয়। অন্য কোনো দল থেকেও হতে পারেন এমপি। তাঁরা মনে করছেন, জোট বেঁধে নির্বাচন করলে আসন দখলে নিতে পারবে বিএনপি। প্রবীণদের বেশির ভাগের মুখেই সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের নাম। প্রবীণ এ নেতাকে কাজে লাগিয়ে একটু কৌশলী হলেই আসন ফিরে পাবে বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগই থাকবে এগিয়ে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    আলহামদুলিল্লাহ বলার ফজিলত

    ‘সবকিছুর দাম বাড়লে গরিবের হইবেটা কী’

    মাঠে সক্রিয় হচ্ছেন আব্বাস

    রোহিঙ্গা নীতি-কৌশল আমূল পাল্টানো দরকার

    লোভের হাত থেকে ছাড় পেল না হজও

    ভোটের মাঠে

    দুর্গ ধরে রাখতে সাবধানি সাধন

    মানিকছড়িতে শিক্ষকের মারধরে হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থী 

    পুলিশের প্রতিবেদনে ৫ আসামি নির্দোষ, কারাগারে পাঠালেন আদালত

    ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জনি হত্যা: ১৫ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ

    চাঁদপুরে ‘আত্মহত্যা’র প্ররোচনা মামলায় ১০ আসামি কারাগারে

    রমেক হাসপাতালে দুদকের অভিযান

    শাজাহানপুরে কলেজছাত্র আশিক হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার