Alexa
শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 

লিভারের রোগ নিয়ন্ত্রণ করবেন যেভাবে

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২২, ১১:৪৩

হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে লিভারের রোগ বাড়ছে। ছবি: সংগৃহিত লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করতে না পারলে বুঝতে হবে লিভারে মারাত্মক কিছু হয়েছে। লিভারের মারাত্মক রোগের একটি হলো লিভার ফেইলিউর। এ রোগ তিন ধরনের—আকস্মিক ফেইলিউর, দীর্ঘমেয়াদি ফেইলিউর ও দীর্ঘমেয়াদি আকস্মিক ফেইলিউর। এগুলোর মধ্যে আকস্মিক ফেইলিউর অত্যন্ত মারাত্মক। বর্তমানে দেশে লিভারের রোগে মৃত্যুর হার দিনে দিনে বাড়ছে। 

কেন আক্রান্ত বাড়ছে
বর্তমানে আমাদের দেশে হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের কারণে লিভারের রোগ বাড়ছে। এ ছাড়া ফ্যাটি লিভারের কারণেও লিভারের রোগের হার বাড়ছে বলে মনে করা হয়। কিছুদিন আগেও হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের কারণে লিভারের রোগ বেশি ছিল। বর্তমানে ‘সি’ ভাইরাসে তুলনামূলকভাবে আক্রান্ত কম হচ্ছে। 

কাদের হয়
সাধারণত মধ্যবয়সী এবং বয়স্কদের লিভারের রোগ বেশি হয়। তীব্র হেপাটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’-এর কারণে প্রথমে লিভার সিরোসিস হয়। তার পরই লিভার ফেইলিউর হয়। আকস্মিক ফেইলিউর কম বয়সীদের বেশি হয়ে থাকে। এটি সাধারণত তীব্র ভাইরাল হেপাটাইটিস বা যাদের আকস্মিক ভাইরাল হেপাটাইটিস থাকে তাদের বেশি হয়। বিশেষত গর্ভবতীদের ‘ই’ ভাইরাস হলে লিভার ফেইলিউর হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। 

লিভার ফেইলিউরের কারণ

  • অ্যালকোহল পান।
  • দূষিত পানি ও খাবার খাওয়া।
  • শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া ও স্থূলতা।
  • ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভার। 

এগুলো থাকলে দীর্ঘমেয়াদি লিভার ফেইলিউর হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। 

প্রতিরোধে পূর্ব থেকে করণীয়
আকস্মিক লিভার ফেইলিউর মোকাবিলায় যা করতে হবে,

  • বিশুদ্ধ পানি ও খাবার খাওয়া।
  • হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ।
  • ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণ।
  • খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা।
  • উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার বাদ দেওয়া।
  • বুফে খাওয়া বাদ দেওয়া। 

ফাস্টফুড ও কোমল পানীয় দীর্ঘমেয়াদি লিভার সিরোসিস বা লিভার ফেইলিউর বাড়িয়ে দেয়। সকালে প্রয়োজনে একটু বেশি খাবার, দুপুরে তার চেয়ে কম এবং রাতে সামান্য খাবার খেলে লিভার চাপমুক্ত ও ভালো থাকে। 

চিকিৎসা, সংকট ও সমাধান
লিভার ফেইলিউর চিকিৎসায় লিভার প্রতিস্থাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি। কিন্তু এটি জটিল ও ব্যয়বহুল। লিভার প্রতিস্থাপনে সঠিক ডোনারের পাশাপাশি লিভার ম্যাচিংয়ের ব্যাপার রয়েছে। ভারতে ১৯৯৯ সাল থেকে লিভার প্রতিস্থাপন শুরু হয়। বর্তমানে তাদের শতাধিক প্রতিস্থাপন সেন্টার আছে। বাংলাদেশে লিভার প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সবে শুরু হয়েছে। ফলে লিভারের রোগের জন্য কোথাও আলাদা আইসিইউ নেই। মেডিকেল কলেজগুলোর লিভার বিভাগ আছে। সেখানে লিভারের আলাদা কেয়ার বা ইউনিট নেই। ফলে এসব রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। লিভারের সার্বিক চিকিৎসায় জনসাধারণের এ রোগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। 

লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশন,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং আঞ্চলিক পরামর্শক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)

চেম্বার: ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মিরপুর রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস হাসপাতালেই করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    নবজাতকের নাভিতে সেঁক দেবেন না

    শিশু চিকিৎসায় নির্ভরতার প্রতীক

    ছানি হলে করণীয়

    যেমন হবে আগামীর চিকিৎসা

    দেশে প্রথম মরণোত্তর দানের কিডনি প্রতিস্থাপন

    তরুণীকে কুপ্রস্তাব: সেই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে বদলি

    ক্ষমতার অপপ্রয়োগ যেন না হয়: ডিসিদের প্রতি রাষ্ট্রপতির নির্দেশ

    ঢাকায় কসক্যাপের সভা অনুষ্ঠিত, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আশা

    উপাচার্যের আশ্বাসে স্থগিত মৈত্রী হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের আন্দোলন 

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাত্রা শুরু করল ‘রুকাইয়াইসমাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড’

    নরসিংদীতে বিএনপি নেতা খায়রুল কবীরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ