Alexa
রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 

জীবনের মায়া ছেড়ে যুদ্ধে

মনের তাড়নায় যুদ্ধ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল অনন্য। সম্মুখযুদ্ধ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা, খাবারদাবার, কাপড়চোপড়, অর্থ কিংবা সংবাদ সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশ নিয়েছিলেন অনেক নারী। এসব কাজ করতে গিয়ে নির্যাতিত হতে হয়েছে অনেককে। বিভিন্ন কারণে নারীরা এক ভয়ানক সংকটকাল কাটিয়েছেন পুরো মুক্তিযুদ্ধকালে। যুদ্ধকালে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন মাহফুজা খানম। সেসব কথা অনুলিখন করেন মন্টি বৈষ্ণব

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫:৪৬

মাহফুজা খানম যুদ্ধের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল মৃত্যুর সঙ্গে আলিঙ্গন করার মতো অবস্থা। সে সময় বেঁচে থাকাটা ছিল পরম সৌভাগ্যের বিষয়। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে কাগজপত্র আসত।

আমি সেগুলি সাইক্লোস্টাইল করতাম। আমি পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হওয়ার সুবাদে পদার্থবিজ্ঞানের রুমে বসে এ কাজ করতাম। আমাকে বাইরে থেকে তালা দিয়ে রাখা হতো। এ ছাড়া আমরা ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঢাকায় বিভিন্ন ধরনের অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত হই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অপারেশন ছিল পুরানা পল্টনের ইউএসএস লাইব্রেরি আর মতিঝিলের টিভি টাওয়ারে অপারেশন। আমাদের বাড়িতে অস্ত্র রাখা হতো। আবার সেই অস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ওষুধ, অর্থ, কাপড়চোপড় সংগ্রহ করে সুফিয়া কামালের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতাম। এভাবে ৯ মাস পার হয়ে যায়।

যে আকাঙ্ক্ষার জায়গা থেকে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সে আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়েছিল ১৯৭২-এর সংবিধানে। সেই সংবিধান থেকে জাতি অনেক দূর সরে গেছে। যোজন যোজন দূরে এখন আমাদের অবস্থান। এই জাতির চরিত্র হয়েছে গণতান্ত্রিক। বাঙালি জাতীয়তাবাদের জায়গায় বদল এসেছে অনেক। সমাজতন্ত্র তো দূরের কথা। মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন নারীরা। ছবি: সংগৃহীত যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল, সেই রাজাকারদের আমরা রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলাম। যুদ্ধাপরাধীদের নিষিদ্ধ না করে বরং তাদের চলার পথকে এ জাতি সুগম করে দিয়েছিল। আর এই যুদ্ধাপরাধীরা নারীদের চলার পথে প্রতিনিয়ত বাধা সৃষ্টি করছে।

মুক্তিযুদ্ধে নারীরা যদি অংশ না নিত, তাহলে মুক্তিযুদ্ধ সফল হতো কি না সেটা ভাবার বিষয়। মুক্তিযোদ্ধাদের খবরাখবরসহ থাকার ব্যবস্থা নারীরা করেছেন। ৩০ লাখ নারী বিভিন্নভাবে নিপীড়ন ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে পুরুষেরা রাজাকার হয়েছেন। কিন্তু নারীদের সে উদাহরণ নেই। বর্তমানে নারীদের ঘরে রাখার বিভিন্ন রকমের চেষ্টা হয়। এখানেই নারীরা পিছিয়ে পড়ছে। নারীদের প্রাপ্য সম্মান দিতে না পারলে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হবে না।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    আন্তর্জাতিক অ্যাফিলিয়েশনে গ্রিন ইউনিভার্সিটি

    স্মরণ

    বাঁশের কেল্লায় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তিতুমীর

    ‘আদর্শ শিক্ষক’ সম্মাননা পেলেন দেশের ১১ শিক্ষক 

    ডিয়ার ডুয়ার্স

    এয়ারপোর্টে শুল্ক না দিয়ে বিদেশ থেকে আনা যাবে যে জিনিসগুলো

    জানেন কি

    মেক্সিকোর গুপ্ত সৈকত

    আন্তর্জাতিক অ্যাফিলিয়েশনে গ্রিন ইউনিভার্সিটি

    কঠিন চ্যালেঞ্জে খোমেনিদের কর্তৃত্ব, ঘনীভূত পরমাণু সংকট

    তিন জুটির কাছে আসার গল্প

    ওই দেখা যায় ঝিনুক স্টেশন

    স্মার্ট পোশাকের ঝলক

    আজ রাজশাহীতে ২৫ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী