Alexa
রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 

এবার উত্তাপ গ্যাসে

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৩, ০৯:৫৩

এবার উত্তাপ গ্যাসে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পাশ কাটিয়ে সরকারের নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কয়েক দিনের মাথায় আবার শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনো এত বেশি দাম বাড়ানো হয়নি। অবশ্য গ্যাসের দাম বাড়ানোর চাপ থেকে এ যাত্রায় বেঁচে গেছেন আবাসিক, সিএনজি ও চা শিল্পের গ্রাহকেরা। তবে শিল্প খাতে এই দাম বাড়ানোর চাপ কার্যত ভোক্তাদের ওপরেই পড়বে। কারণ, শিল্পমালিকেরা খরচ বাড়ার অজুহাতে উৎপাদিত পণ্যের দামও বাড়াবেন।

১৯ জানুয়ারি আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, শিল্পকারখানার ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টের গ্যাসের দাম ৮৮ শতাংশ বেড়ে ১৬ থেকে হয়েছে ৩০ টাকা। বৃহৎ শিল্পে গ্যাসের দাম বেড়েছে ১৫০ শতাংশ। প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে করা হয়েছে ৩০ টাকা। মাঝারি শিল্পে ১১ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা, যা ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পে গ্যাসের দাম ১০ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা, যা ১৭৮ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ, দাম বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। নতুন দাম ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ পেতে ভর্তুকি কমানোর অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাজারে পণ্যের দাম নিয়ে আমাদের দেশে খামখেয়ালিপনা নতুন নয়। ক্রেতাদের স্বার্থ দেখার কেউ নেই। মুনাফালোভী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে বাজার। মূল্যবৃদ্ধির চাপে মানুষ দিশেহারা। এখন গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম আরও একদফা বাড়লে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে, বাড়বে মূল্যস্ফীতি।

শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস চাইলে শিল্পমালিকদের আমদানির সমান দাম দিতে হবে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে প্রশ্ন রেখেছেন, বিশ্বের কোন দেশ বিদ্যুৎ-গ্যাসে ভর্তুকি দেয়? প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।

বিদেশ থেকে চড়া দামে এলএনজি আমদানি করে কম দামে শিল্পমালিকদের কাছে বিক্রি করার যুক্তি নেই। তবে প্রশ্ন হলো, দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন করে গ্যাসের চাহিদা মেটানোর দৃশ্যমান উদ্যোগ ও পরিকল্পনা কি সরকার কখনো নিয়েছে? পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথাও ভাবা যেত; কিন্তু সরকার তা না করে বিশেষ কিছু গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার নীতিই নিয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কিছু কোম্পানিকে যে পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও বিশেষজ্ঞ মহলে সমালোচনা আছে।

ভর্তুকি কমিয়ে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি তখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যখন সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয়। জাতীয় অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব এড়ানো জনকল্যাণমুখী সরকারেরই দায়িত্ব।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    বাংলাদেশে আইটির সম্ভাবনা কেমন?

    ক্ষমা করার সুফল পাবে তো আওয়ামী লীগ?

    এমন ঐক্য যদি সব ক্ষেত্রে হতো!

    সুচিত্রা সেনের মঞ্চনাটক

    দায়িত্বজ্ঞানহীনতা

    ভোটের মাঠে

    নৌকার দুর্গে নীরব বিএনপি

    সিরাজগঞ্জে পৃথক স্থান থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার

    সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহি

    তুরাগে নারী গার্মেন্টস কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পুলিশের ধারণা ‘আত্মহত্যা’

    চলমান আন্দোলনে বড় মাত্রা যোগ করেছে যুগপৎ কর্মসূচি: মির্জা ফখরুল 

    বালতিতে উপুড় হয়ে পড়েছিল শিশু আফিফা, হাসপাতালে মৃত্যু

    মোহনগঞ্জে সাবেক ইউপি সদস্যের দরজার সামনে কাফনের কাপড়, এলাকায় আতঙ্ক