সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪

সেকশন

 

গণহারে পুকুর খনন

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:২১

ক্ষেতলালের আয়মাপুর গ্রামে প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া পুকুর খনন চলছে। গত শুক্রবার তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গণহারে ফসলি জমিতে পুকুর খনন এবং সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে জমি ভরাটের কাজ।

কৃষি ফসল উৎপাদনে বেশি শ্রম দিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় কম শ্রম ও ঝামেলাবিহীন অর্থ উপার্জন করতে ফসলি জমি কেটে পুকুর করছেন বলে জানিয়েছেন ওই কৃষকেরা। কেউ নিজে পুকুরে মাছ চাষ করছেন, আবার অনেকে বড় অর্থের বিনিময়ে মৎস্যচাষিদের কাছে পত্তনী (লিজ) রাখছেন পুকুর।

ফলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে খাদ্যশস্য উৎপাদনের ক্ষমতা কমে যাওয়া আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মত বিশিষ্টজনদের। এই উপজেলার মাটি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় আলু, ধানসহ বছরে তিনটি ফসল ফলে। সেই জমি নির্বিচারে কেটে পুকুর করছেন কৃষকেরা; বিশেষ করে শীতের মৌসুম এলেই ভেকু মেশিন দিয়ে দিনরাত চলে পুকুর খনন কাজ। এই সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। এতে কমে যাচ্ছে তিন ফসলি উর্বর জমি।

অন্যদিকে, পুকুর খননের কাদামাটি বিক্রি করার জন্য সেগুলো সড়কের ওপর দিয়ে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। তখন সড়কগুলো কর্দমাক্ত হয়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুকুর খনন করছেন উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ী গ্রামের আমজাদ হোসেন, আব্দুল লতিফ ও আফজাল হোসেন। আলমপুর ইউনিয়নের কানাই পুকুর গ্রামের জহুরুল ইসলাম মণ্ডল, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মহসিনা বেগম এবং পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর গ্রামের শ্রী হিরন চন্দ্র, বড়তারা ইউনিয়নের পাঠানপাড়া বাজারের পাশে দিপু মেম্বারও পুকুর খনন করছেন। পৌর এলাকার ইটাখোলা মহল্লার আনোয়ার হোসেন আম্বুও পুকুর খননের কাজ করেন। তবে এই খননকাজ উপজেলা প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষেতলাল উপজেলায় ১০-১৫টি পুকুর খননের কাজ চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে উপজেলার আইমাপুর গ্রামের এনাম তালুকদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নয়াগাড়ী পুকুর (সরকারি) খনন করে মাটি বিক্রি করেছেন।

সেই কাদামাটি বহনে পাকা রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।যদিও এনাম তালুকদার বলেন, মৌখিকভাবে মাটি কাটার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন জানায়, মাটি কাটার অনুমোদন কাউকে দেওয়া হয়নি।

পুকুর খননকারী কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি পুকুর খননে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা ওপর মহলকে দিতে হয়।

পুকুর খননকারী দৌলতপুর গ্রামের হিরন চন্দ্র বলেন, বাড়ির পাশের জমিতে ফসল তেমন হয় না। সে জন্য পুকুর দেওয়া হচ্ছে। মাছ চাষে লাভ বেশি। সরকারি অনুমোদনের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিবুল হাসান বলেন, ‘আমার জানামতে কয়েকটি পুকুরের মাটি কাটার কাজ বন্ধ করা হয়েছে। তবে অনেক সময় জানা যায় না। কেউ অবৈধভাবে মাটি কাটলে সেটা বন্ধ করে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    আনোয়ারুল হত্যায় সাইদুল জড়িত, খুনিদের টাকা দেওয়ার কথা ছিল তাঁরও: কামালের জবানবন্দি

    সিলেটে টিলার নিচে নির্ঘুম রাত, প্রশাসন তবু নীরব

    শতবর্ষী সরকারি পুকুর ভরাট উদ্যানতত্ত্ববিদের

    পুলিশের গুলিতে পুলিশ নিহত

    তদন্ত আটকে আছে ফরেনসিকে, গ্যাস বাবুকে আটক করেছে ডিবি

    গঙ্গাচড়ায় আ.লীগ নেতাদের পরাজয়ের নেপথ্যে ‘জনবিচ্ছিন্নতা’

    খাবারে ব্লেড পাওয়া যাত্রীকে অফার দিয়ে শান্ত করতে চাইল এয়ার ইন্ডিয়া

    পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

    মসজিদের শয়নকক্ষে ঢুকে ইমামকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

    এবার লেখিকার ভূমিকায় আলিয়া ভাট

    বাংলাদেশ এত বেশি ম্যাচ আর কোনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জেতেনি

    ঈদুল আজহা কোন দেশে কেমন