Alexa
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর রাউজানে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৩৪

রোকসানা আকতার। ছবি: সংগৃহীত চট্টগ্রামের রাউজানে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বসতঘরের পেছনে টয়লেটসংলগ্ন নালা থেকে তিন সন্তানের জননীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত নারীর নাম রোকসানা আকতার (২৮)। তিনি রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানপাড়া আশরাফ খান মাতব্বরের বাড়ির মুহাম্মদ আজমের (৪০) স্ত্রী। 

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রাউজান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য উদয় দত্ত অর্ক বলেন, ‘বিকেল ৫টার দিকে খবর পেয়ে চুয়েট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আরিফুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখি বাড়ির সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে বসতঘরের পেছনে টয়লেট-সংলগ্ন নালার এক পাশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ সময় নালার ওপর থেকে স্লাব সরিয়ে দেখি নারীর গলিত মরদেহ। তবে মরদেহের চেহারা দেখা যাচ্ছে না।’ 

নিহতের চাকরিজীবী বোন তাহমিনা আকতার বলেন, ‘আমি শুক্রবার বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসি। এ সময় আমার বোন বলেছিলেন, তাঁঁর মামাশ্বশুর ইছহাক, ননদ ফেরদৌসী আক্তার, ননদের স্বামী সোহেল প্রায় সময় নির্যাতন করেন, তাঁরা সম্পত্তি বিক্রির টাকা আত্মসাৎ করতে চান। আমি বোনকে সান্ত্বনা দিয়ে পরদিন শহরে চাকরিতে ফিরে যাই। সোমবার বোনের মোবাইল ফোনে বারবার কল দিয়ে সংযোগ না পেয়ে ননদের স্বামী সোহেলের নম্বরে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমার বোন পালিয়েছে। তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরদিন মঙ্গলবারে আমরা বোনের বাড়িতে এলে মামাশ্বশুরসহ স্থানীয় চার ছেলে আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেন। আমার বোন কোনো পরপুরুষের সঙ্গে পালিয়েছেন বলে নানান কটু কথা বলেন। আমাদের আটকে রাখেন। পরে স্থানীয় মেম্বার আমাদের উদ্ধার করলে আমি চলে যাই। পরদিন আমার মামা সাদ্দাম হোসেন থানায় জিডি করেন। আজ পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি আমার বোনের মরদেহ পাওয়া গেছে। আমার বোনের স্বামী সহজ-সরল। তেমন কোনো কাজ করতে পারেন না। তাঁদের সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য আমার বোনকে তাঁর মামাশ্বশুর, ননদ ও ননদের স্বামী মিলে হত্যা করেছেন।’ 

নিহতের ননদ ফেরদৌস আকতার বলেন, ‘ভাবি নিখোঁজ হয়েছে বলে সংবাদ পেয়ে শ্বশুরবাড়ি কদলপুর থেকে এখানে আসি। বৃহস্পতিবার বিকেলে টয়লেটে গেলে পাশের নালা থেকে গন্ধ পেয়ে গিয়ে দেখি স্লাবের নিচে নালায় আমার ভাবির মরদেহ। পরে মামাসহ অন্যদের মাধ্যমে মেম্বারকে ফোন দিলে পুলিশসহ এখানে আসেন। আমার ভাই মোহাম্মদ আজম ও মা রিজিয়া বেগমকে পুলিশ নিয়ে গেছে।’ 

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে। 

জানা যায়, ২০১৫ সালে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তিন সৌদিয়া প্রজেক্ট এলাকার মোহাম্মদ মফিজের মেয়ে রোকসানা আক্তারের সঙ্গে আজমের বিয়ে হয়। তাঁদের তিন ছেলে রয়েছে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    এমডির অপসারণের দাবিতে পিআইএল শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ

    চবির সিন্ডিকেটের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন আগামী ৬ মার্চ

    কচুয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    সংবাদ প্রকাশের পর ইসির সেই জয়নালকে গ্রেপ্তার

    ট্রাকের সামনে হঠাৎ মোটরসাইকেল, বাঁয়ে ঘোরাতেই প্রাণ গেল গৃহবধূর 

    কুমিল্লায় ২ শিশু হত্যায় চাচির মৃত্যুদণ্ড, দাদির যাবজ্জীবন

    ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে উপনির্বাচনে ৭২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত

    ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে উপনির্বাচনে ৭২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত

    ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে উপনির্বাচনে ৭২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত

    এমডির অপসারণের দাবিতে পিআইএল শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ

    চবির সিন্ডিকেটের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন আগামী ৬ মার্চ