Alexa
রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 
ভোটের মাঠে

ঘোলাটে মাঠে নীরব প্রচারে নেতারা

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৩৭

সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার, মাহবুব হোসেন মেহেদী, আসাদুল হক বিশ্বাস ও শরীফুজ্জামান শরীফ। ছবি: সংগৃহীত চুয়াডাঙ্গার দুটি সংসদীয় আসনেই ছিল বিএনপির আধিপত্য। সদরের একাংশ যুক্ত থাকায় এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন খুব গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১, ১৯৯৬ (দুবার) এবং ২০০১ সালে এ আসন থেকে এমপি হন বিএনপির প্রার্থী। কিন্তু দলটি মুখ থুবড়ে পড়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে। আধিপত্য ভেঙে দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ওরফে ছেলুন জোয়ার্দ্দার।

এরপর টানা তিনবার এমপি হলেও আগামী নির্বাচনের আগে তাঁর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া আসন ফিরে পেতে মরিয়া বিএনপি দিতে পারে কঠিন কামড়। বয়স বিবেচনায় ছেলুন জোয়ার্দ্দারের হাতছাড়া হতে পারে নৌকার বইঠা। তবে মাঠ নিজের অনুকূলে আনতে মরিয়া এ নেতা। বসে নেই বাকিরাও। চলছে নীরব কর্মসূচি।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা ও আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা-১ সংসদীয় আসন। ভোটারসংখ্যা ৫ লাখ ৭ হাজার ২৬১।

গত ১২ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হলেও এখনো হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে নেতারা আছেন চিন্তায়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেশি দিন বাকি না থাকলেও আনুষ্ঠানিক প্রচারে এখনো মাঠে নামেননি কোনো মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মসূচি ও সামাজিক কাজের মাধ্যমে মাঠে আছেন অনেকে।

মনোনয়ন পেতে তৎপর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ-বিষয়ক সম্পাদক উপমহাদেশের প্রখ্যাত অর্থোপেডিক সার্জন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সামসুল আবেদীন খোকন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্পবাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলিপ কুমার আগরওয়ালা।

গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে পিছিয়ে নেই বিএনপিও। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব মো. শরীফুজ্জামান শরীফ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ছিলেন। দলের তৃণমূল এবং বিভাজিত নেতাদের এক কাতারে আনতে করে যাচ্ছেন পরিশ্রম। কেন্দ্রীয় এবং জেলার বিভিন্ন কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া প্রচারে না থাকলেও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুর ভাই ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াহেদুজ্জামান বুলা এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মো. কামরুজ্জামান দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে গুঞ্জন রয়েছে।

জাতীয় পার্টির অবস্থান ভালো না হলেও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন মনোনয়নপ্রত্যাশী। জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির আনোয়ারুল হক মালিক প্রার্থী হতে পারেন।

ভোটের মাঠে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের রাজনীতি এখন বেশ ঘোলাটে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগে এই ঘোলাটে ভাব বেশ স্পষ্ট। দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কোন্দল বাসা বেঁধেছে অনেকটা বড় পরিসরে। আর গত কয়েক বছরে সেই কোন্দলের ডালপালা ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়েও। বঙ্গবন্ধুর সময় থেকেই দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বর্তমান এমপি ছেলুন। নেতা-কর্মীরা বলছেন, দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সুনজরে আছেন এ নেতা। আগামী নির্বাচনেও তাঁকেই দেওয়া হবে মনোনয়ন।

কিন্তু বেশির ভাগ নেতা মনে করছেন, এবার ছেলুন জোয়ার্দ্দারের বেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি হয়েছে। মাহবুব হোসেন মেহেদীর কথাই বেশি আসছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার চালিয়েছেন এবং মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। স্বাধীনতার আগে থেকেই তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাহবুব হোসেন মেহেদীর বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক বলে তিনি দাবি করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে ছেলুন জোয়ার্দ্দারের আরেক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী আসাদুল হক বিশ্বাস।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দল। দলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনেকেই মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করবেন। তবে মনোনয়নের ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নেব।’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিএনপির শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলাতে দীর্ঘদিন কমিটির যে জটিলতা ছিল, ২০২২ সালে সেই জটিলতা শেষ হয়েছে। আমাদের নতুন কমিটি দিয়েছে। সেই কমিটি অনুযায়ী আমরা নির্বাচনী আসনে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি সম্পন্ন করেছি। দল নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোনো কোন্দল নেই।’

ওয়াহেদুজ্জামান বুলা বলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব। তা ছাড়া এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে আমরা যাব না। আমাদের দল আগের থেকে বেশি সুসংগঠিত। জনগণ পরিবর্তন চায়।’

এই আসনে জাতীয় পার্টির অবস্থান ভালো না হলেও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন জাতীয় পার্টির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি দলের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানিয়েছেন এ নেতা। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রুহুল আমিন জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে প্রার্থী হবেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আনোয়ারুল হক মালিক। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. জিনারুল ইসলাম জানান, তাঁদেরও প্রার্থী থাকবে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     
    ভোটের মাঠে

    নিজের ঘরের দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগ

    সিসিক: কারসাজিতে করের বাইরে ছিল দুই হাজার হোল্ডিং

    ‘অস্ত্রবাজ’ নিয়াজুলের পদোন্নতি

    স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন: পাস হওয়ার আগেই বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

    ঈদে আসছে অপুর ‘লাল শাড়ি’

    হিন্দু সম্প্রদায় মুসলিম শাসনকালে

    গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন বিধ্বস্ত ক্লপ 

    ‘চলছ খেলা চলবে, চারুকলা লড়বে’

    আড়াই ঘণ্টা পর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক

    সন্তানদের খোঁজে এসে ধর্ষণের শিকার নারী, গ্রেপ্তার ৫ 

    পুঠিয়ায় চালককে কুপিয়ে অটোরিকশা ছিনতাই